ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম । ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা রাজধানীর খিলগাঁও থানার বনশ্রী এলাকায় আজ অভিযান চালিয়ে র্যাম্প মডেল থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’র কমান্ডার মেহেদী হাসান জিব্রিলকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত জিব্রিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আজ বিকেলে তাকে ঢাকা মহানগর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে শুনানী শেষে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ আজ কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, র্যাব-৩ এর একটি দল বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাড়ি থেকে মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করে। তাঁর কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট ও জেহাদী বইসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, তাঁর সাংগঠনিক নাম ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিব্রিল।
মেহেদী হাসানের মডেলিংয়ের দারুণ শখ ছিল। তিনি র্যাম্প মডেলও ছিলেন। পাশাপাশি ২৯ বছর বয়সী এ যুবকের তথ্যপ্রযুক্তিতে বেশ দক্ষতা রয়েছে। তার গৃহসজ্জার জিনিসপত্র বিক্রিসহ নানা ব্যবসা ছিল।
দেশের শীর্ষ মডেলদের সঙ্গে একসময় তিনি মডেলিং করতেন। মডেলিং ও ব্যবসা করার সময় তিনি জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।
মেহেদীর বাবা খোরশেদ আলম পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি অবসরে যান। মেহেদীর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাজাপুর গ্রামে। মেহেদী ঢাকার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাশ করেছেন। মডেলিংয়ে তিনি মেহেদী নামে পরিচিত ছিলেন।
৪ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে মেহেদী সাবার ছোট। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ার সময় তিনি মডেলিং শুরু করেন। তিনি ঢাকার এক মেয়েকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা।
বনানী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। একই আইনে উত্তরা পশ্চিম থানার আরেকটি মামলায় তার নাম এসেছে।
লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, ২০১৫ সালে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সঙ্গে মেহেদী হাসান সম্পৃক্ত হন। তাঁর সঙ্গে নিবরাসসহ হোলি আর্টিজান ও কল্যাণপুরের আস্তানার জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন। র্যাব কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গি কর্মকান্ডের জন্য কর্মী, অর্থ সংগ্রহ, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করা, হিজরতপূর্ব প্রস্তুতিমূলক পর্ব সম্পন্ন করার কাজ করতেন মেহেদী হাসান।
তাছাড়া সাংগঠনিক বিয়ের ব্যবস্থা দেখভাল করতেন তিনি। তাঁর মাধ্যমে হিজরত করা দুই বড় জঙ্গি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়। এ ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্থ ও অস্ত্র সংগ্রহের কাজও তিনি করতেন। নারী সদস্যরাও তাঁর মাধ্যমে জঙ্গি কর্মকান্ড চালিয়েছে বলে জানা গেছে।


























