spot_img

মুম্বাইয়ে ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪, উদ্ধার ২৪

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

ভারতের মুম্বাইয়ে প্রায় শত বছরের পুরনো ছয়তলা একটি ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ হয়েছে।

এ যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া। গত কয়েকদিন ধরে নাগাড়ে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাণিজ্যনগরীর জনজীবন। মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। তারমধ্যেই বৃহস্পতিবার দক্ষিণ মুম্বইয়ের ভেন্ডি বাজারের একটি পাঁচতলা বহুতল ভেঙে প্রাণ হারালেন কমপক্ষে ২৪ জন। জখম হয়েছেন আরও ৩৪ জন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও অনেকের আটকে থাকার শঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মহারাষ্ট্রের ফড়নবিশ সরকার। এ বছর বর্ষা শুরুর আগেই ৭৯১টি বাড়িকে বিপজ্জনক ঘোষণা করেছিল বৃহন্মুম্বই পুরসভা। বলা হয়েছিল যেকোনও মুহূর্তে বাড়িগুলি ভেঙে পড়তে পারে। তারপর এদিন সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ মুসলিম অধ্যুষিত পাকমোদিয়া স্ট্রিটের হুসেইনি বিল্ডিংটি আচমকাই ভেঙে পড়ে। তবে, শতাধিক বছরের পুরানো আবাসনটি বৃষ্টির জন্য ভেঙে পড়ল কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু জানা যায়নি।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় দমকল বাহিনী। উদ্ধারকাজে নেমেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। হাত লাগিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুরানো ওই বাড়িতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ন’টি পরিবারের প্রায় ৪০ জন বসবাস করতেন। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে থেকে আটকে পড়া অনেক জনকে বাসিন্দারা উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি জে জে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সেই তালিকায় ১৩ জন পুরুষ ও তিনজন মহিলা রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (জোন ১) মনোজ শর্মা জানিয়েছেন, ‘এখনও পর্যন্ত ২৮ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঠিক কতজন আটকে থাকতে পারে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’ তবে, সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য চাপা পড়া ব্যক্তিদের আগে বের করা করা বলে জানিয়েছেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী সুভাষ দেশাই। তাঁর কথায়, ‘উদ্ধারকাজ শেষ হলে দুর্ঘটনার কারণ জানতে শুরু হবে তদন্ত। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘মহারাষ্ট্র হাউজিং অ্যান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (এমএইচএডিএ) আগেই বহুতলটিকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছিল। ১১৭ বছরের পুরানো আবাসনটি সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েছিল ‘সইফি বরহানি আপলিফ্টমেন্ট ট্রাস্ট’। তারা জানিয়েছে, মোট ১৩টি পরিবার বহুতলটিতে বসবাস করত। তার মধ্যে একটি বাণিজ্যিক। এদিকে, বহুতলটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে একটি ‘প্লে স্কুল’ ছিল। স্কুল শুরু হওয়ার ২০ মিনিট আগে বহুতলটি ভেঙে পড়ে। ফলে, প্রাণে বেঁচে যায় স্কুলের ৫০টি শিশু-পড়ুয়া। এক বাচ্চার বাবা একথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘হুসেইনি বিল্ডিংয়ের উলটোদিকেই আমার বাড়ি। সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে আমি নেমে এসেছিলাম। তখনই দেখি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বহুতলটি।’ দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘খুব বেঁচে গিয়েছে শিশুরা। বড় ট্রাজেডির হাত থেকে রেহাই পাওয়া গেল।’ এর আগে গত শনিবার মুম্বইয়ের চান্দিভালি এলাকায় বাড়ি ধসে মৃত্যু হয়েছিল ছ’জনের। তার আগে গত ২৫ জুলাই মুম্বইয়ের ঘাটকোপারে ধসে পড়েছিল চারতলা একটি বাড়ি। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৭ জন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ