spot_img

পবিত্র হজ পালিত ; লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাত

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান্‌নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার, সব সাম্রাজ্যও তোমার, তোমার কোনো শরিক নেই) ধ্বনিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মুখরিত হলো পবিত্র আরাফাত ময়দান।

বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির কণ্ঠে উচ্চারিত হলো মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আত্মসমপর্ণের এই পবিত্র বাণী।

গতকাল দুপুরে সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা প্রদান করেন সৌদি আরবের মুফতি। হজের খুতবা শুনে ইমামের পিছনে পরপর জোহর ও আসরের নামাজ জোহরের ওয়াক্তে আদায়ের পর সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন হাজিরা। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের সময় ব্যবধান তিনঘণ্টা। সূর্যাস্তের পর আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করে মুযদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা হন হাজিরা। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়।

খুতবায় মুফতি মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাবেশ এবারের হজে ২০ লাখের বেশি মুসলমান অংশ নিচ্ছেন। আল্লাহ রাবু্বল আলামিনের মেহমানরা গতকাল সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে কেউ গাড়িতে, কেউ পায়ে হেঁটে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের আরাফাত ময়দানে আনার জন্য বিপুলসংখ্যক গাড়ির ব্যবস্থা করেন। ইহরাম পরা মুসলিমদের এই স্রোত যতই আরাফাতের নিকটবর্তী হতে থাকে, ততই তারা ভাবাবেগে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন। তাদের মানস চোখে ভেসে ওঠে সেই আরাফাত ময়দানের ছবি, যেখানে ১৪০০ বছর আগে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় ভাষণ দিয়েছিলেন।

এই ময়দানে মহান আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় নবীর কাছে সর্বশেষ ওহি নাজিল করেছিলেন, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ইসলাম) পরিপূর্ণ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।’ (সূরা আল মায়িদা, আয়াত-৩) । বিদায় হজ থেকে ফেরার তিন মাসের মাথায় ইসলামের কাণ্ডারি রাহমাতুল্লিল আলামিন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন।

মক্কা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দান। সেখানে হাজীদের কেউ তাঁবু টানিয়ে, কেউ বা খোলা আকাশের নিচে মাথায় ছাতা ধরে দেশ-জাতি-বর্ণ-নির্বিশেষে এক কাতারে অবস্থান নেন।

হজের অন্যতম অংশ হিসেবে এদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ ময়দানে অবস্থান করতে হয়। মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেয়া হয়। হজের দিন জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়ে উঠে হাজীরা ইবাদত করেন।

এ পাহাড়ে একটি উঁচু পিলার আছে। জনশ্রুতি আছে, হজরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া দীর্ঘদিন কান্নাকাটির পর এখানেই এসে মিলিত হয়েছিলেন। আর হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের দিন এই পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন।

ইসলামী রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হল হজ।

আরাফাতের ময়দান থেকে মুসল্লিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন তারা।

মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন তারা। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। তারপর ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়, যেখানে তাঁবুতে তারা রয়েছেন গত দুই দিন ধরে।

শুক্রবার সকালে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এই নারী-পুরুষরা হবেন হাজি।

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ