মোঃ রাছেল খান , মালয়েশিয়া ,
জনতারআদালত.কম , ১৯ জুলাই, ২০১৭ ।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশীদের এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিহেয়ারিং প্রক্রিয়ায় বৈধ হতে আবারো আহ্বান জানালেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। দেশটির ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দাতু শ্রী মুস্তাফার আলি‘র সঙ্গে বৈঠকের পর, মঙ্গলবার মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় বৈধকরনের এই সময়সীমার মধ্যে অবৈধ অভিবাসি গ্রেপ্তার অভিযান কিছুটা শিথিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাগজপত্রবিহীন অবৈধ অভিসিদের বৈধকরনের জন্য সাময়িক বৈধকরনের ই-কার্ড এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৩০শে জুন থেকে এ পর্যন্ত সাড়াশি অভিযানে প্রায় দেড় হাজারেরও অধিক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। এই পটভূমিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়। বৈঠকে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালিন সময়ে গ্রেফতার না করার সিদ্ধান্ত হয়।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান হাইকমিশনার।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ডিফেন্স উইং প্রধান এয়ার কমডোর হুমায়ূন কবির, মিনিষ্টার পলিটিক্যাল রউছ হাসান সারোয়ার, পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার ফার্ষ্ট সেক্রেটারি মো: মশিউর রহমান তালুকদার, ২য় সচিব তাহমিনা ইয়াছমিন, শ্রম শাখার ২য় সচিব মো: ফরিদ আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। আপাতত ৫ মাস সময় পাওয়া গেছে। এই সময়ের মধ্যে তাদের সঙ্গে আরো বৈঠক হবে। সোমবার কুয়ালালামপুরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি হাই কমিশনার ওয়াহিদা আহমেদ ও শ্রম শাখার প্রথম সচিব মো: হেদায়েতুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী বলেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সকল অবৈধ বাংলাদেশি রিহেয়ারিং প্রক্রিয়ার আওতায় বৈধ হবার সুযোগ পাবেন। ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক এই সুযোগ গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
হাই কমিশনার মুহ: শহীদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ব্যক্তিদের ধরপাকড় যে কোন দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া যাতে সব বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করতে পারে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মালিকপক্ষের চিঠির ভিত্তিতে তাদের নিরাপদে ইমিগ্রেশন অফিসে যাতায়াতের সুযোগ করে দিবে। এ ছাড়াও তারা অন্যান্য কার্যকর পন্থা নির্ধারনের প্রচেষ্টা করছে। এটি বাংলাদেশের পক্ষে একটি ইতিবাচক সিদ্বান্ত।
হাইকমিশনার বলেন, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ই- কার্ড প্রক্রিয়ায় এক লাখ অবৈধ বাংলাদেশি নিবন্ধিত হয়েছেন এবং ২ লাখ ৯৩ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি মাই-ইজির মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছে যা সর্বমোট আবেদনের যথাক্রমে ৫৭% এবং ৮৯% বাংলাদেশিদের এই অভূত পূর্ব সাড়ার উচ্ছসিত প্রশংসা করেন এবং উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বাংলাদেশ হতে ট্যুরিষ্ট, প্রফেশনাল বা ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে মারয়েশিয়ায় কাজ করার কোন সুযোগ নেই উল্লেখ করে দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক অনুরোধ করেন যাতে সঠিক ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়ায় আসেন যা এয়ারপোর্টে হয়রানির সম্ভাবনাকে হ্রাস করবে।
সাম্প্রতিককালের হিসেব অনুযায়ি সে দেশের বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে ৩-৬ মাস মেয়াদে ১৫ জন, ৬-১২ মাস মেয়াদে ৪ জন এবং ১ বছর মেয়াদে ৭ জন সম্ভাব্য বাংলাদেশি আটক রয়েছে।


























