বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, প্রকাশক, জনতারআদালত.কম । ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ ।

প্রিয় পাঠক, ইতিপূর্বে ‘ ১৯৭৪ সালে ময়মনসিংহ জেলা জনপদে হত্যা, লুটতরাজ ও ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িতরা আজ আইনের কাঠগড়ায় ‘ শিরোনামে ২টি পর্ব লিখেছিলাম । তাহাতে আপনাদের, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধের পূর্বাপর অনেক ঘটনা সম্পর্কে সামান্য কিছু জানাতে পেরে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি।
প্রতিদিনই আমাকে অনেকে অনেক প্রসংশায় প্রসংশিত করছেন। তার জন্য আমি ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ । কিন্তু জনগনের প্রতিপক্ষ , স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি রাজাকার-আলবদর, আল-সামস ও মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী তথাকথিত শ্রেণী শত্রু খতমের নামে কমিউনিষ্ট এর বিপ্লবী, প্রতি বিপ্লবী ভাইয়েরা বেজায় নাখোস হয়েছেন । ময়মনসিংহ জনপদে আপনারা কত মুক্তিকামী মানুষকে অমানবিক ভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন, তাহার চাঞ্চল্যকর , লোমহর্ষক ঘটনা অচিরেই দেশ বাসীর কাছে প্রকাশ পেয়ে যাবে।
তখন হয়তো বাংলার স্বাধীনতার সংগঠন আওয়ামীলীগের হাই ব্রীডের তালিকায় নিজেদের নাম লেখাতে চেষ্টা তদবীর করবেন ।কিন্তু এবার আর পারবেন না, তার এক মাত্র কারণ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পোড় খাওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন, বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের। আশা করছি তিনি কখনই এই সব আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী হত্যাকারী ও তাদের দোসর আত্মীয়-স্বজনদের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পতাকার নিচে আশ্রয় দিবেন না।

স্বাধীনতার পরে এই ইয়াজিদের বংশধর সারা দেশে হাজার হাজার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। এখনো পরিকল্পিত ভাবে ভিন্ন ভিন্ন নামে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা স্বাধীনতার সংগঠন আওয়ামীলীগের সরকারকে ধ্বংস করার জন্য নানামুখী চক্রান্ত করে যাচ্ছে। কিন্তু ইনশাআল্লাহ তারা সব সময় আমাদের কাছে হেরেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এসব চক্রান্তকারীরা চীরদিনই হেরে যাবে। তাই আমি বরাবরই বলি, এরা মরার আগে মরে, তাই সব সময় হারে।
আমার আরো বিশ্বাস, আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মে আছে , “পাপ বাপকেও ছাড়ে না “ । আর চক্রান্তকারীরা কোন দিনই সফল হয় না ,যদিও বা কখনো কখনো হয় তবে তাহা অল্প সময়ের জন্য। আমি পরিস্কার ভাবে বলতে চাই , হলুদ সাংবাদিক ভাইয়েরা, টাকা-পয়সা পেয়ে ,মিথ্যা কথা বলে ইতিহাসকে নষ্ট করবেন না, সামাজের মানুষের ক্ষতি করবেন না, কারণ ইতিহাস অত্যন্ত নিষ্ঠুর, কাউকে ক্ষমা করতে জানে না। ইতিহাসের অমুক নিয়মেই ‘ সত্য’ দিনের আলোর মতো পরিস্কার হবেই ,আর মিথ্যার কপালে অমাবস্যার অন্ধকার নেমে আসবেই ।
১৯৭৪ ও ৭৫ সালে ময়মনসিংহ জনপদে সিরাজ সিকদার ও গনবাহিনী কর্তৃক যে সব গণ হত্যা ও ধ্বংসাত্বক ঘটনা ঘটেছে ,তাহা অবশ্যই জনসাধারণের সামনে প্রকাশ হবেই । এই সব শয়তান ইয়াজিদের বংশধর স্বাধীনতা পরাজিত শক্তি তাদের দোসররা যত রকম চক্রান্ত ও হুমকি ধামকি দিক না কেন ,সত্যকে কখনো সত্যের পথ থেকে সরাতে পারবে না।
সিরাজ শিকদার
জনগণ এও জানে গফরগাঁও থানা ও ধানীখোলা পুলিশ ফাঁড়ি লুটের অস্ত্রগুলি এখনো তাদের কাছে আছে। তারপরও জনগণ মোটেও ভীত না। কারণ, জনগণ জানে সময়টা ১৯৭৪ সাল না, এটা ২০১৭ সাল। এসময় অন্যায় করে পার পাওয়া যায় না।
আজকের লেখার শিরোনামেই বলেছি কুখ্যাত সিরাজ সিকদার আমার মাথার বিনিময়ে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল । কত নিষ্ঠুর মর্মান্তিক পরিকল্পনা করে ছিলো সিরাজ সিকদার নিজেই। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কারী নেতারা জানতো না তাদের ভিতরেই দেশ প্রেমিক লোক ছিল। তারা সব সময় আমার কাছে খবর পাঠাতো। আমাকে মারার জন্য ৭ বার তারা প্রস্তুতি নিয়ে ছিলো । কিন্তু আল্লাহর রহমতে প্রতি বারেই গোপন খবরের মাধ্যমে আমি বেঁচে যাই। কিন্তু জানি না আর কতোদিন স্বাধীনতার শত্রুদের হাত থেকে বাচতে পারবো।
তবে যারা ৭৪ ও ৭৫ সালে সিরাজ শিকদার নামে সর্বহারা পার্টি করে শত শত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী হত্যা করেছে , তাহাদের মুখোশ খুলে বিচারের কাঠ গড়ায় দাড় করাবই ইনশাআল্লাহ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে একাট্টা ময়মনসিংহবাসী
ময়মনসিংহ জনপদে সিরাজ শিকদার পার্টির ধ্বংসাত্মক তৎপরতার কারণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার অনেক থানাতেই সরকার রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করে ১৯৭৫ সালের প্রথম দিকে। ত্রিশাল থানার আহাম্মদাবাদ এলাকায় রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প ছিলো সবচেয়ে বড় । কারণ, এখানেই ছিলো সিরাজ শিকদার পার্টির ঘাঁটি ।
আমি বরাবরের মতো একদিন গ্রামের বাজার থেকে পূর্বদিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন একটি বাচ্চা এসে আমাকে এক খলিফার বরাত দিয়ে ঐপথে না যেতে বললো । ঐ দোকানের খলিফা নিজেও সর্বহারা পাটি করতো ।কিন্তু সে আমাকে খুবই সম্মান করতো ,ভালও বাসতো। সে তার বাচ্চা সহকারী দিয়া কৌশলে আমার কাছে খবর পাঠালো । আমি খবর শুনে বুঝতে পারলাম এবং তার খবরের জন্য আজও প্রাণে বেঁচে আছি। পরবর্তী সময়ে সে আমার কাছে বলেছে সিরাজ সিকদার আমাকে মারার জন্য ১ লাখ টাকা পুরস্কার দিবে, তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে মেরে ফেলার। এরূপ অনেক ঘটনা আছে।
আমি ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা । আমার কমান্ডার ছিলেন বি.ডি আরের নায়েক সুবেদার আইয়্যুব আলী এবং পরবর্তীতে সুবেদার মেজর হাকিম সাহেব ।আত্মরক্ষার ট্রেনিংও আমরা নিয়েছিলাম। যার কারণে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছি ।
বৃহত্তর ময়মনসিংহে দিনের বেলায় বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরকারের প্রশাসন ও রাতের বেলায় চলতো সিরাজ সিকদারের অত্যাচার নির্যাতনের ইতিহাস ও নানা রকম লুটতরাজ । কিন্তু আমরা কয়েক জন বন্ধু যারা সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, রক্ষী বাহিনী ও পুলিশকে বিভিন্ন ভাবে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগীতা করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলাকে সিরাজ সিকদারের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করি।
এই সিরাজ সিকদারের পাটির হাজার হাজার কর্মী শহরে ও থানায় থানায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে কোথাও দিনে, কোথাও রাত্রে মিছিল করতো। একটা প্রমাণ দেখাই, ১৯৭৪ সালের ৩০শে জুলাই ময়মনসিংহ-৪ ( সদর ) এর জনপ্রিয় এমপি শ্রমিক নেতা এডভোকেট ইমান আলীকে গুলি করে হত্যা করলো সিরাজ সিকদার পার্টি । কিন্তু আজ পর্যন্ত তার পরিবার হত্যার বিচার পায় নাই।

প্রিয় ইমান ভাই এর স্ত্রী, পুত্র যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়েছিলেন রক্ত মাখা শার্ট নিয়ে, তখন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয় । রক্ত মাখা শার্ট দেখে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, হত্যাকারীদের ধরে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তিনি হত্যার বিচার করতে সময় পান নাই। চক্রান্তকারী- বিভীষনের দল উনাকে সময় দেয় নাই। কিন্তু আমরা তো বেঁচে আছি।

আসুন, আমরা সবাই মিলে আইনের মাধ্যমে ইমান ভাই এর হত্যাকারীদের বিচারের ভার আইনের হাতে তুলে দেই। ইমান ভাইয়ের সন্তানের সামনেই মাননীয় বিচারককে জানিয়ে সিরাজ সিকদার পার্টির সদস্যেদেরকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছি। আজোও চক্রান্তকারীরা নানা রকম চক্রান্ত করিতেছে। এই মামলা নিয়ে কোন রূপ টাল বাহনা চলিবে না।
আমি তো সাহস করে আমার বিবেকের তাগিদে মামলা করেছি। এখানে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা , আত্মীয়- অনাত্মীয় ব্যাপার নয়। ব্যাপার হলো ,বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এমপি ইমান আলীসহ তৎকালীন সময়ে সিরাজ শিকদার পার্টি ও অন্যান্য চরম্পন্থীদের দ্বারা আওয়ামীলীগের ৩৬ হাজার নেতা-কর্মী হত্যার চূড়ান্ত বিচার করা জাতির ইতিহাস রক্ষায় একান্ত দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য ।
এমপি ইমান আলী সহ অন্যান্য আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই দাবীর পক্ষে জনমত গঠন করে আন্দোলন ও আদালত এক সাথে চালিয়ে যাওয়ার অংগীকার করতে হবে ।


























