ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম , ২৪ জুলাই, ২০১৭ ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত খবরের কারণেই আমেরিকার হাতছাড়া হয়েছেন আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি। এমনই অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এমন দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ হাজির করেননি ট্রাম্প। এক ট্যুইটে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধী আল-বাগদাদিকে হত্যার পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে ব্যর্থতায় ডুবে থাকা নিউ ইয়র্ক টাইমসের কারণে।’
শুক্রবারই আমেরিকার স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ডের প্রধান জেনারেল রেমন্ড থমাস আইএস নেতা বাগদাদিকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করতে আমেরিকার ব্যর্থতার জন্য ‘সংবাদমাধ্যমের ফাঁস করা খবর’-কে দায়ী করেছেন। তবে এই জেনারেল কোনও নির্দিষ্ট পত্রিকার নাম উল্লেখ করেননি।
গতমাসে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওলেগ সিলোমলোটভ বলেছিলেন, মে মাসের শেষদিকে সিরিয়ার রাকা শহরের কাছে রাশিয়ার বিমান হামলায় ‘খুব সম্ভবত’ বাগদাদি নিহত হয়েছেন। তাছাড়া, লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস সিরিয়ায় তাদের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বাগদাদির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, আইএস বাগদাদির মৃত্যুর খবর প্রচার করেছে। তবে মার্কিন কর্তারা জানিয়েছিলেন, বাগদাদি নিহত হওয়ার কোনও প্রমাণ তাদের কাছে নেই। যতদিন কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যাবে না ততদিন বাগদাদিকে জীবিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে সিরিয়ার আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তবে সেটা রাশিয়াকে খুশি করার জন্য নয়। শুক্রবার এমনই মন্তব্য করেছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান বিষয়ক প্রধান জেনারেল টনি থমাস। জেনারেল টনি থমাস স্বীকার করেছেন যে, এর ফলে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের মার্কিন অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তবে আসাদের মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে-এটা ঠিক নয়। এটা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত। তবে তা রাশিয়াকে খুশি করার জন্য নয়। আমি মনে করি, কর্মসূচি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের খবরেও বলা হয়েছিল, সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকারবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দিতে সিআইএ’র চালানো গোপন কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
আসাদ সরকারকে উৎখাতে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের বিভিন্ন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০১৩ সালে সিআইএ’র গোপন কর্মসূচি শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট দুই মার্কিন কর্তা দাবি করেছেন, ওই কর্মসূচি থেকে খুব সামান্যই সাফল্য এসেছে। রাশিয়ার মিত্র আসাদ সরকারের পক্ষ থেকেও আমেরিকার কাছে সিআইএ’র কর্মসূচিটি বন্ধ করতে আবেদন করা হয়েছিল। ওই কর্তারা জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ৭ জুলাইয়ের বৈঠকের আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার এবং সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও এই সিদ্ধান্ত নেন।


























