ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ১৭ জুলাই, ২০১৭ ।

কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। আর সম্প্রতি ডোকা লা (বা ডোকালাম) নিয়ে অনড় মনোভাব গ্রহণ করেছে চীনও। এই অবস্থানগুলিকে আপ্তবাক্য হিসাবে ধরেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর। পরবর্তী পাঁচ বছরে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ২৭ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রকের কাছে তাদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, যা জাতীয় গড় উৎপাদনের ১.৫৬ শতাংশ।
স্বাধীনতার পর থেকেই কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি মারা যাওয়ায় কাশ্মীরে যে অশান্তি শুরু হয়েছিল, তাকে কাশ্মীরের স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে বর্ণনা করেছিলেন স্বয়ং পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। আর সিকিমের ডোকা লায় সীমান্ত সংক্রান্ত বিবাদের জেরে ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা এখনও বর্তমান। যার জেরে চলতি বছরে নাথু লা পাস দিয়ে কৈলাস যাত্রা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে ভারত।
সিকিমের এই বিতর্কিত অঞ্চল থেকে নয়াদিল্লি যেমন এখনও সেনা সরায়নি, বেজিংও পালটা জানিয়ে দিয়েছে, ভারত সেনা না সরানো পর্যন্ত আলোচনা তো দূরের কথা, ওই অঞ্চলের এক ইঞ্চি জমিও তারা ছাড়বে না। যদিও এত সহজে জমি ছাড়তে নারাজ ভারতীয় সেনাও। রবিবারের খবর, ওই এলাকায় রীতিমতো অস্থায়ী সেনা ছাউনি গড়ে তোলা হচ্ছে। যাতে চীনা সেনার মুখোমুখি হতে হলে সরবরাহে কোনও টান না পড়ে। দুই দেশের এহেন পরিস্থিতি উসকে দিয়েছে ১৯৬২ সালের স্মৃতি।
তাই সাজ সাজ রব প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অন্দরে। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অর্থ মন্ত্রকের কাছে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২৭ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ ভারতীয় বাহিনী চেয়েছে বলে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের খবর। ডিফেন্স রিসার্চ ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর ভারতীয় বাহিনী ২৬ লক্ষ ৮৩ হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বরাদ্দ দাবি করেছে ২০১৭ থেকে ২০২২—এই পাঁচ বছরে। জানানো হয়েছে, এর মধ্যে বড় খরচের জন্য ধরা হয়েছে ১২ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা এবং খুচরো খরচের জন্য ১৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। সেনাবাহিনী সূত্রের খবর, এই বাজেটে জাতীয় গড় উৎপাদনের ২ শতাংশ চাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ১.৫৬ শতাংশে আটকে রাখা হয়। তাই যতটা দ্রুত সম্ভব এই বরাদ্দে অনুমোদন দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত অরুণ জেটলি বাহিনীকে আশ্বাস দিয়েছেন, ‘বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।’
আর সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধের যে আশঙ্কা ভারতীয় সেনা করছে, তা যে অমূলক নয়, রবিবার চীনের সংবাদমাধ্যমেই তা প্রকাশ পেয়েছে। সরকারি সংবাদসংস্থা জিনহুয়া সরাসরি ভারতের প্রস্তাব নাকচ করে জানিয়েছে, ‘নয়াদিল্লি সেনা না সরানো পর্যন্ত কূটনৈতিক স্তরেও ডোকলাম নিয়ে আলোচনা করবে না বেজিং। কারণ, ভারতীয় সেনা এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছে। বারবার বলা সত্ত্বেও ভারত বধিরের মতো আচরণ করছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে ভারতের এটা বোঝা উচিত, ওরা অন্যায় করছে।’ একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, ‘২০১৩ এবং ২০১৪ সালে লাদাখের চুমার সেক্টরে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, ভারত যেন চলতি পরিস্থিতিকে সেরকম মনে না করে।’ এই দু’বারই ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে দিন কয়েক ঘাঁটি গেড়ে থাকার পর পিছু হটে লালফৌজ।
ফলে ডোকা লা নিয়ে অনড় মনোভাবে চীনও যে যুদ্ধের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে চাইছে ভারতীয় বাহিনী। – ফাইল চিত্র


























