spot_img

আজ ভারতে রাষ্ট্রপতি ভোট, এগিয়ে কোবিন্দ

ডেস্ক রিপোর্ট ,  জনতারআদালত.কম , ১৭ জুলাই, ২০১৭ ।

 

ভারতে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পর রাইসিনা হিলসে কে ? আজ, সোমবারই এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পালা। একদিকে এনডিএ মনোনীত প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ, অন্যদিকে বিরোধী প্রার্থী মীরা কুমার। লোকসভা, রাজ্যসভা এবং দেশের সব রাজ্যের বিধানসভাগুলিতে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ফল ২০ জুলাই, বৃহস্পতিবার। যার ঠিক পাঁচদিন পরই মেয়াদ শেষ হচ্ছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণববাবুর।

প্রাক্তন রাজ্যপাল কোবিন্দকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করে প্রথমেই একটা মাস্টার স্ট্রোক খেলে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কারণ, দলিত তাস। এই কৌশল যে বিজেপি নিতে চলেছে, তার আভাস মিললেও নামটি সম্পর্কে তামাম ভারত কিন্তু মোটেই অবগত ছিল না। বিরোধীরাও অপেক্ষায় ছিল শাসক জোটের প্রার্থী ঘোষণার। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ প্রথম থেকেই নেই যে, মোদি যাঁকেই রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করুন না কেন, জয়ের পাল্লা তাঁর দিকেই ঝুঁকে থাকবে। কাজেই রামনাথ কোবিন্দ প্রথম থেকেই ফেভারিট।

বিরোধী পক্ষ যদি আগেভাগে মীরা কুমারের নাম ঘোষণা করত, তাহলে কী হত বলা মুশকিল। নীতীশ কুমারসহ কোনও কোনও রাজনৈতিক দল হয়তো এদিকে ঝুঁকে গেলেও যেতে পারতেন। তা সত্ত্বেও বিজেপির নিজস্ব যা ভোট এবং পয়েন্ট রয়েছে, তার পুরোটা কোবিন্দের পক্ষে গেলেই জয়ের পক্ষে যথেষ্ট।
যে ইলেক্টোরাল কলেজ নতুন রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করবে, সেই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন মোট ৪ হাজার ৮৯৬ জন ভোটার। এই জনপ্রতিনিধিদের ৪ হাজার ১২০ জন বিধায়ক এবং ৭৭৬ জন সংসদ সদস্য। দিল্লিতে সংসদের বাইরে নিজের নিজের রাজ্যে যে ৫৫ জন এমপি ভোট দেবেন, তাঁদের মধ্যে কিন্তু সিংহভাগই তৃণমূল কংগ্রেসের।

বিধান পরিষদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান না। পাশাপাশি লোকসভায় মনোনীত দুই অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সদস্য এবং রাজ্যসভার মনোনীত ১২ সদস্যও আগামীকাল ভোট দিতে পারবেন না। গোটা প্রক্রিয়াটাই সম্পন্ন হবে গোপন ব্যালটে। কোনও দল এ ব্যাপারে কোনও সদস্যের উপরই হুইপ জারি করতে পারে না। প্রত্যেক প্রার্থীর মনোনয়নে ৫০ জন প্রস্তাবক (প্রোপোজার) এবং ৫০ জন সমর্থক (সেকেন্ডার) প্রয়োজন। সোমবার কোনও ভোটকেন্দ্রেই এমপি বা বিধায়করা পেন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ মার্কার দিয়ে ব্যালট পূরণ করতে হবে। গত বছর হরিয়ানার রাজ্যসভা নির্বাচনে কালি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। এছাড়া এমপিদের সবুজ রঙের, আর বিধায়কদের গোলাপি ব্যালট পেপার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা ও রাজ্যসভার ভোটারদের মূল্যমান স্থির হয়। সংসদ সদস্যের ভোটমূল্য ৭০৮। বিধায়কদের ভোটমূল্য সেই রা‌জ্যের বিধানসভা আসন ও জনসংখ্যা অনুযায়ী স্থির হয়। এবার বিধায়ক ও সংসদ সদস্যের মিলিত ভোটমূল্য ১০ লক্ষ ৯৮ হাজার ৯০৩। যার মধ্যে এনডিএর দখলেই রয়েছে ৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৬৮৩ পয়েন্ট। ৫০ শতাংশের থেকে ১ ভোট অন্তত বেশি পেতে হবে জয়ী প্রার্থীকে। সেই অর্থে ১২ হাজার পয়েন্ট কম রয়েছে মোদির। যদিও বিজেডি, টিআরএস, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, জেডিইউ এবং এআইএডিএমকের একাংশ ইতিমধ্যেই বিহারের প্রাক্তন রাজ্যপাল রামনাথ কোবিন্দের পক্ষে ভোটদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন।

অর্থাৎ সবকিছু ঠিক থাকলে মোদি-প্রার্থী হেলায় জয়লাভ করবেন। অন্যদিকে, গোটা সমীকরণটা বুঝে প্রথম থেকেই বিবেক ভোটের ডাক দিয়ে রেখেছেন প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার। সোনিয়া গান্ধী তাঁকে প্রার্থী করেছেন বলে জগজীবন রামের কন্যা এই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজও করতে পারেননি। তাঁর পক্ষে কংগ্রেসের পাশাপাশি অবশ্য রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল, লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি, সিপিএম, মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি, আসাদুদ্দিন ওয়াইসির মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের সমর্থন। সমাজবাদী পার্টি প্রথমে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের আগের দিন সেই বিভাজনই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দলের মধ্যে। মোদির দেওয়া নৈশভোজে মুলায়ম সিং যাদবের আচমকা উপস্থিতি এবং অখিলেশের গরহাজিরা থেকেই সংশয়ের সূত্রপাত হয়েছিল। সোমবার যদি মুলায়ম শিবির রামনাথ কোবিন্দকে, আর অখিলেশ বাহিনী মীরা কুমারকে ভোট দেয়, তাহলে অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না। যদিও তাতে ফলের খুব একটা হেরফের হওয়ার কথা নয়।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ