ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ২৩ আগষ্ট, ২০১৭ ।

আঁটসাঁট জিনস পড়তে বারণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। গবেষকরা জানিয়েছেন, হাই হিল বা উঁচু জুতো, আঁটসাঁট জিনস ও ভারী ব্যাগ দেহের ক্ষতি করে। গবেষকদের মতে, আঁটসাঁট জিনস নিতম্ব ও হাঁটুর স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত করে, যার প্রভাব পুরো শরীরের ওপর পড়ে। সম্প্রতি এ স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ব্রিটিশ কায়রোপ্রাকটিক অ্যাসোসিয়েশনের গবেষকরা।
তাঁরা জানিয়েছেন, হাল আমলের ফ্যাশন সচেতন মানুষ স্বাস্থ্যের চেয়ে তাদের স্টাইলকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ওই গবেষকদের মতে, ৭০ শতাংশ নারীর ক্ষেত্রে ব্যাক পেইন বা পিঠে ব্যথার জন্য তাঁদের ওয়ার্ডরোব দায়ী। সেখানে থাকা পোশাক পিঠ ও ঘাড়ে ব্যথা তৈরি করে বলে ২৮ শতাংশ নারীর মত। কিন্তু ৩৩ শতাংশ নারী এ বিষয়ে সম্পর্কে একেবারেই জানেন না। এর মধ্যে ২০ শতাংশ নারী হাইহিল জুতো পরেন বলে তারা পা ও পিঠে ব্যথা অনুভব করেন। ১০ শতাংশ নারী ভারী গয়না পড়ে থাকেন, তাতে গলার ওপর চাপ বেশি পড়ে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, শরীরে চেপে বসা জিনস, একাধারে ঝোলানো ভারী ব্যাগ, ফোলানো হুডযুক্ত কোট, হাইহিল ও ব্যাকলেস জুতো বেশি সমস্যা তৈরি করে। অ্যাসোসিয়েশনের গবেষক টিম হাচফুল বলেন, কিছু জনপ্রিয় পোশাক পরিচ্ছদ আছে, যা আড়ালেই শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত ভারী হাতব্যাগ যেমন সমস্যার জন্য স্থায়ী, তেমনি অনাকাঙ্খিতভাবে টাইট জিনসও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
হাচফুল আরও বলেন, ভেবে আশ্চর্য লাগে, আমার কাছে আসা রোগীদের অনেকেই জানেন না যে তাঁদের পিঠে ব্যথা ও চালচলনে অসুবিধার জন্য পোশাক দায়ী হতে পারে। এমনকী জেনে শুনে ব্যথা সহ্য করেও অনেকেই এ ধরনের পোশাক পরেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে এর আগেও গবেষণা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেটার বাল্টিমোর মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছিলেন, প্রচলিত পোশাকি ধারার সঙ্গে তাল মেলাতে এই জিনস পরিধান করলেও এসবে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও রয়েছে যথেষ্ট।
এ ধরনের জিনস মারাত্মক স্নায়বিক কারণ হতে পারে। হালের এই পোশাক (জিনস) পরে আগে অনেকেই। ‘মেরালজিয়া প্যারেসথেটিকা’ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আঁটসাঁট কাপড় শরীরে অস্বস্তি তৈরি করে। এ ধরেনর কাপড় শরীরকে অবশও করে দেয়। তাছাড়া এ ধরনের পোশাক উরুতে ব্যথারও অন্যতম কারণ।
২০০৩ সালে ‘কানাডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল’ সাময়িকীতে টাইট জিনসের কুফল সম্পর্কে লিখেছিলেন চিকিৎসক মালভিন্দার এস পারমার। তাতে পারমার লেখেন, যে এক সময় টাইট জিনস পরার ফলে অস্বস্তিতে ভোগা অসংখ্য মহিলা তার কাছে এসেছিলেন। তাঁরা সবাই ছিলেন স্থূল প্রকৃতির। ঊরুতে অস্বস্তি ও জ্বালা অনুভব করছিলেন তারা। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী ঢিলেঢালা পোশাক পরার তাদের অনেকেই পরবর্তী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আঁটসাঁট প্যান্ট-এর আগেও আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের পোশাক পুরুষের শুক্রাণু হ্রাস করতে পারে। চামড়ায় টাইট বয়ে বসা এসব পোশাক ক্ষতও তৈরি করতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা এ ধরনের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন।


























