spot_img

রাজধানীতে মশক নিধন অভিযান জোরদার

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ১১ জুলাই, ২০১৭ ।

 

 

 

 

রাজধানীতে মশক নিধন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি এডিস মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া জ্বরের ব্যাপক বিস্তারের কারণে চলমান মশক নিধন কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে দু’টি সিটি কর্পোরেশন।

এই লক্ষে পুরো মহানগরীকে অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে স্পেশাল লার্ভি সাইডিং এবং ফগিং কার্যক্রম গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য স্প্রেম্যানদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক সিটি কর্পোরেশনের মশক সুপারভাইজার এবং স্থানীয় কাউন্সিলগণ এই কাজ মনিটরিং করছেন।

মশক নিধনের পাশাপাশি দু’টি সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, র‌্যালি, আলোচনা সভা, মাইকিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া নগরীর মসজিদগুলোতে জুমার নামাজে এ বিষয়ে স্পেশাল বয়ানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজধানীর মশক নিধন ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ কার্যক্রমের উল্লেখ করে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাহউদ্দিন আজ বাসসকে বলেন, ‘মশক নিধন ও চিকুনগুনিয়া মোকাবেলায় স্পেশাল লার্ভি সাইডিং এবং ফগিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রম পুরো বর্ষা মৌসুমে চালানো হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপণসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। সচেতনতামূলক কার্যক্রমে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বোচ্ছাসেবী সংগঠনকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে তাদের সাথে মিটিং করা হচ্ছে।’

মশক নিধনে ডিএসসিসি স্পেশাল লার্ভি সাইডিং এবং ফগিং কার্যক্রমের পাশাপাশি শনিবার থেকে সংস্থার ৫টি অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরদের সাথে চিকনগুনিয়া বিষয়ে সচেতনমূলক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সচেতনামূলক মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ বাড়ি ঘর ও আঙিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং তিনদিনের বেশী সময় পাত্রে জমে থাকা পানি ফেলে দেয়াসহ এ রোগে আক্রান্ত হলে আতংকিত না হয়ে রোগীকে প্রচুর তরল খাওয়ানো, জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া এবং ঘুমুতে যাওয়ার সময় মশারী ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫টি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই লার্ভি সাইডিং এবং ফগিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া চলতি সপ্তাহ থেকে নগর ভবনে ডিএসসিসি সচিব মো. শাহাবুদ্দিনকে সমন্বয়ক করে একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। তথ্য কেন্দ্রের ফোন নম্বর- ৯৫৬৩৫০৭।

এদিকে ডিএনসিসি বিভিন্ন এলাকায় চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সপ্তাহের শুরুতে শনিবার থেকে র‌্যালি, লিফলেট বিতরণ, মশক নিধন এবং মাইকিং কর্মসূচির চলমান রয়েছে বলে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এসএমএম সালেহ আহমেদ ভূঁইয়া বাসসকে জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা মশক নিধনে তিন ধাপে ক্রাশ প্রোগ্রাম করেছি। মশক নিধনে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছি। ফগার মেশিনের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।’
মশক নিধনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিএনসিসির বাজেট ধরা হয়েছিল ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ডিএসসিসির মশক নিধনে বাজেট ধরা হয়েছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যার পুরোটাই ব্যয় হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, ডিএসসিসির মশক নিধন বিভাগে স্প্রেম্যান রয়েছে ১৮৩ জন, ক্রু ১৫১ জন এবং সুপারভাইজার ১০ জন। মশা নিধনের জন্য ৩৮৭টি ফগার মেশিন, ৪৩৮টি হস্তচালিত মেশিন, ৩৬টি হুইল ব্যারো মেশিন, ২টি ইউএলভি মেশিন, ৫টি পাওয়ার স্পেয়ার এবং একটি ন্যাপসেক পাওয়ার রয়েছে।

অপরদিকে ডিএনসিসির মশক নিধন কর্মী রয়েছেন ৩০৯ জন। এর মধ্যে ১২০ জন স্প্রেম্যান এবং ১৮৯ জন ক্রুম্যান। সুপারভাইজার রয়েছেন ৮ জন। এছাড়া ২১৭টি ফগার মেশিন, ২৮৭টি হস্তচালিত মেশিন এবং একটি হুইল ব্যারো মেশিন রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

//bss

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ