ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১৯ আগষ্ট, ২০১৭ ।

দিনে ৩২, সপ্তাহে ৮০!
ফিলিপিন্সে মাদক-পাচার বিরোধী অভিযানে পুলিশের গুলিতে নিহতের সংখ্যা সম্প্রতি এ ভাবেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত মঙ্গলবার বুলকান প্রদেশে পুলিশি অভিযানে ৩২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবারফের পুলিশের গুলিতে সতেরো বছরের এক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু হল। কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে ম্যানিলা।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে আসছে অন্য তথ্য। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভুয়ো সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ওই কিশোরের। কিয়ানের হাতে বন্দুক তুলে দিয়ে প্রথমে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নিরুপায় কিশোরকে তার পর সেখান থেকে পালাতে বলেন পুলিশকর্মীরা। ছুটে পালাতে গেলেই কিয়ানকে গুলি করে মারে পুলিশ। পরে তার দেহ অন্য জায়গায় টেনে নিয়ে গিয়ে ফেলে রাখা হয়।
শুক্রবার দেশ জুড়ে ক্ষোভের আঁচ টের পেয়ে ম্যানিলা পুলিশের মুখ্য আধিকারিক অস্কার আলবায়ালদে জানিয়েছেন, ‘‘যে তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের আপাতত ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত
করা হবে।’’
ক্ষমতায় আসার পর গত বছর জুনে প্রেসিডেন্ট দুতের্তে ঘোষণা করেছিলেন, ফিলিপিন্সকে মাদক-পাচার মুক্ত করবেন তিনি। তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত দেশ জুড়েঅন্তত ৬০টি পুলিশ অভিযানে পাচারকারী সন্দেহে হাজারেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, মাদক বিরোধী অভিযানের নামে সম্প্রতি দাভাওয়ের মেয়র-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ উঠেছে দুতের্তের বিরুদ্ধে।
ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধদমন আদালতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে বিরোধী দলগুলি। তবে সিদ্ধান্তে অনড় দুতের্তে। আগেই জানিয়েছিলেন, ‘‘প্রয়োজনে রোজ ৩২ জন দুষ্কৃতীকে খতম করতে হবে। আরও নির্মম হবে প্রশাসন।’’ বৃহস্পতিবারের পর তাঁর সাফ কথা, ‘‘মাদক পাচার রুখতে পুলিশ যে ভাবে লড়ছে তাতে তাদের আরও প্রশংসা প্রাপ্য।’’


























