রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর,
জনতারআদালত.কম । ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলা থেকে মিনা বেগম (২৯) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার সকালে উপজেলার দুরমুঠের কলাবাঁধা গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।ঈদের ছুটিতে মিনা বেগম বাড়িতে গিয়েছিলেন। নিহতের স্বামী মৃনাল হক (৩৩) এতদিন বলে আসছিলেন, মিনা বেগম নিখোঁজ রয়েছেন। লাশ উদ্ধারের পর নাটক জানাজানি হলে স্থানীয়রা ধরে তাকে গণপিটুনি দেয়।
এদিকে, খবর পেয়ে পুলিশ মৃনালকে উদ্ধারে গেলে জনতা তাদের ওপর হামলা ও পিকআপ ভাংচুর করে। এ সময় ওসিসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন।এছাড়া খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেকুজ্জামান জুবেরী ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।
পরে পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর থানা পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং মৃণালকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কলাবাঁধা গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে মো. মৃনাল তার স্ত্রী মিনা বেগমকে (দুই সন্তানের জননী) তিন দিন আগে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেন। ঘটনার দিন তাদের দুই সন্তান নানা ময়নাল হোসেনের বাড়িতে ছিল।
এরপর মৃনাল রোববার সকালে তার শ্বশুরবাড়ি চারিয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে নাটক সাজায়।
কথাবার্তায় শ্বশুরবাড়ি ও গ্রামের লোকজনের সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে মৃনাল স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করেন।
এ সময় উত্তেজিত জনতা মৃনালকে গণপিটুনি দিতে থাকে। খবর পেয়ে মেলান্দহ থানার ওসি মাজহারুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের পাঁচ সদস্য সেখানে গেলে তারাও জনতার রোষানলে পড়েন।
পরে অবশ্য পুলিশ আহত মৃনালকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। মিনা বেগম নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।
মেলান্দহ থানার ওসি জানান, কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।


























