spot_img

সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদে রবিবার ঢাকায় আসছে এসটিএফ টিম

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ১৫ জুলাই, ২০১৭ ।

 

পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে উসকানির ঘটনায় জড়িত জেএমবি জঙ্গিদের খোঁজে বাংলাদেশে আসছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তিন জেএমবি জঙ্গিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে বলেও খবর। তারাই গোটা ঘটনার কলকাঠি নেড়েছে। ঘটনার আগে ও পরে বাংলাদেশে বসে তারা পশ্চিমবঙ্গে  থাকা জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মেলার পরই এসটিএফের অফিসাররা শেখ হাসিনার প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেন। তবে গোটা প্রক্রিয়াটি করা হচ্ছে অত্যন্ত গোপনে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যা তথ্যপ্রমাণ ও ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে, তা নিয়েই আসছেন এসটিএফ ।

পশ্চিমবঙ্গের বাদুড়িয়া ও বসিরহাটে গোলমালের পিছনে যে বহিরাগতরা রয়েছে, তা প্রথমেই আন্দাজ করেন কলকাতা পুলিশের কর্তারা।  কারা এর পিছনে রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে নবান্ন থেকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয় এসটিএফকে। খোঁজ চালাতে গিয়ে আধিকারিকরা প্রথমেই দেখেন, সীমান্তের ওপার থেকে কী পরিমাণ ফোন কল আসা-যাওয়া করেছে এবং কী কথাবার্তা হয়েছে। সেই তথ্য জোগাড় করতে গিয়ে তাঁদের নজরে আসে, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু নম্বর থেকে ঘন ঘন ফোন এসেছে কলকাতায়।

ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে এই কলের সংখ্যা হঠাৎই বেড়ে গিয়েছিল। সেই ফোন কল বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সমস্ত ফোনই করা হয়েছে বসিরহাট ও বাদুড়িয়ায়। কিন্তু কে এই ফোনগুলি করছে বাংলাদেশ থেকে, তা জানার চেষ্টা করেন আধিকারিকরা। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বসিরহাটে জেএমবি’র শাখা যথেষ্ট সক্রিয়। বাংলাদেশে গরু ও সোনা পাচারকারীদের মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে থাকা জেএমবি’র শীর্ষ নেতারা পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন রসদ পাঠাচ্ছে। কয়েকজন চোরাচালানকারীকে জেরা করে জানা গিয়েছে, জেএমবি’র কোন কোন নেতা এখানে যাতায়াত করছে এবং ঘটনার সময় কারা কারা হাজির ছিল।

তার ভিত্তিতেই তিনজনের নাম জানা যায়। তারা ঘটনার তিন-চারদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে আসে। জেএমবি’র কর্মীদের মাধ্যমে স্থানীয়দের জোগাড় করা হয়। সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে ওই তিন নেতা। সেখানে জেহাদি কায়দায় ভাষণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিভিন্ন ছবি তাদের সামনে তুলে ধরা হয়। শুধু তাই নয়, পুলিশ আধিকারিকরা জেনেছেন, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে উসকানিমূলক যে সমস্ত ছবি পোস্ট করা হয়েছে, তা ছড়িয়েছে ওই তিন নেতাই। এমনকী প্ররোচনামূলক ভিডিও ফুটেজ তৈরি করেছে তারাই।

জেএমবি’র তিন শীর্ষ নেতা যেদিন বসিরহাটে এসে বৈঠক করে, সেদিন বিভিন্ন উসকানিমূলক ছবি তারা দেখায় বলে জানা যাচ্ছে। কীভাবে পুলিশকে আক্রমণ করে এলাকায় অশান্তি তৈরি করতে হবে, তার পুরো পরিকল্পনা তৈরি হয়। সেইমতো অপারেশন চালানো হয়।

জেএমবি’র এই জঙ্গিরা বাংলাদেশেও একাধিক ঘটনায় জড়িত । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে পর্যন্ত তারা পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে ছিল। এসটিএফের কাছে খবর, তারা এখন সীমান্ত পেরতে সক্ষম হয়েছে। তবে উত্তর ২৪ পরগনা নয়, অন্য কোনও সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে গিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই কারণেই তাদের খুঁজতে বাংলাদেশে আসছে কলকাতা পুলিশের টিম।

আজ শনিবার অফিসাররা বাংলাদেশে রওনা হচ্ছেন।  তাঁরা কথা বলবেন বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সঙ্গে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়কাণ্ডে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ধৃত হাতকাটা নাসিরুল্লাহ ওরফে সোহেল মাহফুজকেও জেরা করা হবে এই নিয়ে। তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা হবে নব্য জেএমবি’র কেউ এই কাজে জড়িত কি না।

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ