ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম , ৩ আগষ্ট, ২০১৭ ।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, বিচারব্যবস্থা এখন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। সরকার যেন অসহায় হয়ে পড়েছে। আদালতের এ পর্যবেক্ষণের পর লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে।
দেশের সর্বশেষ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার এরশাদ তার বনানী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।
মন্ত্রিসভা থেকে জাপার মন্ত্রীরা এবং নিজে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত থেকে পদত্যাগ করবেন কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, , “আমরাই বিরোধী দল। যদিও আমরা সরকারে আছি, আমাদের তিনজন মন্ত্রী ক্ষমতায় আছে… এটা আমাদের জন্য লজ্জার ব্যাপার।
“আশা করি এই লজ্জার হাত থেকে একদিন আমরা মুক্তি পাব।”
জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পানিসম্পদমন্ত্রী।
এছাড়া মুজিবুল হক চুন্নু শ্রম মন্ত্রণালয় এবং মশিউর রহমান রাঙ্গা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মান্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন।
এরশাদ তার বক্তব্যে দেশে চলমান খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, অবিচার, চালের মূল্য এবং যানজট ও জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশে এখন ক্ষমতার তুফান চলছে। বগুড়ায় বাড়ি থেকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন-তুফান আওয়ামী লীগের কেউ না।
গঠনতান্ত্রিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য হলেও রাজনৈতিকভাবে খোলা চোখে মানুষ মনে করে শ্রমিক লীগ আওয়ামী লীগের অংশ। এই তুফান সরকার কী করে শ্রমিক লীগের নেতা হন? তার ভাই মতিন সরকার কী করে যুবলীগের নেতা হন? দেশে সুশাসন থাকলে কেমন করে তারা মাদক সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়?
দেশের এমন অবস্থায় জাপা কি চায় যে সরকার পদত্যাগ করুক- এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বলেন, তা চাই না। এতে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব কি-না, প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এই কমিশনের পরীক্ষা হয়নি, ভবিষ্যতে বোঝা যাবে।
বুধবার রাতে বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাড়িতে যে বৈঠক হয়, সেখানে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান জি এম কাদেরেরে উপস্থিতি নিয়েও এরশাদকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
জবাবে এরশাদ বলেন, “সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী সাহেবকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইফতারের দাওয়াত করেছিলেন, তার অর্থ তিনি সরকারের বিরুদ্ধে নন; না হলে আর কাউকে তো তিনি আমন্ত্রণ করেননি। সেই অনুষ্ঠানে তিনি আমার পাশে বসেছিলেন। এর মধ্যে দিয়ে কি প্রতীয়মান হয় না যে তিনি মিত্রবাহিনীতে আছেন ?”
বিকল্পধারা বাংলাদেশের সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট করার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না- এ প্রশ্নে এরশাদের পাশে বসা জিএম কাদের বলেন, “আমরা বরাবরই বলে আসছি, আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে আমরা একটি পৃথক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। গতকাল একটি বৈঠক ছিল, সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ছিলেন। কিছু রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে- তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো কথা সেখানে হয়নি।
জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অবসরপ্রাপ্ত মেজর খালেদ আক্তার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ।