রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর, জনতারআদালত.কম । ২৯ অক্টোবর, ২০১৭ ।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের আগে একপক্ষের মহড়া। ছবি : জনতার আদালত. কম
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মারুফ হাসান (৩৫) খুনের ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের জের ধরে এ সংঘর্ষ হয়।
এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও পিংনা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন জয়সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক ও আওনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মারুফ হাসান গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মেন্দারবেড় গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে মোবারক হোসেন রাজার (৩৩) হাতে জখম হন। এরপর রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে এক মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে। ওই সংবাদ সম্মেলনে মারুফ হাসান হত্যাকাণ্ডে সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মুরাদ হাসানের সরাসরি নির্দেশনা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
নিহতের বাবা আলহাজ মতিয়র রহমান ও বড় ভাই ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, মারুফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। মুরাদ হাসানের গ্রুপে কাজ না করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বেল্লাল হোসেন এবং সহসভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, মারুফকে জখমের আগের দিন হামলাকারী সন্ত্রাসী রাজার বাড়িতে সাবেক এমপি গভীর রাত পর্যন্ত মিটিং করেছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ, সহসভাপতি আব্দুল লতিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, পোগলদিঘা ইউপি চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন, পিংনা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন জয় প্রমুখ।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ ও সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসানের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ছাত্রলীগ নেতা এস এ নিরবকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পৌর ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাজ্জাত হোসেনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী কলেজের জিএস মাহমুদুল হাসান দুখু অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে নিরব, সাজ্জাত, সুমন, মিল্টন, কপিলন, খোকন, অন্তরসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি হতেও বাধা দিচ্ছে হামলাকারীরা।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ সম্মেলন শেষ হতেই প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এদিকে মারুফ হাসানের হত্যাকারীর ইন্ধনদাতাকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত যমুনা সার কারখানা এলাকায় লাগাতার আন্দোলন চলবে বলেও তিনি জানান।
মারুফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ‘অভিযোগটি মিথ্যা। নিহত মারুফ আমারই নিবেদিত কর্মী ছিল। সে মারা যাওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। ’ এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলন শেষে ভাড়াটিয়া লোক এনে উসকানিমূলক কথা বলায় সংঘর্ষ বাধে বলেও তিনি বলেন।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি রেজাউল ইসলাম খান বলেন, সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এনেছে।


























