spot_img

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতা স্মারক সই

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ।

নির্যাতনের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশটির রাজধানী নেপিদো’তে দুই দেশের মধ্যে স্মারক সই হয়েছে।এ চুক্তি সই করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দফতরের মন্ত্রী খিও তিন্ত সোয়ে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বৈঠক করেন।

এদিকে চুক্তির শর্ত সম্পর্কে বুধবার রাতে নেইপিদো থেকে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে উভয়পক্ষ কিছুটা ছাড় দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল- জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ সব উন্নয়ন সহযোগীর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মিয়ানমার শেষ পর্যন্ত শুধু ইউএনএইচসিআরকে প্রয়োজনমতো কাজে লাগাবে বলে সম্মত হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘চুক্তি সই হওয়ার ২ মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। বাংলাদেশ চেয়েছিল কবে নাগাদ প্রত্যাবাসন শেষ হবে তার একটি সময়সীমা। কিন্তু মিয়ানমার এমন সময়সীমা দিতে রাজি হয়নি। তা ছাড়া গত বছরের অক্টোবরের পর আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়েই ফোকাস থাকবে। পরবর্তী সময় সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
চুক্তি সই হওয়ার পর ‘রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ফেরানোর চুক্তি’ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীই সাংবাদিকদের জানান। এর আগে বুধবার কেয়াউ তিন্ত সোয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার এ চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত ২৫ আগস্ট বর্মী সেনারা রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রাখাইন থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা বলছেন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে সেনা সদস্যরা।

রাখাইনে ৩০টি পুলিশ ও সেনা চৌকিতে গত ২৪ আগস্ট রাতে সমন্বিত হামলার পর এ অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। ওই হামলার জন্য ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ দায়ী করে এ অভিযানকে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই’ বলে দাবি করে আসছে মিয়ানমারের সেনা ও সরকার। তবে জাতিসংঘ একে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ