spot_img

যুদ্ধাপরাধী মামলায় ত্রিশালে ৩য় দফা সাক্ষ্য গ্রহণে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ প্রমানিত- তদন্ত সংস্থার প্রধান মোঃ আঃ হান্নান খান

ত্রিশাল প্রতিনিধি, জনতারআদালত.কম । ২৯ অক্টোবর, ২০১৭ ।

গত ২৮ অক্টোবর ২০১৭ স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে ময়মনসিংহ ত্রিশালে ৭১’ এর মানবতা বিরোধী অপরাধে যুদ্ধাপরাধীর একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ২২ জন রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা আমলে নিয়ে ৩য় দফায় ২৩ জন স্বাক্ষীর চূড়ান্ত স্বাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মামলার অন্যতম বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালাম , রাজাকার মৃত আঃ খালেক সরকারের ছেলে রাজাকার কমান্ডার জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আনিছুর রহমান মানিক, শামছুল হক বাচ্চু, মোঃ মোখলেছুর রহমান মুকুল, সাইদুর রহমান রতন, শামছুল ফকির, সুলতান ফকির, নাকিব হোসেন আদিল, পিতা- মৃত রাজাকার কমান্ডার গেদু মিয়া, আবুল কালাম আজাদ (মুকুল), মাও. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (আল বদর কমান্ডার), খাদেম সহ রাজাকার বাহিনীর অমানবিক নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তর, নারী নির্যাতন, লুটতরাজ সহ লোম হর্ষক অত্যাচারের বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এসময় অন্যান্য বাদীর মধ্যে মোঃ হাফিজ উদ্দিন, মোঃ রুহুল আমিন উপস্থিত থেকে ঘটনার বিশদ বিবরণ দেন। ২২ জন রাজাকারের মধ্যে শামছুল হক বাচ্চুকে এস.আই লিটন ও মাও. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (আল বদর কমান্ডার) কে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে ত্রিশাল থানায় কর্মরত মোঃ মোখলেছুর রহমান (ওসি তদন্ত) গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

গ্রেফতারকৃত রাজাকার শামছুল হক বাচ্চু ও মাও. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (আল বদর কমান্ডার) বর্তমানে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান মোঃ আব্দুল হান্নান খান (আই.জি.পি পদ মর্যাদা) ও ডেপুটি ডিরেক্টর মোঃ মতিউর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মোঃ আব্দুল হান্নান খান বলেন, ” তদন্ত ও স্বাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে গতানুগতিক ভাবে মামলার কার্যক্রম সন্তুষজনক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তর, নারী নির্যাতন, লুটতরাজের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।”

এ বিষয়ে মামলার অন্যতম বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালাম আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন, ” ১৯৭১ সালের ২১শে এপ্রিল পাক বাহিনী সকাল ৯ টার সময় ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে । একই দিন বেলা ১২টায় মুসলিমলীগ নেতাদের সহযোগীতায় পাক বাহিনী ট্রেনযোগে আহমদাবাদ ষ্টেশনে আসে এবং গ্রামে ঢুকে ময়মনসিংহ জেলায় সর্বপ্রথম আমার বাড়ীঘর লুটতরাজের পর পুড়িয়ে দেয় । একই সাথে আমার পুরো গ্রামেও বিভিন্নভাবে অত্যাচার-অনাচার চালায় । জুলাই মাসে রাজাকার বাহিনী গঠন করার পর আমার পুনঃনির্মাণ করা বাড়ী উল্লেখিত রাজাকাররা আবার পুড়িয়ে দেয় ।স্বাধীনতার পর আবার এই রাজাকারের সন্তানরাই সিরাজ শিকদার পার্টির সহযোগে ১৯৭৪ সালে আমার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় । সেই আগুনে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদিও পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যায় । শুধু তাই নয়, তারা সেদিন আমার ছোট ভাই ও আমার ছোট চাচাকে চোখ বেঁধে খালের পাড়ে নিয়ে অমানবিক অত্যাচার করে । “

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ