ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম । ২৫ অক্টোবর, ২০১৭ ।

কক্সবাজারের টেকনাফে মুক্তিপণের টাকাসহ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাতজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
আবদুল গফুর নামের এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ফেরার পথে আজ বুধবার ভোরে টেকনাফের মেরিনড্রাইভ সড়কে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঐ সাত ডিবি পুলিশকে আটক করে।
টেকনাফের অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর নাজিম আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আবদুল গফুরকে মঙ্গলবার সকালে অপহরণ করে ডিবির একটি দল। এরপর মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে তারা। কিন্তু দর-কষাকষির পর ওই ব্যবসায়ীর পরিবার ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। টাকা পাওয়ার পর তাকে ভোররাতে কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর ওই ব্যবসায়ীর পরিবার বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানালে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকার লম্বরী সেনাবাহিনীর তল্লাশিচৌকিতে ডিবির গাড়িটি সংকেত দিয়ে থামানো হয়। এ সময় মনিরুজ্জামান নামের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) পালিয়ে যান।
পরে আটককৃতদের ১৭ লাখ টাকা সহ সাবরাং নয়াপাড়া অস্থায়ী সেনাক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও র্যাব কর্মকর্তারা বুধবার সকালে টেকনাফের নয়াপাড়া অস্থায়ী সেনাক্যাম্পে এসে আটককৃতদের তাদের জিম্মায় নিয়ে যান এবং এ ব্যাপারে বিভাগীয় মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
এদিকে ভিকটিম টেকনাফের ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের থানা রোড সংলগ্ন আল গনি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খেয়ে বের হওয়ার সময় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন তাকে একটি মাইক্রোবাস তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, এ সময় ডিবি পুলিশ আমার কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। প্রাণ ভয়ে আমি মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা বলে ১৭ লাখ টাকা দিতে চাইলে তারা রাজি হয়।
“পরে আমার পরিবারের লোকজন মেরিন ড্রাইভ সড়কের মহেশখালিয়া পাড়ায় গিয়ে ডিবি পুলিশের টাকা দিলে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়। সেই টাকা নিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় ডিবি সদস্যরা সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়।”
এদিকে আটক ডিবি সদস্যদের জেলা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ সদর দপ্তর।


























