ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

মজুদ করা চাল দ্রুত বাজারে না ছাড়লে দুর্নীতি মামলায় পড়তে হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ আজ সংস্থার সম্মেলন কক্ষে দুদকের কার্যক্রম বিষয়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দয়া করে অবৈধ মজুদ চাল দ্রুত বাজারে ছেড়ে দিন- নইলে দুদকের মামলায় পড়তে হবে। আর এই মামলা ক্যান্সারের মতো, একবার এই মামলায় পড়লে আর রেহাই নেই।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, খাদ্য বিভাগের কর্মকতাদের সাথে কিছু খাদ্য দ্রব্য মজুতদারি প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক যোগসাজশে সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে খাদ্য দ্রব্য মজুদ করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন বলে কমিশনে অভিযোগ এসেছে। এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
কমিশন শিগগিরই অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পয়েন্ট পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন ১০৬ মানুষের নানাবিধ অভিযোগ জানানোর প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত এই নম্বরে ২ লাখ ৯ হাজার কল এসেছে। কিন্তু অধিকাংশ অভিযোগই কমিশন আইনের তফসিল বহির্ভূত। অভিযোগের পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকলে তা অনুসন্ধান করে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা।
তিনি বলেন, গত এক বছরে মাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের প্রতিটি জেলার একটি করে উপজেলায় দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’ চালু করা হয়েছে এবং ব্যবস্থাপনার বিষয়ে দুদক তদারকি করছে।
চেয়ারম্যান বলেন, অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিশ্চিতে হাজতখানা স্থাপন এবং এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করা, আর্মড ও গোয়েন্দা ইউনিট গঠন এবং দুদকের সকল সদস্যের কর্মপরিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া এ্যাসেট রিকভারি ইউনিট গঠন করা হচ্ছে।
সভায় জানানো হয়, ২০১৭ সালে তদন্ত অনুবিভাগ থেকে ২০১০টি অভিযোগের অনুসন্ধান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮৪টি অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে ৬০৩টি অভিযোগ পরিসমাপ্তি এবং ১৮১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া এবছর ১৩০৪টি মামলা তদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৫টি সাক্ষ্য-স্বারক দাখিলের প্রেক্ষিতে ১৬৩ চার্জশীট এবং ২৩২টি মামলার এফআরটি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলা তদন্তকালে ৭২জন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মানিলন্ডারিং অনুবিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১১৪টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২০টি অভিযোগের অনুসন্ধান শেষ হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে ৯টি মামলা দায়ের করা হয়, ১৪টি অভিযোগ সমাপ্ত হয় এবং ৩৫টি অভিযোগ সিআইডি ও এনবিআর- এ পাঠানো হয়। এ পযন্ত মোট ২৪টি মানিলন্ডারিং মামলার রায় হয়েছে এবং ২৪টি মামলায়ই শাস্তি হয়েছে। এবছর ৮টি মামলায় রায় হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রাহাত খান, দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ৭১-টিভি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নইম নিজাম, এসএটিভির চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিটিভির মহাপরিচালক হারুনুর রশীদ, ডিবিসি টিভির প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল ইসলাম, চ্যানেল আই’র জাহিদ নেওয়াজ খান ও আরটিভির প্রধান নির্বাহী আশিকুর রহমান।
সভায় বাসস চেয়ারম্যান বড় বড় দুর্নীতিবাজদের ধরার আহবান জানিয়ে বলেন, এ ক্ষেত্রে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা থাকা জরুরি।


























