ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম ।।
রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেস গেট এলাকায় একটি তিন তলা ভবনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৪০-৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ভবন ভেঙে সামনের রাস্তায় আজমেরী পরিবহন এবং আল মক্কা পরিবহন এর উপরে ছিটকে পড়ে। আশপাশে বিশাল সেন্টার, আড়ং ও রাসমনো হাসপাতালে কাচ ভেঙ্গে যায়। কি কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে এখনও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে এসি কিংবা গ্যাসের বিস্ফোরণ হতে পারে। ওই এলাকায় সকাল থেকে গ্যাসে সমস্যা ছিল।
নিহতের সংখ্যাটি নিশ্চিত করে রমনা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার ফয়সালুর রহমান বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে বিস্ফোরণের কথা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ঠিক কোথায় থেকে বিস্ফোরণ ঘটলো তা তাৎক্ষণিভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণে ভবনটির নিচতলার ভেতরেই ঘটেছে। ওই বিস্ফোরণে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মোট ৬ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। কেউ কেউ আবার ফোন করে বলেছেন, গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। আহত ও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম।
রমনা থানার ডিউটি অফিসার এসআই আবুল খায়ের বলেন, সেখানে ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে শুনেছি। এখনো নিশ্চিত হতে পারছি না। পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম সেখানে আছে।
তবে, স্থানীয়দের কেউ জানান ভবনে থাকা এসির বিস্ফোরণ ঘটেছে, আবার কেউ জানান বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বিস্ফোরিত হয়েছে। অনেকেই আবার জানান বাসে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছে।
বিস্ফোরণে পথচারী, গাড়িতে থাকা অনেকেই আহত হয়েছেন। গাড়ির বিস্ফোরণের শব্দে সড়কে থাকা গাড়ির গ্লাস ভেঙে উড়ে গেছে। ভবনটিতে একটি মিষ্টির দোকানসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি রমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এছাড়াও পথচারীরা আহতদের হাসপাতালে নিয়েছে।
কমিউনিটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অমিত পাল জানান, তারা ৫০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন শিশু ও পুরুষ মারা গেছেন। অনেককেই ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে আহত ও দগ্ধদের ঢাকা কমিউনিটি ক্লিনিক, আদ্ব-দীন হাসপাতাল, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কেবল ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগেই নেওয়া হয়েছে ৩৯ জনকে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ ইকবাল হোসেন, শাহ আলম, কালু, কামাল হোসেন, লাকি বেগম, তার মা সালেহা, ছেলে সৈকত ও নিহিত, মাসুদ, শহীদ, সেন্টুসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের পর আড়ংসহ আশ-পাশের ভবন কেপে উঠে। বেশ কয়েকটি ভবনের সব গ্লাস ভেঙে গেছে। এ সময় একটি বাসে আগুন ধরে যায়। ভবন থেকে মানুষ ভয়ে রাস্তায় নেমে আসে।
পূর্বের খবরঃ মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, শিশুসহ নিহত ৩, বহু হতাহতের আশঙ্কা


























