spot_img

বিএনপি আবার টালবাহানা শুরু করেছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ৩০ আগষ্ট, ২০১৭ ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নানারকম টালবাহানা শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘এখন আবার নির্বাচন যতই সামনে ঘনিয়ে আসছে তাদের (বিএনপি’র) আবারো নানারকম অযুহাত।’ তিনি আজ বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় একথা বলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত।

আরো বক্তৃতা করেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং মুহম্মদ ফারুক খান।
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বক্তৃতা করেন।

মানুষ হত্যার রাজনীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই (বিএনপি’র) তাদের রাজনীতি। এটাই তাদের কাজ। তারা মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। কিন্তু মানুষকে ধ্বংস করতে পারে। মানুষের ওপর অত্যাচার করতে পারে। মানুষকে নির্মমভাবে তারা খুন করে যায় নির্বিচারে। যখন জনগণ প্রতিরোধ করেছে তখন খালেদা জিয়া ঘরে ফিরে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছি বলেই জাতির পিতা হত্যার বিচারের রায় আমরা কার্যকর করতে পেরেছি। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, মানি লন্ডারিং মামলার বিচার করেছি, শাস্তি পেয়েছে তার ছেলে (খালেদা জিয়ার)।

তিনি বলেন, তাঁর সরকার টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বলেই আজকে দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তাইতো সারাবিশ্বে আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, আমরা প্রতিবেশী সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রতিটি সদস্যা আমরা সমাধান করেছি। আজকে বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকলের কাছে বিস্ময়। এটা আমরা করতে পেরেছি একটাই কারণে যে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে তাঁর নীতি অনুসরণ করে তার প্রদর্শিত পথে এই দেশ পরিচালনা করছি। যখনই একটু ভালো কাজ করি আমার শুধু মনে হয় নিশ্চই আমার আব্বার আত্মাটা শান্তি পাবে। যে তাঁর দেশের মানুষ ভালো আছে।

সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বন্যা হয়েছে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি একটা মানুষও যেন কষ্ট না পায়। ফসল নষ্ট হয়েছে। আমরা বিদেশ থেকে পয়সা দিয়ে আমরা খাদ্যশস্য কিনে নিয়ে আসছি। যেন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে ঘরে আমরা খাদ্য পৌঁছে দিতে পারি। যারা গৃহহারা তাদের ঘরবাড়ি করে দেব। রোগের প্রাদুর্ভাব যেন না দেখা দেয় তার জন্য আগাম আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি, ওষুধপত্র কোন কিছুর যেন অভাব না থাকে। এখন বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যেন পুনরায় চাষবাস করতে পারে তারজন্য যা যা করার সব ব্যবস্থা আমরা করে রেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আজকে জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। তাঁকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তুু তাঁর আদর্শ এবং নীতি নিয়েই আমরা এই দেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে চাই। বাংলাদেশকে হবে বিশ্বের উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন- ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ইনশাল্লাহ খাদ্যের অভাব এখন নেই কিন্তু বাংলাদেশ একদিন ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্তভাবে গড়ে উঠবে। এই শোক দিবসে এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। যে এই দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ করবো। তবেই তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ