বাংলাদেশের স্বর্ণখনি ! ……… ( পর্বঃ ৩ )
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, প্রকাশক ,
জনতারআদালত.কম । ৩১ জুলাই, ২০১৭ ।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের এখনও গ্রেনেডের স্প্রীন্টারে আহত অবস্থায় আছেন ।


মানবঢাল তৈরী করে শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করছেন মোঃ হানিফ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কারণে এখনো নামাজ পড়তে গিয়ে সেজদা দিতে পারি না। আমার চেয়ে অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। আইভী রহমানসহ ২৪ জন তো জীবনই দিয়েছেন।

গ্রেনেড হামলার নিয়ন্ত্রক
সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে এসে তৎকালীন সরকারের হুকুমে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেডে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমান, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক মোস্তাক আহমেদ সেন্টু, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের (দক্ষিণ) কর্মী সুফিয়া বেগম, ১৫নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মমতাজ রীনা, মাদারীপুর জেলার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লিটন মুন্সী, রি-রোলিং মিল ব্যবসায়ী রতন সিকদার, ৩০নং ওয়ার্ড শ্রমিক নেতা মো. হানিফ, সরকারি কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মামুন মৃধা, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সহসম্পাদক বেলাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আবদুস কুদ্দুস পাটোয়ারী, যুবলীগ নেতা আতিক সরকার, শ্রমিক লীগ কর্মী নাসিরউদ্দীন সরদার, মহিলা আওয়ামী লীগের রেজিয়া বেগম, বালুঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আবুল কাশেম, মমিন আলী, শামসুদ্দিন, ইছহাক মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরো দুজন।

এরপর সেই সময়ের সরকার মামলার আলামত নষ্ট করে দিয়ে, তথাকথিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে ও জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে সাধু সাজতে চেয়েছিল।’
এর পরের বছর ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলার পর একের পর এক আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাতে থাকে জঙ্গিরা। এতে দেশব্যাপী চরম নৈরাজ্য শুরু হয়। এসব বর্বরোচিত বোমা হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ তখন ৩৩ জন প্রাণ হারান। আহত হন চার শতাধিক নারী-পুরুষ। এসব ঘটনায় পরে আরও শতাধিক মামলা হয় সারাদেশে।
২০০২ সালের ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের অলকা, ছায়াবাণী, পূরবী ও অজন্তা সিনেমা হলে প্রায় একই সময়ে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। হামলায় ১৮ জন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হয়।

জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী আলমগীর কবির, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা ও শীষ মোহাম্মদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ৩১ বছরের সাজা হয়েছিল।
এরপর আওয়ামী লীগের আহাসান উল্লাহ মাস্টার, শাহ এম এম এস কিবরিয়া, মমতাজ, গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী, অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ, দাক্তার মোজাম্মেল, সাংবাদিক মানিকসহ স্বাধীনতা পক্ষের বেশকিছু ব্যক্তিত্বকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শাহ এম এম এস কিবরিয়া
উত্থান হয়েছিলো জেএমবি নামক ভয়ংকর জঙ্গী গ্রুপের । ঘটেছিলো দশ ট্রাক অস্ত্র আমদানির মতো ঘটনার ।

বাঁশখালীতে ১৩ জন হিন্দুকে পুঁড়িয়ে মারা সহ সারা দেশের কয়েক হাজার হিন্দু পরিবারের উপর শুরু হয়েছিলো অমানুষিক অত্যাচার ।
সর্বহারা দমনের নামে অপারেশন ক্লিন হার্টের মাধ্যমে সারা দেশে আওয়ামী নিধন অভিযান করেছিলো ।
প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার মাধ্যমে ওমরার নাম করে ৪৬০টি স্যুটকেস পাচার হয়েছিলো, যা আজ পর্যন্তই অজানা রয়ে গেলো ।
মালয়েশিয়া সরকার দ্বারা তারেক জিয়ার পাচার করা বাংলাদেশের ২৮ হাজার কোটি টাকা জব্দ হয়েছিলো ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য ১৯ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয় ।

কুষ্টিয়াতেও বিদ্যুতের জন্য গুলি করে কৃষক হত্যা করা হয় ।
সারের জন্য গুলি করে কৃষক হত্যা করা হয় ।
ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের উপর গ্রেনেড হামলা করা হয় ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে ছাত্রীবোনদের উপর রাতের আঁধারে পুলিশি বর্বরতা করানো হয় ।
২০০১ সালের ১৬ই জুন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা করে ২২ জনকে , ২০০৪ সালে শাহজালাল মাজারে বোমা মেরে ৫ জনকে হত্যা করা হয় ।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি-জামাতের শাসনকালে পুরো জাতিকে বিভিন্ন প্রকার আতংকে রাখা হতো ।
এই আমলেই সারা জাতি ” মঙ্গা ” শব্দের সাথে পরিচিত হয় । পুরো উত্তরবঙ্গবাসী সেইসময় অর্থকষ্ট , খাদ্যকষ্ট অনুভব করে ।
২০০৬ সালে তৎকালীন সরকারের রেখে যাওয়া বাংলাদেশের হাল ছিলো :
২০০৬ সাল ২০১৬ সাল
প্রবৃদ্ধি অর্জন
৫.৭% ৬.৮ %
মাথাপিছু গড় আয়
৪২৭ ডলার ১৩১৬ ডলার
সাক্ষরতার হার
৫১.৯০% ৭১%
রেমিটেন্স প্রবাহ ( ডলার )
১৩ বিলিয়ন ৪২.৯ বিলিয়ন
দারিদ্র হার
৪১.৫১% ২৩.২%
প্রসবকালীন মৃত্যুর হার লাখে
৩৮৫ জন ১৪৭ জন
বৈদেশিক বিনিয়োগ (ডলার)
১৮৭ কোটি ২২৩ কোটি
মাতৃত্বকালীন ছুটি
৪মাস ৬ মাস
ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা
৫৭ লক্ষ ৭ কোটি
শিশু মৃত্যুর হার
৬.১০% ২.৩%
প্রত্যাশিত আয়ু
৫৬ বছর ৬১ বছর
পোষাক রপ্তানিতে বিশ্বের অবস্থান
৪র্থ ২য়
খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি (লক্ষ মেঃ টন)
৩০ (ঘাটতি) ৯.৩৭ ( বাড়তি )
সর্বোচ্চ বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা (মেগাওয়াট)
৩১০০ ১১,২৭১
জ্বালানী তেলের মুল্য বৃদ্ধি গড়
১৩৬% ৩৮%
সমুদ্র সীমা জয় ( বর্গকিলোমিটার )
নিস্ক্রিয় ১৯,৪৬৭
শ্রমিকদের নুন্যতম মজুরি
১৬৬২ টাকা ৫৩০০’ টাকা
রপ্তানি আয় ( বিলিয়ন ডলার )
১.০৩ ৩৪.২৪
হাসপাতালের সংখ্যা
১৬৮৩ টি ৩৫৭৫ টি
পবিত্র হজ্ব পালন
৪০ হাজার যাত্রী ১ লাখ ২৭ হাজার
মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা (কোটি )
২ .৩৬ ৭.৫৬
দৈনিক গ্যাস উত্তোলন (মিলিয়ন ঘনফুট)
১৫৩১ ২০০০
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (বিলিয়ন ডলার)
৩.৮৮ ৩৩
টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা
৭টি ৪১ টি
চলবে …….
এ সংক্রান্ত খবর ঃ
শেষ পর্বঃ
https://janataradalat.com/2017/08/11/বাংলাদেশের-স্বর্ণখনি-3/
পর্বঃ ২
https://janataradalat.com/2017/07/22/বাংলাদেশের-স্বর্ণখনি-প/
পর্বঃ ১
https://janataradalat.com/2017/07/19/বাংলাদেশের-স্বর্ণখনি/


























