spot_img

বাংলাদেশের স্বর্ণখনি ! ……… ( পর্বঃ ২ )

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, প্রকাশক ,

জনতারআদালত.কম । ২২ জুলাই, ২০১৭ ।

চট করে বলেছিলাম , [highlight color=”yellow”]” অবশ্যই , আমার বাংলাদেশে স্বর্ণখনি আছে । বাট, ওয়ানলি ওয়ান “[/highlight] ।

পর্বঃ ২ …….

ডেভিড অতিআগ্রহে শুনছে, আমি বলতে শুরু করলাম………

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বর্ণচোরা পাকিস্তানপন্থী কিছু সংখ্যক বিপথগামী সামরিক অফিসার আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করে । শুধু তা-ই নয়, ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাকান্ডের খুনীদের রক্ষা করার জন্য ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করা হয় ।

অধ্যাদেশটিতে দুটি ভাগ , প্রথম অংশে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবত্ আইনের পরিপন্থী যা কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টসহ কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।

দ্বিতীয় অংশে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হলো। অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।

পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান  দেশের ইতিহাসে বর্বরতম হত্যার তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে দেন এবং খুনীদের দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার পাশাপাশি কূটনৈতিক দায়িত্ব প্রদান করেন, যা লন্ডনে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্টেও বলা হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিদেশে অবস্থানের কারণে ঘাতকদের হাত থেকে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। জিয়াউর রহমানের দেয়া নির্বাসনের কারনে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দীর্ঘদিন দেশের বাহিরেই থাকতে হয় ।

১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বিকেলে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি দেশের মাটিতে ফিরে আসেন। সেদিন লাখো মানুষ তাঁকে বাংলার বুকে স্বাগত জানায়। দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।

 

দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর সামরিক শাসনের কারনে পুরো জাতি তাদের দুঃশাসনে অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলো । বহু সামরিক ও বে-সামরিক মানুষদের ক্ষমতাশীনরা নির্যাতন, হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অর্থ্যাৎ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর ব্যাপকভাবে নির্যাতন চালিয়েছিলো । সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে হিন্দুদের দেশ ছাড়া করেছিল । অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে দিয়েছিলো । মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছিলো ।

অবশেষে ১৯৯০ সালে গণভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক সরকারের পতন হলে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর চক্রান্তে এক কারচুপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । যার মাধ্যমে স্বৈরাচার সামরিক শাসকের দল বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করে । ক্ষমতাশীন হয়েই বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে হত্যাকান্ড শুরু করে ।

সেসময় প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সংসদে ইনডেমনিটি বিল বাতিলের দাবী উত্থাপন করলে খালেদা জিয়া সরকার তা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে। অনেকের মতে বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ  দিতে ব্যর্থ হয়।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া সরকারের আমলে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলীয়করণের নীতির বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয় । অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি প্রভৃতি সম্পর্কে অনেক আশাব্যঞ্জক কথা বলা হলেও বাস্তবে হাজার হাজার শিক্ষিত ও দক্ষ বেকারের পাশাপাশি নিরক্ষর ও অদক্ষ  বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছিল। তাছাড়া খালেদা জিয়া সরকারের শাসনামলে দেশ শিল্পায়নে মোটেও সফল হতে পারেনি। কোন নতুন কলকারখানা সৃষ্টি বা আশানুরূপ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতেও খালেদা জিয়া সরকার ব্যর্থ হয়েছিল।

                      ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দরিদ্র কিশোরী ইয়াসমিনকে নির্মভাবে হত্যা করা হয়

এই শাসনামলে কৃষির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সারের মূল্য স্মরণকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ফলে কৃষক সমাজ ও কৃষিকাজ বিপর্যস্ত, বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঘেরাও করে। দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে সার লুটের খবর পাওয়া যায়। জেলা ও থানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে সারের দাবিতে সভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সার কালোবাজারে বিক্রি সম্পর্কে প্রশাসনসহ দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। অবশেষে, পুলিশ ক্ষুব্ধ, প্রতিবাদী কৃষকদের উপর নির্মমভাবে গুলি চালায়। ফলে ১৮ জন কৃষক পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে প্রাণ হারায়।

এসব দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ । আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত  সুষ্ঠ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় ।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল: ১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাসে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, খাদ্যশস্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতুর (বঙ্গবন্ধু সেতু) নির্মাণ সম্পন্ন করা।

এই পাঁচ বছর মেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ, যা নিঃসন্দেহে একটি সাফল্য। ১৯৯৮ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ বন্যার ফলে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে অর্জিত প্রবৃদ্ধির হার ছিল একটি অনন্যসাধারণ সাফল্য। যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১৯৯৬-৯৮ মেয়াদকালে মূল্যস্ফীতির হার ছিল প্রায় ১০ শতাংশ, বাংলাদেশে এই হার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। পরবর্তী তিন বছরেও এই ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত নীতি প্রণয়ন, যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়;

কৃষি খাতের উপর দৃষ্টি রেখে কৃষকবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে বাংলাদেশ ২০০০ সালের মধ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। ১৯৯৫-৯৬ সালে উৎপাদিত ১৯ মিলিয়ন মেট্রিক টনের তুলনায় পাঁচ বছর পর ২০০০-০১ সালে উৎপাদিত খাদ্যশস্যের পরিমান দাঁড়ায় ২৬.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে। একই সময়ে দারিদ্রসীমার নীচে অবস্থানকারী জনগোষ্ঠীর অনুপাত ১৯৯৬ সালের ৪৮ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৪৪ শতাংশে নেমে আসে।

১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে তিনি বয়স্কভাতা প্রবর্তন করেন, যার মাধ্যমে ৪ লক্ষ বয়স্ক ব্যক্তিকে মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়। বিধবা ও স্বামী-পরিত্যক্তা নারীদের জন্য ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে অনুরূপ কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়। প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি জাতীয় ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। গৃহহীনদের আশ্রয় ও কর্মসংস্থানের জন্য সরকার ৫-বছর মেয়াদী (১৯৯৭-২০০২) একটি প্রকল্প চালু করে। নদী-ভাঙনে গৃহহারা মানুষের জন্য ১৯৯৭-৯৮ সালে একটি গৃহায়ন তহবিল গঠন করা হয়। যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে স্থাপন করা হয় কর্মসংস্থান ব্যাংক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ শীর্ষক একটি প্রকল্প চালু করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি গৃহে ফলমূল ও শাকসবজি চাষ উৎসাহিত  করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগের জন্য ১৯৯৬-৯৭ সালে উন্মুক্ত করে দেন। গ্রাহকদের সেলুলার মোবাইল টেলিফোন সেবা প্রদানের জন্য সেসময় ৪টি বেসরকারি কোম্পানিকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এর ফলে এখাতে ইতিপূর্বে যে মনোপলি ছিল তার অবসান ঘটে।

বিএনপি ৫ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ বিশ্বে চারবার দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খ্যাতি লাভ করে । কিন্তু, পরবর্তীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার সর্বক্ষেত্রে বিপুল উন্নতি সাধন করে ।  শেখ হাসিনার এই সফলতা পাকিস্তান ও পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী মেনে নিতে পারে নাই । আমেরিকার কথা শুনে নাই বলে পরবর্তী নির্বাচনে আবার বিএনপি-জামাত জোটকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে । যার ফলশ্রুতিতে  বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় বসে দেশে ওয়ান এলিভেনে মানুষের উপর চরম অত্যাচার চালায় । হাজার হাজার আওয়ামী কর্মী-নেতা ও হিন্দুদের অত্যাচার করে দেশ থেকে বিতারিত করে । নারী নির্যাতন ও মানুষ হত্যা করে এক অরাজকতা সৃষ্টি করে । মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে ব্যাপকভাবে নির্যাতন চালায় ।

২০০৪ সালের ২১শে আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের ” সন্ত্রাস বিরোধী ” জনসভায় শেখ হাসিনাকে জীবনের তড়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ন্যাক্কারজনক ভাবে গ্রেনেড হামলা চালায় । পরম করুনাময় আল্লাহর অশেষ রহমতে শেখ হাসিনা সেদিন প্রণে বেঁচে গেলেও নারী নেত্রী আইভি রহমান সহ ২৪ জন নেতা কর্মী প্রাণ হারায় । সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ঘটনার পর তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার এ ঘটনার জন্য কোনরুপ সমবেদনাও জানায়নি ।  এখনও শতশত লোক উক্ত গ্রেনেড হামলায় পঙ্গু অবস্থায় জীবন-যাপন করছে ।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের এখনও গ্রেনেডের স্প্রীন্টারে আহত অবস্থায় আছেন ।

 

চলবে ……………….

 

 

এ সংক্রান্ত খবর ঃ 

 

শেষ পর্বঃ

https://janataradalat.com/2017/08/11/বাংলাদেশের-স্বর্ণখনি-3/

পর্বঃ ৩

https://janataradalat.com/2017/07/31/বাংলাদেশের-স্বর্ণখনি-2/

 

পর্বঃ ১

https://janataradalat.com/2017/07/19/বাংলাদেশের-স্বর্ণখনি/ ‎

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ