রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর ,
জনতারআদালত.কম । ২৯ আগষ্ট, ২০১৭ ।

টানা দুই সপ্তাহের বন্যায় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ৩৯০ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা রাস্তা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। পানি নেমে গেলেও উপজেলা শহরের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। কোথাও কোথাও রাস্তার ওপর সাঁকো দিয়ে মানুষজন চলাচল করছে।
ইসলামপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ আহসান আলী বলেন, বন্যায় পুরো উপজেলায় রাস্তাঘাটের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, টাকার অঙ্কে তা ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সড়কগুলো এমনভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে যে অল্প সময়ে সেগুলো মেরামত করাও সম্ভব নয়। তাই ঈদের আগেই বড় বড় গর্তের ওপর সাঁকো তৈরি করা হবে, যাতে ছোট ছোট যানবাহন চলতে পারে। এতে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় ইসলামপুরের পাকা ১৭০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২০ কিলোমিটার। পাশাপাশি এসব সড়কের ১৯টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম থেকে ইসলামপুর শহরের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
গত শুক্রবার ইসলামপুরের বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়কে সরেজমিন ঘুরে বেহাল অবস্থা চোখে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে নোয়ারপাড়া-মাহমুদপুর, উনিয়া-যমুনা নদীর নৌকাঘাট, ইসলামপুর-নোয়ারপাড়া, আমতলী-বলিয়াদহ, সিংভাঙা-গুঠাইল, উলিয়া-গুঠাইল, ইসলামপুর-গুঠাইল, গুঠাইল-বেলগাছা, গুঠাইল-চিনাডুলী, মলমগঞ্জ-বেলগাছা, ডেবরাইপ্যাঁচ-দেওয়ানপাড়া, বলিয়াহদ-নোয়ারপাড়া, দক্ষিণ চিনাডুলী-গুঠাইল, আমতলী-ঢেংগারঘর, ঢেংগারঘর-পাথর্শী, কাচিহারা-কাচারিবাজার ও হারগিলা-রামভ্রদা সড়ক । কাঁচা ও পাকা উভয় ধরনের রাস্তায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। পাকা রাস্তাগুলোর কোথাও পিচের চিহ্ন নেই বললেই চলে। ইট-খোয়াও পানির স্রোতে ভেসে গেছে। গর্তে গর্তে এখনো পানি জমে রয়েছে। যানবাহন চলাচল দূরের কথা, হাঁটাও যায় না। অনেক স্থানে কাঁচা রাস্তার চিহ্নই নেই।

নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভ্রদা গ্রামের রামচন্দ্র বলেন, এবারের বন্যা ছিল ভয়াবহ। বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এলাকার প্রতিটি সড়কেই কিছু দূর পরপর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা দিয়ে এখন হাঁটা যায় না।সেখান দিয়ে এখনো পানির স্রোত বইছে। তাঁদের এলাকা থেকে এখন উপজেলা শহরে যেতে দুই-তিন ঘণ্টা লাগে, আগে যেখানে মাত্র ৩০ মিনিট লাগত।

নোয়ারপাড়া থেকে ইসলামপুর শহরের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। এই রাস্তার ২০-২৫টি স্থানে সড়ক ভেঙে এখনো কোমরসমান গর্ত হয়ে আছে। এসব স্থান দিয়ে পানির ব্যাপক স্রোত বইছে। বড় গর্তের কয়েকটি স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। পানি কম থাকায় এখন নৌকাও চলাচল করছে না। ফলে হেঁটে চলাচল করাই একমাত্র বিকল্প।
পাথর্শী ইউনিয়নের ঢেংগারঘর গ্রামের জমেলা বেগম বলেন, সব রাস্তা ভেঙে খালের মতো সৃষ্টি হয়েছে। কোনো রাস্তা দিয়ে এখনো চলাচল করা যায় না। জরুরি প্রয়োজনে কেউ শহরে যেতে চাইলে দুই-তিন ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়। বন্যায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছেন রোগীরা। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় আপাতত মাটি ফেলে সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।


























