ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ২৮ জুলাই, ২০১৭ ।

এই প্রথমবার বাংলাদেশ এবং ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহের সাতদিনই টানা ২৪ ঘণ্টা পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে ‘ননস্টপ’ আমদানি-রপ্তানি পরিষেবা চালু হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের শুল্ক দপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট এই নতুন পরিষেবা শুরু হবে। তার জন্য দুই দেশের সরকারই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি হবে। ঠিকভাবে ক্লিয়ারিংয়ের অভাবে বর্তমানে পেট্রাপোল সীমান্তে প্রচুর পণ্যবোঝাই গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ২৪×৭, অর্থাৎ দিনরাত পরিষেবা চালু হলে সেই জট কাটবে বলে আশা করছেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশের বেনাপোল এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর। সীমান্তের ওপারে রয়েছে পেট্রাপোল বন্দর। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে বর্তমানে সকাল ৭টা থেকে বাণিজ্য শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলে। শুক্রবার ছুটি, সেদিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকে। এছাড়া, রবিবার শ্রমিক কম থাকে, কাজও কম হয়। এই সীমান্ত দিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ গাড়ি বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশ থেকে এ দেশে যায় গড়ে ৯০-১০০টি গাড়ি। রপ্তানির গাড়ি দিনের দিন ক্লিয়ার হয়ে যায়। কিন্তু, আমদানির গাড়ি নিয়ে বহু অভাব-অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
অভিযোগ, ভারত থেকে বাংলাদেশের বেনাপোলে যে গাড়িগুলি আসে সেগুলি ক্লিয়ার হতে সময় লাগে। দু’দিন, পাঁচদিন এমনকী, কোনও কোনও গাড়ি আনলোড হতে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ফলে, পেট্রাপোল সীমান্তে আমদানির গাড়ির লাইন পড়ে যায়। পেট্রাপোলের আইসিপি’তে ১৫০০ গাড়ি দাঁড়াবার জায়গা রয়েছে। কিন্তু, বহু সময় কালীতলা পার্কিংসহ বনগাঁর বিভিন্ন জায়গায় আরও ১৫০০ গাড়ি ওয়েটিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সপ্তাহের সাতদিনই ২৪ ঘণ্টা ধরে আমদানি-রপ্তানি চললে এই সমস্যা থেকেও মুক্তি মিলবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ভারতের ক্লিয়ারিং এজেন্টদের সংগঠনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, উদ্যোগটি খুবই ভাল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ। তবে, এটা দেখতে হবে রপ্তানির ক্ষেত্রে যেন পেট্রাপোল বন্দরে গাড়ির ওয়েটিং বন্ধ হয়। আশাকরি, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আমরা সেই সুবিধা পাবো।
জানা গিয়েছে, বেনাপোলে বাংলাদেশ সরকারের শুল্ক দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার শাকিলা পারভিন ২৪ জুলাই এ দেশের পেট্রাপোলে শুল্ক দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার রাহুল মাহাতকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি পরিষ্কারভাবে লিখেছেন, বাংলাদেশ সরকার আগামী ১ আগস্ট থেকেই ২৪ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি পরিষেবা চালু করতে চায়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে যাবতীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা চালুর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে উদ্যোগী হয়েছেন। ভারত সরকারও চাইছে, এই নতুন পরিষেবা চালু হোক। শুল্ক দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার (পেট্রাপোল) রাহুল মাহাত বলেন, বাংলাদেশ সরকারের চিঠি আমরা পেয়েছি। এটা দুই দেশের সরকারের মিলিত উদ্যোগ। এর ফলে, ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উন্নতি হবে। ১ আগস্ট থেকেই নতুন সিদ্ধান্ত চালু হবে।


























