spot_img

ঠাকুরগাঁওয়ে মান্নান হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে দত্ত পরিবারের সম্মান নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে একটি কূচক্রি মহল

মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও ,

জনতারআদালত.কম , ১৯ জুলাই, ২০১৭ ।

 

ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মান্নান হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে দত্ত পরিবারের সম্মান নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে একটি কূচক্রি মহল বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি,বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের জেলা সভাপতি ও দৈনিক ঠাকুরগাঁওয়ের খবর পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি অরুণাংশু দত্ত টিটো।

তিনি মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন,আমি সুস্থ্য ও স্বচ্ছ ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। অন্যায় যদি কেউ করে থাকে সেই অন্যায়ের দ্বায়ভার সম্পুর্ণ অন্যায়কারি ব্যক্তির।এর দায় দল ও পরিবার নিতে পারে না। সম্প্রতি সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মান্নান হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে আমার পরিবারের সম্মান নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি স্বার্থান্বেষী কূচক্রি মহল। তাদের এ অসৎ উদ্দেশ্য কোন দিনই সফল হবে না।ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণ তা প্রতিহত করবে বলে জানান তিনি।

সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসির মতো আমিও চাই সহকর্মী মান্নান হত্যার সুষ্ঠ বিচার।চাই হত্যাকারিদের কঠিন থেকে কঠিনতর সাজা। কিন্তু হতাশাজনকভাবে লক্ষ করছি হত্যাকারি হিসেবে শান্ত ও সজিবকে চিহ্নিত করার পরও শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাবে ফায়দা হাসিলের লক্ষে এবং দত্ত পরিবারকে কুলষিত করতে এ মামলায় জাড়ানো হচ্ছে সজিবের বড় ভাই সমির দত্তকে। যে সমির দত্ত কিনা মাঠের রাজনীতিতে থেকে দিনরাত পরিশ্রম করে নিজের মেধা ও ভালোবাসায় খুব স্বল্প বয়সে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয় ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে। নির্বাচিত হয় কেন্দ্রীয় আখচাষী সমিতি ঠাকুরগাঁও এর সভাপতি,জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা যুবলীগের সা: সম্পাদক।

সমির দত্ত শুধু রাজনীতিই নয় ছাত্রজীবন থেকে খেলাধুলার সাথে জড়িত থেকে কৃতি ফুটবলার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে মুখ উজ্জ্বল করে জেলা ক্রীড়াঙ্গনের।পর পর দু’বার সে জেলা ব্যাডমিন্টন টুর্ণামেন্টে চাম্পিয়ন খেতার অর্জন করে। তার এ সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করতে মান্নান হত্যাকান্ডকে পুজি করে মিডিয়ার মাধ্যম্যে ছড়ানো হচ্ছে মিথ্যা-বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কিছু তথ্য।যার সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই।আমি উক্ত প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাই।

১৮ জুলাই দেশের বেশ কটি পত্রিকায় পাগলুর টোল আদায়কে কেন্দ্র করে হত্যাকান্ড সংগঠিত হয় এবং সমির দত্তকে জমি দখলকারি ও আড়তের চাঁদা আদায়কারি হিসেবে উল্লেখ করে যে সংবাদ প্রকাশ করে তা আদৌও সত্য ও সঠিক তথ্য নির্ভর নয়। কেননা পাগলুর প্রতিটি স্ট্যান্ডেই রয়েছে নির্দিষ্ট জনবল। এতে সম্পৃক্ত হয়ে শতাধিক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।শ্রম দিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ করছে তারা।তাদের মজুরি দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা ব্যয় করা হয় দুস্থ্য ও অসুস্থ শ্রমিকদের পিছনে। সংবাদে উল্লেখ করা হয় শিল্পকলা একাডেমির পাশের ৮০ভাগ জমি দখল করে বসতবাড়ি বানায় সমির।

আমার জানা মতে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সন্তোষ আগরওয়ালার কাছ থেকে সমির জমিটি ক্রয় করে বাসা বানায়। এছাড়াও জেলা কাঁচামাল আড়তের চাদাবাজির কথা প্রকাশ পায় সংবাদে। মুলত: ঠাকুরগাঁও পৌরসভা থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে কাঁচামাল আড়তটি যৌথভাবে ডেকে নেয় বিশিষ্ট চাল ব্যবসায়ী মো: মোস্তফা ও সমির দত্ত এবং সেখানেও কিছু দলীয় ছেলের মাথা গোজার ঠাই তৈরী করে দেয়া হয়। তাছাড়া এটা যে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ তা বোঝা যায় সংবাদকর্মীর গাণিতিক ব্যাখ্যায়।সেখানে সু-কৌশলে পাঠকের কাছে তুলে ধরা হয় ৯ কোটি টাকার একটি ফিগার।যা চমকে যাওয়ার মতো।

উল্লেখ করা হয় একদিনে আড়তে আয় হয়-২৫,০০০টাকা, মাসে- ৭,৫০,০০০ টাকা এবং বছরে ৯০ লক্ষ কে পাঠকের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ৯ কোটি।যদিও পুরো হিসেবটাই মনগড়া। এমনকি এসবের সাথে মান্নান হত্যাকান্ডের কি যোগসুত্র তাও খোলাসা করেননি প্রতিবেদক।এমনও লক্ষ করা গেছে একটি পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদ হুবহু বিভিন্ন পত্রিকায় সরবরাহ করা হয়েছে সু-কৌশলে যা তদন্ত করলে প্রকাশ পাবে। এছাড়া একটি কূচক্রি মহল সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে সম্প্রতি খুনের বিচার চেয়ে শুধুমাত্র সজিবের ছবি যুক্ত করে ঠাকুরগাঁওবাসির ব্যানারে একটি পোষ্টার তৈরী করে সারা শহরময় ছড়িয়ে দিয়েছে।যেখানে আমরা সবাই জানি মান্নান হত্যাকান্ডের সাথে শান্ত ও সজিব জড়িত,সেখানে শুধুই সজিবের ছবি জুড়ে দিয়ে কি বোঝাতে চায় তারা? সর্বোপরি বলতে চাই ব্যক্তি শত্রুতাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করবেন না।

এতে আপনি যতোটা লাভবান হবেন তারচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দল।তাই আসুন কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করি। জেলা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যার মুল দুই আসামীর মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আশাকরি মান্নানের অপর খুনি শান্তকেও দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন তারা। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করবো কাউকে খুশি করতে নয়,ন্যায় বিচারের স্বার্থে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকান্ডের মুল রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করবেন। অপরদিকে মান্নান হত্যাকান্ডে জড়িতের অভিযোগে জেলা যুবলীগের সা: সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমিরকে গ্রেফতার করায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল।তিনি বলেন,এ হত্যাকান্ডে কোনভাবেই যুবলীগের সা: সম্পাদক জড়িত নন।ঘটনার দিন তিনি তার অসুস্থ্য বাবাকে নিয়ে চিকিৎসার কাজে রংপুরে গিয়েছিলেন।তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করায় আমি তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে তার নি:শর্ত মুক্তির দাবি করছি।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ