মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও , জনতারআদালত.কম । ২১ অক্টোবর, ২০১৭ ।

চরম আবাসন সংকটের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী। সরকারিকরণের ৩০ বছরেও শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক হোস্টেল নির্মাণ হয়নি। এতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা বিষয়ে আতঙ্কে থাকেন সব সময়।
জানা যায়, ১৯৬৩ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় পীরগঞ্জ কলেজ। পরে ১৯৮৭ সালে এ কলেজ সরকারি হয়। এ প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ও ডিগ্রি (পাস) কোর্সের পাশাপাশি ৬টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে। বর্তমানে এ কলেজে অধ্যয়নরত বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য সরকারিকরণের ৩০ বছরেও গড়ে তোলা হয়নি সরকারি আবাসন ব্যবস্থা। তবে বেসরকারি আমলে একটি ছাত্র হোস্টেল থাকলেও কলেজ সরকারিকরণের পরও সে হোস্টেলটি আর সরকারিকরণ হয়নি।
মাত্র ৬০ ছাত্রের আবাসিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম হোস্টেলটি এখন চলছে কোনো মতে। জেলার পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কলেজ না থাকায় এসব উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পীরগঞ্জ সরকারি কলেজে লেখাপড়া করেন। ঝর্ণা নামে অনার্স পড়ূয়া এক শিক্ষার্থী জানান, তুলনামূলক কম খরচের আশায় তার দরিদ্র বাবা অনেক স্বপ্ন নিয়ে জেলার হরিপুর উপজেলা থেকে তাকে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজে ভর্তি করেছিলেন।
কিন্তু কলেজ হোস্টেল না থাকায় মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে কলেজে ভর্তির পর থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে বাসা ভাড়া নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আমিনুর রহমান নামে এক প্রাক্তন ছাত্র জানান, আবাসন সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটায়। নিজেদের সাধ্যের মধ্যে ব্যাচেলরদের জন্য বাড়ি ভাড়া পাওয়া বেশ দুস্কর। আর যা পাওয়া যায়, তার ভাড়া অনেক। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসম্মত মেসে থাকাও সম্ভব হয় না।
কলেজ হোস্টেল না থাকায় প্রকৃত ভাড়ার দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা খরচ করে বাইরে থাকতে হয় তাদের। এতে বাড়িতে বাবা-মায়ের ওপরও আর্থিক অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিষয়ে সেলিম রেজা নামের এক অভিভাবক জানান, হোস্টেল না থাকার বিষয়টি অনেক সময় কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন করে। নতুন কেউ কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে যখন জানতে পারে, এখানে আবাসন সুবিধা নেই, তখন তাদের আগ্রহ কমে যায়।
সরকারি কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, এক শিক্ষার্থীকে হোস্টেলে রাখলে যেখানে থাকা-খাওয়া বাবদ মাসে সর্বোচ্চ ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা খরচ হতো, সেখানে বাইরে মেসে থাকতে গেলে সর্বনিম্ন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লাগে। এ ক্ষেত্রে যারা নিজেদের পড়ার খরচ নিজেরা বহন করে, তাদের জন্য পড়াশোনা কম করে থাকা-খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত কাজের চিন্তা করতে হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সামসুল কালাম আজাদ কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেলের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন হোস্টেল নির্মাণ করতে এবং ছেলেদের পুরনো হোস্টেল বর্ধিতকরণে জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি শিগগিরই ভালো ফল পাব।


























