রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর,
জনতারআদালত.কম । ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

জামালপুর শহরের মনোয়ার প্রেক্ষাগৃহের সামনে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মমিনুল ইসলাম জিসান নামের এক ছাত্র খুন হয়েছে। রোববার রাত ১১টার দিকে নৃশংস এই খুনের ঘটনা ঘটে।

নিহত জিসান জামালপুর সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র। সে ওই বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে শহরে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও দুই শতাধীক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মমিনুল ইসলাম জিসান (১৬) জামালপুর শহরের মুসলিমাবাদ এলাকার দরিদ্র মো. মজিবর রহমানের ছেলে। সে জামালপুর সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র। স্কাউটিং ও বিভিন্ন জ্ঞান জিজ্ঞাসা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াসহ পড়ালেখার প্রতি তার খুবই আগ্রহ ছিল।

জিসান কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রোববার রাতে শহরের মনোয়ার প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র দেখতে যায়। প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে মুঠোফোনের বাতি জ্বালানো নিয়ে কয়েকজন যুবকের সাথে জিসানের কথা কাটাকাটি হয়। চলচ্চিত্র দেখে তারা রাত ১১টার দিকে প্রেক্ষাগৃহের বাইরে বের হলে ওই যুবকেরা জিসানকে আটক করে মারধরের একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করলে জিসানের পেটের ভুড়ি বের হয়ে যায়। এ সময় তার ক্ষত স্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়রা ছুটে গেলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে কেটে পড়ে। পরে স্থানীয়রা জিসানকে মুমুর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত দু’টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌমিক কুমার ভৌমিক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় জিসানকে হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জামালপুর শহরের ব্যবসায়ী, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-জনতা সোমবার সকালে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে তারা আগমী ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। অপরদিকে মুসলিমাবাদ সমাজ কল্যাণ সমিতির নেতাদের আহ্বানে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শহরের তমালতলা মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশে জিসানের খুনিদের আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন রেজাউল করিম রেজনু, বাংলাদেশে দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, মুসলিমাবাদ সমাজকল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা মাজেদুল ইসলাম সাত্তার, ব্যবসায়ী সুভাষ সাহা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিহাদুল আলম নিহাদ, শহর ছাত্রলীগের সভাপতি নূর হোসেন আবাহনী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে সড়ক অবরোধ তুলে নিলেও নিহত জিসানের নামাজে জানাজা না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনার প্রতিবাদে জামালপুর শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে সোমবার সকাল থেকেই শহরের দয়াময়ী মোড়, মেডিকেল রোড, সকাল বাজার ও তমালতলা এলাকার দুই সহস্রাধিক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

জামালপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম সোমবার দুপুরে বলেন, নিহত ছাত্র জিসানের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


























