রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর ,
জনতারআদালত.কম । ২০ আগষ্ট, ২০১৭ ।

‘এডিআইসি গুন্দু পানি দেখিয়ে ওবাই জায়গা। ইশকুলের ভিতরে কেউ আইতে চায় না। আইত হলে ঘুমাইতে পারি না, হাতে ঠ্যাঙ্গে ঘাঁ যেন মরিচের মত জ্বালাপোড়া করে।কোনো ডাক্তার ডুক্তার আহে না, আমগো মলম আর ওষুধ দেন।’ এভাবে কথাগুলো বলছিলেন. দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার প্রদ্যুৎনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূ আরিফা।
জানা গেলো, এ আশ্রয় কেন্দ্রে ৭০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।তাদের সবার বাড়ি চুকাইবাড়ি গুচ্ছগ্রামে। আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূ রাহেলা, কারিফুল, পানফুল ও দুদু জানান, তারা ছয়দিন ধরে ওই বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। মাঠে জমে থাকা বন্যার পানি পঁচে গন্ধ হয়েছে। হাতেপায়ে ঘাঁ মরিচের মত শরীর জ্বালাপোড়া করে। বিদ্যালয়ের ফটকে এসে পঁচা পানি দেখে লোকজন চলে যায়। কোনো স্বাস্থ্যকর্মী সেখানে যান না।
দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌরসভার শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। কবিতা, মুর্শেদা, ফুলবেগমসহ আরও অনেকেই জানান, তারা সেখোনে ছয়দিন ধরে আশ্রয় নিয়েছেন। শিশু ও নারীদের হাতে-পায়ে ঘাঁ ও বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রের নারীরা জানান, এখানে হাতেপায়ে ঘাঁ দেখা দিয়েছে। কোনো স্বাস্থ্যকর্মী দেখতে যাননি। এই কেন্দ্রে শিশু আপনের পিতা জানান, আশ্রয় কেন্দ্রে অধিকাংশ শিশুর জ্বর ও শরীরে ফোঁড়া দেখা দিয়েছে।
চুকাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান জানান, এ ইউনিয়নের সবখানেই বন্যার পানি। তিনটি আশ্রয় কেন্দ্রে শনিবার পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখা যায়। শনিবার প্রদ্যুৎনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর সামনে জলাবদ্ধ পানি পঁচে গন্ধ ছড়াচ্ছে। গরু-ছাগল নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সংবাদকর্মী দেখেই তারা অনুরোধ করে বলেন, মলম আর জ্বরের বড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে বলেন, বন্যাদুর্গতদের জন্য নয়টি স্বাস্থ্য-চিকিৎসা দল ও দুটি ভ্রাম্যমাণ দল গঠন করা হয়েছে অনেক আগেই। তার দাবি সব কেন্দ্রেই স্বাস্থ্য কর্মীরা সেবা প্রদান করছেন।
এ প্রসঙ্গে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, বিষয়টি খোঁজজ নেওয়া হচ্ছে।


























