রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর,
জনতারআদালত.কম , ২১ জুলাই, ২০১৭ ।

জামালপুরের ইসলামপুর আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলাল বলেছেন, বিগত সাড়ে আট বছরে ইসলামপুরে কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ লোকের সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কর্মসংস্থান হয়েছে। চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী মেধা যাচাই করা হয়েছে।
ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামপুর প্রেসক্লাবে ইসলামপুরের উন্নয়নের অগ্রগতির মূল্যায়ন ও ভবিষ্যত করণীয় শীর্ষক সাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় তিনি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। এ সময় তিনি এ উপজেলায় অগ্রাধিকারভিত্তিক যেসব উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষম হন, সেগুলো সাংবাদিকদের কাছে অবহিত করেন।
ফরিদুল হক খান দুলাল জানান, ইসলমাপুরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় তার সময়ের মধ্যে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ৫৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ২০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সেতু নির্মিত হয়েছে। ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য ইসলামপুর-বেনুয়ারচর, ইসলামপুর-ঝগড়ারচর এবং ইসলামপুর-বকশীগঞ্জ সড়ক নির্মাণ ও পাকা করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ও ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপিত হয়েছে। ইসলামপুর পৌরসভাকে ‘সি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হয়েছে। ইসলামপুর কলেজকে সরকারি কলেজে উন্নীতকরণ এবং ১১টি বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও চারটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর বিষয় চালু করা হয়েছে। ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশনের সংস্কার এবং প্লাটফরম নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইসলামপুর হাসপাতালকে ২০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় রূপান্তরকরণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহ চালুকরণ ও নতুন ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। ইসলামপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা, মাদরাসা শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নতুন নতুন শিক্ষা ভবন নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ গরুচুরি, চুরি-ডাকাতি বন্ধে ডিগ্রির চর ও গুঠাইলে দুটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন, গৃহহারাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনস্বার্থে গ্রামীণ অবকাঠামো, পাকা সড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পানীয় জল, স্কুল খাদ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৫৪৭ দশমিক ছয় কিলোমিটার বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানসহ মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশান ঘাটসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হয়েছে।
ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি এবং আনুকূল্য থাকায় ইসলামপুর উপজেলায় উন্নয়ন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। উন্নয়নের ধারণাটি কোনো অলীক বিষয় নয়, বাস্তব এবং দৃশ্যমান। আমার নির্বাচনী এলাকায় কি কি উন্নয়ন হয়েছে তা আজকে দিবালোকের মতো দৃশ্যমান। এরপরও বহু প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন এবং পরিকল্পনাধীন রয়েছে। উন্নয়নের এই অগ্রগতিকে আরও বেগবান এবং সার্থক করতে সরকারের ধারাবাহিকতা একান্ত প্রয়োজন।
তিনি নেতা-কর্মীদের পরস্পরবিরোধী অপপ্রচার এবং কুৎসা রটনা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রয়াস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, অনেকের মান অভিমান মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। এটাই স্বাভাবিক। এটাও রাজনীতির কর্মকান্ডের একটা অংশ। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব-কলহ, দ্বিধা-বিভক্তি সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই।
মতবিনিময় সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আব্দুস সালাম, সহসভাপতি আব্দুল লতিফ সরকার, আব্দুর রাজ্জাক লাল মিয়া, যুগ্মসম্পাদক ও এম এ সামাদ পারভেজ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জামান আব্দুন নাসের চৌধুরী চার্লেস, ইসলামপুর কলেজের উপাধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারী, অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হক, ক্রীড়া সম্পাদক খলিলুর রহমান, প্রচার সম্পাদক পরিতোষ সেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় জামালপুর ও ইসলামপুরে কর্মরত ৭০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।


























