spot_img

জামালপুরের ইসলামপুরে সাপধরীতে বিদ্যালয় বিলীন, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর,

জনতারআদালত.কম , ১৮ জুলাই, ২০১৭ ।

বন্যা ও ভাঙনে বিধ্বস্ত ইসলামপুরে সাপধরী চেঙ্গানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : জনতার আদালত.কম

 

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বন্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যাকবলিত হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যমুনার চরের বন্যাদুর্গত শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা নিয়ে চরম হতাশা ও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে চেঙ্গানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ৩১২ জন শিশু শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টির চারজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন বন্যার পর অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দিবে বলে জানিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা কোথায় লেখাপড়া করবে এমন প্রশ্নে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের হতাশার কথা জানিয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ফারুক মিয়া বললো, আমাদের বিদ্যালয়টি নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় বিলীন হওয়ায় আমাদের মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেছে। ওই দেওয়ালের মায়ায় মনটা পুড়ায়। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুমি আক্তার বললো, এখন কই পড়মু। বাইত পানি উঠছে। আমগরে পড়া এহন বন্ধ। পড়বের পাইনে। পানি শেষ হলে কেডা পড়াবো। কুনু বয়ে পড়মু। আপনেরা কনত দেখি। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিতালী জানান, স্যারেগরে দেহা পাইছিলাম। কইলাম স্যারেরা তো কিছু কইল না। আপনেরা কনত স্কুল আবার কোঠাই করব। পানি কমলে কোঠাই আমগরে পড়াবো স্যারেরা। এমনিভাবে একাধিক শিক্ষার্থী তাদের আবেগপ্রবণ কথাগুলো জানালো।

ওই এলাকার তারা মিয়া জানান, আসলে পানি কমলে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ঠিতমত লেখাপড়া করতে পারে সেদিক থেকে দ্রুত সরকার একটা ব্যবস্থা করে যেন। আর স্যারেরা যাতে ঠিকমত আসে সেই ব্যবস্থাও যেন করে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বললেন, যেদিন বিদ্যালয়টি ভেঙে গেছে আমি সারাদিন ভাত খাইনি। আসবাবপত্রসহ সব আমার নিজের হাতে গড়া ছিল। ৩১২ জন শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত দিক বলতেই কেঁদে ফেললেন।

সাপধরী ইউনিয়নের আজিজুর রহমান চৌধুরী বললেন, যমুনার পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো প্রতিনিয়তই নদী ভাঙনে পড়ে। তবে স্থানান্তরযোগ্য স্থাপনা নির্মাণ করলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতি হবে না বলে আমি মনে করি।

সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বললেন, বন্যা ও নদী ভাঙনে বিদ্যায়টি বিলীন হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছে। সরকার যাতে দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনে সেই দাবিই জানাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে ইসলামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম এহছানুল মামুন জানান, বন্যার পানি সরে গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ