spot_img

ছড়া খননে চন্দ্রডিঙ্গায় বাড়ছে ফসলবৈচিত্র্য

মো. অহিদুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার :
নেত্রকোনার সীমান্ত অঞ্চলের অঞ্চলে পাহাড়ী ঢলে জমিতে বাড়ছে বালি,পানীয় জলের সংকট। কৃষক জমিতে চাষ করতে না পেরে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। সীমান্তে প্রতিবছই জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্যোগ। নেত্রকোণা সীমান্ত অঞ্চলের গ্রাম চন্দ্রডিঙ্গা, বেতগড়া,হাতিবের। এই তিনটি গ্রামের প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমি পাহাড়ী ঢলে বালিতে ঢেকে যায় প্রতিবছর। ভরাট হয়ে যায় পাহাড়ী ছড়াটি। পানি ছড়া দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে সরাসরি কৃষি জমি ও মানুষের বাড়ির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত কয়েক বছর ধরে বালি এসে জমি,বসতভিটা এখন সম্পূর্ণ বালির দখলে । অনেকেই জমি হারিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বাস্তু হয়ে এলাকা ছেড়েছে জীবিকার প্রয়োজেনে। কোন শস্যফসল হচ্ছেনা এ জমিতে । জমির অনেক মালিক হয়ে পড়ে ভূমিহীন। পরিণত হয় জলবায়ু উদ্বাস্তুতে।
নিজ গ্রাম বসতভীটা ছেড়ে চলে যায় অন্যগ্রামে। অনেকেই কৃষি পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। বালির আগ্রাসন থেকে জমি ও বসতভীটা রক্ষার জন্য জমির উপর দাঁড়িয়ে মানববন্ধন, গ্রামের মানুষকে নিয়ে গ্রাম আলোচনা, সংগঠনে আলোচনা, ইউনিয়ন,উপজেলা,জেলা পর্যায়ে প্রশাসন,স্থানীয় সরকার,সাংবাদিক,রাজনীতিবিদ,লেখক গবেষক, সীমান্তের কৃষক নিয়ে সংলাপ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তিন গ্রামের মানুষের কৃষি জমি ও জীবনজীবিকা রক্ষার দাবী করে আসছিলেন। জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক চন্দ্রডিঙ্গা বাঁধরক্ষা সংগঠনের সাথে কৃষিজমি,কৃষিফসল ও আদিবাসি,মুসলিম পরিবারগুলো টিকে থাকার পরিবেশ সংগ্রামের সাথে উদ্যোগের সাথে কাজ করছে গত ৫ বছর ধরে। এলাকার কৃষি প্রতিবেশ রক্ষা,পরিবার গুলো খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে টিকে থাকার উপায় হিসেবে প্রায়োগিক কৃষি গবেষণা, বালিসহনশীন শস্যফসল উৎপাদন ও পারিবারিক কৃষির উপর কাজ করে যাচ্ছে। বালির সাথে কৃষকদের চলছে একধরণের যুদ্ধ। কাজের ধারাবাহিকতায় জাপানি দাতা সংস্থা শেয়ার দ্যা প্লানেট এসোসিয়েশনের টিমের এলাকা পরিদর্শন ও আর্থিক সহযোগিতায় ২৫০০ ফুট ছড়া খননের সিদ্ধান্ত হয়। ছড়াটি খননে এলাকার কৃষিজমি আবার চাষ করতে পারবে কৃষক,নিজবাড়িতে সবজী ও বসতভীটায় বাগান করে জীবন ধারণ করতে পারবে। ১২ এপ্রিল ২০২৩ কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে ৩৭৪০ ফুট দীর্ঘ এই ছড়াটির দুপাড় ১৩৫০ বাধাই ও খননের কাজ শুরু হয়ে ২৬ এপ্রিল শেষ হয়। খননের পাশাপাশি ঝুকিপূর্ণ অংশে কম্বল ও মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে বাঁধাই করা হয়। ছড়া খননের ফলে এলাকার ৩০০ একর জমিতে ধান,সবজী চাষ করতে পারছে। ছড়ার পানি দিয়ে জমিতে চাষ করতে পারছে কৃষক। যে জমিতে ছিলো শুধু বালি সেখানে বাদাম, মিষ্টিআলো ও ভূট্টা চাষ করতে পারছেন আদিবাসি কৃষকেরা।
২০২৪ সালে এসে কমলাকান্দা উপজেলা পর্রিষদ এলাকার মানুষের কৃষিজমিতে বালির সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে ছড়াটি স্থায়ীভাবে খননের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরী করে জমা দিয়েছেন। কাজটি দ্রæত শুরু হবে। তাছাড়া চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামের গোসলের পানির জন্য সীমান্তের অপারে যেতে হতো। এখন ছড়াতেখননের পানিতেই তারা গোসল করতে পারেন। একটি ছড়া খননের ফলে গ্রামের মানুষের কৃষি সেচের পানি, গোসলের পানি,সবজী উৎপাদনে পানি ও পাহাড়ী ঢল থেকে বসতভীটা রক্ষা পাচ্ছে। চন্দ্রডিঙ্গা,বাঘবের,বেতগড়া গ্রামের মানুষের জলবায়ু সংকট মোকাবেলা এই ছড়া বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামের কৃষক পরিমল রেমা বলেন,“ ছড়া খননের ফলে আমার কৃষিজমি রক্ষা পেয়েছে। আমি ৫০ শতক জমিতে মিষ্টি আলু,বাদাম,ভূট্টা চাষ করে ভালই লাভ করেছি। আমার মতো সাবিনা রেমা,হৃদয় হাজং,সুনিল রিচিল তার জমিতে চাষ করে ফসল ফলাইতে পারছে।”
চন্দ্রডিঙ্গা এলাকায় কৃষকেরা নিজ বাড়িতে সবজী চাষ করতে পারছে। বস্তায় চাষ করছে মরিচ,পুইশাক,বেগুন, করল্লা,শশা।আগামিবছর আরো বেশী জমিতেচাষ করতে পারবেন বলে আদিবাসি কৃষকেরা জানান।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ