spot_img

গৃহকর্মী আদুরি নির্যাতন মামলায় গৃহকর্ত্রীর যাবজ্জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম , ১৮ জুলাই, ২০১৭ ।

 

মিরপুরের পল্লবীতে নির্মম নির্যাতনের পর শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ডাস্টবিনে ফেলে রাখার ঘটনায় গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মামলার আরেক আসামী নওরীন জাহান নদীর মা ইশরাত জাহানকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা বলেছে আসামি পক্ষ। রায়ের পর নওরীনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুরু থেকেই বাদি পক্ষের সঙ্গে মামলার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক। রায়ের সময় নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী আদুরি আদালতে হাজির ছিলো।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা ও ডিওএইচএস তেলের ডিপোর মাঝামাঝি রেললাইন সংলগ্ন একটি ডাস্টবিনের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কঙ্কালসার ও মৃতপ্রায় গৃহকর্মী আদুরিকে। উদ্ধারের সময় তার শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। মারধর, গরম খুন্তি ও ইস্ত্রির ছ্যাঁকা, ব্লেড দিয়ে শরীরে আঘাত, মাথায় কোপ, খেতে না দেওয়া- কিছুই বাদ যায়নি নির্যাতনের তালিকা থেকে।

প্রায় দেড় মাস আদুরিকে চিকিৎসা দেয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সুস্থ অবস্থায় যখন তাকে রিলিজ দেয়া হয় তখনও সে ভালোভাবে কথা বলতে পারত না। শরীর প্রচণ্ড দুর্বল ছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ওই বছরের ৭ নভেম্বর পটুয়াখালী জেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের নিজ গ্রামে ফিরে যায় আদুরি।

ওই ঘটনায় ২৬ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় নওরীন জাহান নদী, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম মাসুদ, মাসুদের দুলাভাই চুন্নু মীর ও তাদের আত্মীয় রনিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তবে পুলিশি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার্জশিট থেকে মাসুদ, চুন্নু মীর ও রনির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তদন্তে নদীর মা ইসরাত জাহানের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় নতুন করে তাকে আসামি করা হয়।

মামলার পর ২৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় নদীকে। সেই থেকে নদী কারাগারে আছেন। জামিনে রয়েছেন তার মা ইসরাত জাহান।

 তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পরের বছর ২০১৪ সালের ৬ জুন আদালত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।  ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৮ জুলাই মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ