spot_img

গারো পাহাড়ের শান্তির দূত ‘ রুহী ‘

ময়মনসিংহ ব্যুরো, জনতারআদালত.কম । ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ।

                                                মোশতাক আহমেদ রুহী

মোশতাক আহমেদ রুহী ‘ নেত্রকোনার একজন নিবেদিত প্রাণ, নেত্রকোনা -১ (কলমাকান্দা -দুর্গাপুর) এর সাবেক সংসদ সদস্য।

২০০৮ সালের নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক তুলে দেন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ মোশতাক আহমেদ রুহীর হাতে। দূর্গাপুর কলমাকান্দার ইতিহাসে রেকর্ড করা ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। অত:পর সর্বদা অবহেলিত নির্বাচনি এলাকার উন্নতি ছিল তাঁর মূল স্বপ্ন। স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে কাজ করেছেন। আজ অনেক অনুমোদিত প্রকল্প তদারকির অভাবে মৃত প্রায়। সব প্রকল্প এই চার বছরে বাস্তবায়ন হয়ে যেত। বলতে দ্বিধা নেই এত অবকাঠামো উন্নয়ন পূর্বে কেউ করতে পারেনি। বৈচিত্রময় উন্নয়ন কাজ ছাড়াও বীরশহীদ স্মৃতিস্তম্ভ-শহীদ মিনার, বিভিন্ন ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিস, বদ্ধভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করেন। প্রথম সরকারী উদ্যোগে নাজিরপুর যুদ্ধ দিবস পালনের উদ্যোগ নেন।

দুর্গাপুর কলমাকান্দার সাধারণ জনতার জন্য শিক্ষা, চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন ছাত্রজীবন থেকেই। এই অঞ্চলটি নিচু হওয়ায় প্রতিবছরেই বন্যার কবলে হারাতে হতো কৃষি সম্পদ। ছুটে যেতেন ত্রাণ নিয়ে জনসাধারণের মাঝে। সরকারি কিছু সাহায্যের পর মানুষ একমাত্র যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য তরুণ রাজনীতিবিদ এই নেতার কাছ থেকেই সাহায্য পেত। ত্রাণের উৎস পৈত্রিক সম্পদ বিক্রি, ধার করা অর্থ, স্বজন বন্ধুদের সহযোগিতা। সেই সময়ে সর্বসাধারণের স্লোগান ছিল ক্ষরা বন্যায় যাকে পাই সে মোদের রুহী ভাই। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদক তরুণ সমাজকে যেন ধ্বংস না করতে পারে সেজন্য নিজে শুরু করেন চোরাচালান প্রতিরোধে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান। এই সময়ে দুর্গাপুর কলমাকান্দার দুর্বৃত্তগুলো হয় ভালো হয়েছে না হয় এলাকা ত্যাগ করেছে। বন্ধ হয় ডাকাতি চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। মানুষ পায় স্বস্তির নিঃশ্বাস।

রক্তাক্ত ও সহিংস এ জনপদে তাঁর আমলে সাধারণ মানুষ ঘরের দুয়ার খুলে ঘুমাতো। থানাগুলোতে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন যে কোনো প্রকার মিথ্যা মামলা হয়রানি চলবে না। কেউ থানায় দালালি করতে পারবে না। বন্ধ হলো মামলা নির্যাতন। নিজের অর্থ দিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ফেরিঘাটগুলোতে বন্ধ করলেন ফেরি পারাপারে অতিরিক্ত টাকা আদায়। কড়া নির্দেশ করলেন কোনো প্রকার দরবার বাণিজ্য চলবে না। ব্যবসায়ীগণ চাঁদার হয়রানিতে জর্জরিত ছিল। ব্যবসায়ীদের নিয়ে মিটিং করে বন্ধ করলেন চাঁদাবাজি। রাজনৈতিক কর্মসূচির খরচ নিজের পকেট থেকে দিতেন। এমনকি জাতীয় শোক দিবসের ব্যয়ও নিজে নির্বাহ করতেন। স্থানীয় সকল আমদানীকারকদের জন্য স্থলবন্দর উন্মুক্ত করে দেন। শত শত দলীয় নেতাকর্মী বালুমহালগুলোতে উপকারভোগী ছিলেন।

ঝান্জাইল থেকে রাস্তার একটি কাজ মামলার কারণে বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। যার কারণে মানুষের অনেক দুর্ভোগ ছিল। ঠিকাদারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামলা তুলে রাস্তা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

মারামারি কাটাকাটির আতঙ্ক ভুলেই গিয়েছিল এ জনপদের মানুষ। পাঁচ বছরের নেতৃত্বে এলাকায় কোনো রকম দাঙ্গা হাঙ্গামা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার, জমি দখল, লুট, দুর্নীতি, অর্থের বিনিময়ে কাউকে চাকরি দেওয়া এমন কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটেনি এক বাক্যে স্বীকার করে এলাকাবাসী তাকে ভুলতে পারে না।

সেই সময়ে আরেকটি শ্লোগান ছিল ‘ আমরা যারা শান্তি চাই নেতা মোদের রুহী ভাই ‘।

অসহায় অতি দরিদ্র আর্তমানবতার জন্য এ নেতার নীরব মায়া লক্ষ করা যেত। দানশীলতায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। গরিব মানুষের চিকিৎসা, বিয়ের ও লেখাপড়ার খরচ দিতেন। শিক্ষানুরাগী রুহী শিক্ষা খাতে স্থানীয়ভাবে বহুবিধ অবদান রেখেছেন । কলমাকান্দায এইচএসসি ও ডিগ্রী পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন অভিভাবকদের স্বস্তি এনে দিয়েছিল । শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। শিশুরাও তাকে তার নাম ধরে ডাকতো। স্কুল ফিল্ডিং কর্মসূচিতে প্রাইমার স্কুলের বাচ্চাদের জন্য কলমাকান্দায় টিফিনের ব্যবস্থা করেন । এরিয়া বাংলাদেশ নামক এনজিওর চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিসেফের ফান্ড সংগ্রহ করে দরিদ্র শিশু কিশোর শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করে মাথাপিছু ১২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা প্রদানের মাধ্যমে শত শত পরিবারের উপকার করেন।

উন্নয়নের আলোকবর্তিকার বহুমুখী উদ্যোগে এলাকার সর্ব সাধারণের আর্থসামাজিক জীবনমান অল্প সময়ে ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছিল। তিনি অসাম্প্রদায়িক মনভাবাপন্ন একজন মানুষ, সকল ধর্মের মানুষের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক।তাছাড়া একজন ক্রীড়া প্রেমী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও তাঁর নাম সমুজ্জ্বল।

ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে নিঃসন্দেহে সফল ছিলেন জনাব মোশতাক আহমেদ রুহী। নতুন নতুন অনার্স-মাষ্টার্স কোর্স, মেধা অনুসারে ভর্তি, আভ্যন্তরীন বিভিন্ন উন্নয়ন, বহুমাত্রিক অগ্রগতিমূলক কাজ ও সমাজসেবামূলক কাজে অবদান রাখা সর্বোপরি নেতৃত্বে দক্ষতা ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ফলে জনপ্রিয়তা অক্ষুন্ন ছিল।

আলোকে কখনো বাধা দেওয়া যায় না, আলো তার নিজস্ব প্রতিভায় সদা প্রজ্জলিত।একইভাবে জীবনযুদ্ধে অনেক চড়াই উৎরাই অতিক্রম করেছেন  বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী এই তুখোড় সংগ্রামী ছাত্রনেতা ।

জনসেবামুখি, সদালাপী, জনদরদী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি ও আদর্শের সৈনিক, তুখোড় আওয়ামী রাজনীতিবিদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন দেশপ্রেমিক, জননন্দিত সাবেক ছাত্রনেতা মোশতাক আহমেদ রুহীকেই কলমাকান্দা -দুর্গাপুর এলাকাবাসী দল, মত, গ্রুপিং নির্বিশেষে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  নেত্রকোনা -১  সংসদীয় আসনের কান্ডারী হিসেবে উপযুক্ত ব্যক্তি বলে মনে করেন ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ