খুলনা ব্যুরো , জনতারআদালত.কম , ২৮ আগষ্ট, ২০১৭ ।

দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি গত নির্বাচন বর্জন করেছিলো । তবে, এবার আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলে আসছে দলটি । যদিও ইতোমধ্যে বিএনপি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। এমনকি জনগণকে সাথে নিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কোনও নির্বাচন হতেও দেবে না।
কিন্তু, ভিতরে ভিতরে দলটি আগামী নির্বাচনের জন্য জোরে-সোরেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে বিএনপি এবং নিজস্ব গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ৩০০ সংসদীয় আসনের একটি প্রাথমিক তালিকাও ইতিমধ্যে তৈরি করেছে তারা ।
সূত্রমতে, এবার জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এলাকায় কার কতোটা জনপ্রিয়তা আছে তা যাঁচাই করা হয়েছে।
বিপদে কর্মীদের পাশে কে থাকছেন, তাও দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীর দলীয় অবস্থান কেমন সেটাও দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সম্পর্কেও প্রতিনিয়ত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে বিএনপি।
এই প্রাথমিক তালিকা নিয়েই দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে লন্ডনে আছেন দলটির ভবিষ্যত কান্ডারী তারেক জিয়ার বাসায় ।
সেখানেই বিএনপির কিছু জোষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে ৩০০ সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত তালিকাটি বলে মনে করছেন দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ । যোগ্য প্রার্থীদেরই দল মনোনয়ন দেবে বলে জানান তারা।
বিএনপির দলীয় সূত্র থেকে পাওয়া প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী খুলনা বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন –
চুয়াডাঙ্গা জেলাঃ
চুয়াডাঙ্গা–১ (আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা সদরের কিছু অংশ): বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, দুদুর ভাই ও বিলুপ্ত জেলা কমিটির ১ন যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, সদস্য লে. ক. (অব.) কামরুজ্জামান, শরিফুজ্জামান শরিফ।
চুয়াডাঙ্গা–২ (দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদরের বাকি অংশ): জেলা বিএনপির যুগ্ন-আহ্বায়ক মাহামুদুল হাসান খাঁন বাবু ও সদস্য মোখলেচুর রহমার টিপু তরফদার।
কুষ্টিয়া জেলাঃ
কুষ্টিয়া–১ (দৌলতপুর): সাবেক এমপি উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু ও জেলা বিএনপির সদস্য আলতাফ হোসেন।
কুষ্টিয়া–২ (ভেড়ামারা ও মিরপুর): সাবেক এমপি অধ্যাপক শাহিদুল ইসলাম ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাকিব রোফ চৌধুরী, মহিলাদল নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন।
কুষ্টিয়া–৩ (সদর): জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরব উদ্দিন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামীমুল হাসান অপু, স্থানীয় নেতা ড.তালাত কোরেশী, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
কুষ্টিয়া–৪ (কুমারখালী ও খোকশা): সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদি হাসান রুমি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনসার আলি এবং সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম প্রামানিক।
নড়াইল জেলাঃ
নড়াইল–১ (কালিয়া ও সদরের কিছু অংশ): জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর ও সাবেক ছাত্র নেতা গৌতম মিত্র।
নড়াইল–২ (লোহাগড়া ও সদরের বাকি অংশ): সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ. কাদের শিকদার, সাবেক পৌর মেয়র জুলফিকার আলি মন্ডল ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম।
সাতক্ষীরা জেলাঃ
সাতক্ষীরা–১ (তালা–কলারোয়া): সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও তালা উপজেলা ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি বদিরুজ্জামান বদরু।
সাতক্ষীরা–২ (সাতক্ষীরা সদর): জেলা বিএনপির সভাপতি রহমাতুল্লাহ পলাশ, সহ-সভাপতি আব্দুল আলীম ও পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি বিএনপি থেকে মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সাতক্ষীরা–৩ (দেবহাটা, আশাশুনি ও কালিগঞ্জের চারপি ইউনিয়ন): নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহীদুল আলম, সাবেক এমপি আলহজ্ব কাজী আলাউদ্দিন ও বিএনপি নেতা অ্যাড. বরুন বিশ্বাস।
সাতক্ষীরা–৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের আটটি ইউনিয়ন): সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেলা বিএনপি অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী।
মাগুরা জেলাঃ
মাগুরা–১ (শ্রীপুর ও সদরের কিছু অংশ): জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কবির মুরাদ, জেলার সদস্য মনোয়ার হোসেন খান ও স্থানীয় নেতা ইকবাল আক্তার খান, সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল।
মুগুরা–২ (মহম্মদপুর ও সদরের বাকি অংশ): বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সলিমুল হক।
যশোর জেলাঃ
যশোর–১ (শার্শা): জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু , সাধারণ সম্পাদক হাসান জহির ও সহ সাধারণ সম্পাদক মহাসিন কবির সম্ভাব্য প্রার্থী।
যশোর–২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা): ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান (আলোচিত বিএনপি নেতা প্রয়াত নাজমুল ইসলামের স্ত্রী) সাবিরা নাজমুল মুন্নী, জেলার সহ-সভাপতি অ্যাড. ইসহক, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, চৌগাছার সভাপতি জহুরুল ইসলাম ও ঝিকরগাছার সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা এলাহী টিপু।
যশোর–৩ (সদর): বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, (অসুস্থতার কারণে তরিকুল ইসলাম প্রার্থী না হলে তার স্ত্রী ও জেলার সদস্য নার্গিস বেগম অথবা তাঁর পুত্র, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অথবা জেলার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
যশোর–৪ (অভয়নগর–বাঘারপাড়া): বাঘারপাড়া বিএনপি সভাপতি টিএস আইয়ুব, অভয়নগর বিএনপি সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান, বাঘারপাড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।
যশোর–৫ (মনিরামপুর): ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি ওয়াক্কাস, মণিরামপুর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শহীদ ইকবাল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মুসা, জিয়া পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব শরিফুজ্জামান খান।
যশোর–৬ (কেশবপুর): বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেশবপুরের সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস।
মেহেরপুর জেলাঃ
মেহেরপুর–১ (সদর ও মুজিবনগর): সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুণ।
মেহেরপুর–২ (গাংনী): সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন ও সহসভাপতি জাবেদ মাসুদ মিলটন।
ঝিনাইদহ জেলাঃ
ঝিনাইদহ–১ (শৈলকুপা): সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওহাব, খুলনা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু ও বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান।
ঝিনাইদহ–২ (হরিণাকুন্ডু ও সদরের কিছু অংশ): জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মশিউর রহমান।
ঝিনাইদহ–৩ (মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর): ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ লতিফুর রহমান চৌধুরী, ,মহেশপুর থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক এমপি মরহুম শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মেহেদি হাসান রনি, কোটচাঁদপুর থানা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদ রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান মোমিন।
ঝিনাইদহ–৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের বাকি অংশ): সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান বেল্টু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
বাগেরহাট জেলাঃ
বাগেরহাট–১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট): সাবেক এমপি জেলা বিএনপি বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা শেখ মুজিবর রহমান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাড. শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু।
বাগেরহাট–২ (সদর ও কচুয়া): জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম।
বাগেরহাট–৩ (রামপাল ও মংলা): জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম।
বাগেরহাট–৪ (মোড়েলগঞ্জ ও শরনখোলা): জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান শিপন ও সহ-সভাপতি এম এ খালেক।
খুলনা জেলাঃ
খুলনা–১ (বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা): জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ ও স্থানীয় বিএনপি নেতা লাতিফুর রহমান লাবু।
খুলনা–২ (সদর থানা ও সোনাডাঙ্গা): মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেদ এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও আরেক সাবেক এমপি আলী আজগর লবী।
খুলনা–৩ (খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা): মহানগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এসএম আরিফুর রহমান মিঠু, সাবেক ছাত্র নেতা রফিকুল ইসলাম বকুল ও নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী সেকেন্দার ডালিম, খুলনা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তজা, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলামও নির্বাচনের মনোনয়ন লাভের জন্য কাজ শুরু করেছেন।
খুলনা–৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া): বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, আইটি বিষয়ক সম্পাদক শাহ কামাল তাজ ও জেলা সভাপতি শফিউল আলম মনা ও বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম।
খুলনা–৫ (ডুমুরিয়া ও ফুলতলা): সাবেক এমপি গাজী আব্দুল হক, উপজেলা নেতা খান আলী মনসুর ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. মামুন রহমান।
খুলনা–৬ (কয়রা ও পাইকগাছা): কয়রা থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. স.ম বাবর আলী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক।


























