আবু আব্দুল্লাহ , জনতারআদালত.কম । ১৭ আগষ্ট, ২০১৭ ।

এম.এল.এম প্রতারণার ধরন পরিবর্তন।
সূত্র: জনতারআদালত.কম এর রির্পোটার কৌতহল বশতঃ একটি চাইনিজ কোম্পানীতে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে গেলে, কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হওয়ার অবস্থা।
চাইনিজ কোম্পানীরে নাম: সানহোম টেকনোলজি কো: বাংলাদেশ লিমিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে আছেন মিঃ এরিক। সহযোগী হিসাবে তার স্ত্রী মিসেস এরিক । তারা স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে বাংলাদেশে এসে এম.এল.এম ব্যবসা পরিচালনা করছে।
ফুড সাপ্লিমেন্ট পণ্য দিয়ে নাম মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য, সাধারণ মানুষকে দেখিয়ে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কিছু অসাধু বাঙ্গালী ভাই বোনদের মাধ্যমে। তারা বাংলাদেশে আসেন সেপ্টেম্বর ২০১৬ তে। প্রথম ব্যবসায়িক ঠিকানা ব্যবহার করেন বনানীতে এবং পরে প্রতারনার নতুন ফাঁদ পাতে প্রগতি স্মরণী নর্দ্দা, বারিধারায়। প্রতিদিন শতশত লোক প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে, দেখার কেউ নেই। কোম্পানী নতুন, সবেমাত্র কাজ করছি… মিঃ রাসেল বলেন, ছবি তুলবেন না। কোম্পানীর সি.ই.ও এর সাথে কথা বলেন।
সি.ই.ও এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কোন কাগজপত্র নাই। তারা সবেমাত্র আবেদন করেছেন। বাস্তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা কোন আবেদনও করেন নাই । তারা যা করছেন তার সবই ভাওতাবাজী, প্রাতারণার নতুন নাটক। ঢাকা শহর সহ দেশে বিভাগীয় শহরগুলোর অভিজাত এলাকায় হাইফাই ডেকোরেশন করে মানুষকে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কিছু অসাধু নেতাদের কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে তারা এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এভাবে আর কতদিন চলতে পারে ঐ সব ভূইফোড় এম.এল.এম কোম্পানী। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং, ই-কমার্স মার্কেটিং ও আউট সোর্সিং মার্কেটিং- এ সকল নামে এর নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বর্তমান যুগে মান্ধাতার আমলের গতিধারা পরিবর্তন করে নতুন সাজে নতুন আঙ্গীকে শুরু হয়েছে রেফারেল সিস্টেম মার্কেটিং এর পদ্ধতি। যা শুভঙ্করের ফাঁকি , নাকি আইটি সেক্টরের মারপ্যাচ বুঝে উঠতে পারছেনা যুব সমাজ।
বর্তমানে যুব সমাজ ভয়াল মাদকের ছোবলে কুপোকাত। তারপর বিভিন্ন ঝই-ঝামেলা তো আছেই। সব মিলিয়ে যুব সমাজ ডিজিটাল নামের গ্যারাকলে পরে সামাজিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বাংলাদেশ সরকার যখন ডিজিটালাইজেশন করছেন, সেই সুযোগে কিছু অসৎ আইটি অভিজ্ঞ যুবক সমাজের কিছু মাথা মোটা ওয়ালাদের নাম ভাঙ্গীয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তাদেরকে দেখার কেউ নেই। দুদক তো দুরের কথা প্রশাসনিক লোকজন ও খোঁজ খবর রাখছেন না। প্রশাসনের নাকের ডগার উপর হাই ডেকোরেশন অফিস দিয়ে সকলকে বোকা বানিয়ে প্রতারক চক্ররা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । ই-কারেন্সির নাম ভাঙ্গিয়ে অন লাইনে কোটি টাকার প্রতারণা করে যাচ্ছে । হর হামেশাই ঢুকে যাচ্ছে ডিজিটাল প্রতারনা। প্রতারণার নতুন ফাঁদ হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে ইন্টারনেট ।
হ্যাঁ, সব কিছুই প্রতারণা হয়। কিছু কিছু হাতে গোনা দুই একটি ছাড়া আসল মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানী আর নেই । বর্তমানে দেশব্যাপী চলছে ডিজিটাল নামে এম.এল.এম প্রতারণা । মাল্টি লেভেল মার্কেটিং একেক সময় একেক রুপ ধরে বিনিয়োগ প্রজেক্ট নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও।
জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা মন্ত্রাণালয় থেকে বাছাই করে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু কোম্পানী গুলো হাইকোর্টে গিয়ে লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে ।
তিনি আরো বলেন, এম.এল.এম আইন ২০১৩ বিধিমালা জারি করার পর ২৭টি কোম্পানীর আবেদন জয়েনস্টকে জমা পরে। যাচাই বাছাই ও সরেজমিনে তদন্ত করে ৫টি কোম্পানীকে লাইসেন্স দেওয়া হয়।
১। এম.এক্স.এন মর্ডান হারবাল লিমিঃ
২। রিজ বিজনেস সিস্টেম লিমিঃ
৩। স্বাধীন অনলাইন পাবলিক লিঃ
৪। ওয়ার্ল্ড মিশন ২১ লিঃ
৫। জার ইলেক্ট্রনিক্স লিঃ
পরবর্তীতে তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক না হওয়ায় নবায়ন অযোগ্য বলে প্রমানিত হয়। বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, যে সমস্ত কোম্পানী রিট মামলা করে কার্যক্রম পরিচালন করছে। তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য সকল বিভাগীয় কমিশনারের বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পরেও অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় দেশবাসীকে সর্তক করছি।
২০১৫ সালের ৪মার্চ সকল লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ইতিমধ্যে আবেদনকৃত অনেক কোম্পানী বন্ধ হয়ে গেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষনার পর অন লাইন ভিত্তিক আঁনাচে-কাঁনাচে এসব ভূইফোঁড় কোম্পানী তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যাদের কোন কাগজপত্র নাই। একটি ফুড সাপ্লিমেন্ট পণ্য দিয়ে একাধিক রোগ সেরে যায় বলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। কেউ কেউ আবার ডিলার বা এজেন্ট দেওয়ার নামে প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা হলুদ,মরিচ, চাউল, ডাউল, দিয়েও এম.এল.এম ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
অবিলম্বে এ সকল প্রতারনামুলক ব্যবসা বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সচেতন সামাজের জোর দাবি । নতুন ভূইফোঁড় কয়েকটি কোম্পানীর নাম উল্লেখ করা হলঃ
১. BWB ২. RF3
৩. Nuverus ৪. Pentagon
৫. Illgamos ৬. One Coin
৭. Yo Coin ৮. Timeshop
৯. Infinity ১০. K-Link
১১. আপনজন ইন্টাঃ লিঃ ১২. লাইফওয়ে
১৩. টিয়েন্স ( তিয়ানশি ) ১৪. ফরএভার লিভিং
১৫. জিউনেস গ্লোবাল ১৬ . মোরিঙ্গো
১৭. এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড ১৮. এক্সিলেন্ট ফিউচার , ইত্যাদি।
তারা সকলেই ডিজিটাল প্রতারণার সাথে জড়িত বলে জানা যায়। গত ১৮-০৪-২০১৭ইং দুপুর ৩ ঘটিকার দিকে বাংলা ভিশন চ্যানেলের ষ্টাফ রির্পোটার জনাব সানজিদ ও ক্যামেরাম্যান শাহাদত হোসেন বাপ্পি গাজীপুরের লাইফ ওয়ে নামক এম.এল.এম কোম্পানীর প্রতারনার তথ্য উপাত্ত নিতে গেলে তাদেরকে হুমকি প্রদান সহ হাতাহাতির ঘটনা ঘটায়।
ঘটনাস্থলে ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এক পর্যায়ে থমথমে অবস্থার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষনিক ভাবে সাংবাদিকগণ গাজীপুর থানায় গিয়ে বাংলা ভিশন চ্যানেলের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি জনাব মীর মোঃ ফারুক বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ১২ জনের নাম উল্লেখ্য করে আরো ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামার কথা বলা হয়। আরো উল্লেখ থাকে, ক্যামেরার যন্ত্রপাতি ও মারধরের ঘটনায় আনুমানিক ২০,০০,০০০/- বিশ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।
ইতিপূর্বে একাধিক বার সাংবাদিকসহ অন্যান্য লোকদের লাঞ্চিতের ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। তারা সংজ্ঞবদ্ধ হওয়ায় সাংবাদিক বা অপরিচিত লোক দেখলেই এ ধরনের অবাঞ্চিত ঘটনার জন্ম দেন। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না ।
আত্ম-স্বার্থ রক্ষার্থে এম.এল.এম কোম্পানীর ধারক-বাহকরা এখন নতুন কৌশল হিসেবে বিভিন্ন প্রশাসণিক ঝামেলা এড়ানোর জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বাহিনীর বর্তমান অথবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সিনিয়র সাংবাদিক মহলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। মাঝে-মধ্যে তাঁদের সেসমস্ত কোম্পানীর বিভিন্ন প্রোগ্রামেও যোগদান করায়।
কিন্তু , এভাবে আর কতদিন ? প্রশাসণ কি এভাবেই নি:শ্চুপ থাকবে ? মহামান্য হাইকোর্টের রায়কে ভিন্নপথে ব্যবহার করে দেশের আর কত টাকা বিদেশে পাচার হবে ?
চলবে…………


























