spot_img

এবার ‘ব্লু-হোয়েল’ এর শিকার ঢাকার স্কুলছাত্রী ; কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপ জরুরী

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম । ০৫ অক্টোবর, ২০১৭ ।

‘ব্লু-হোয়েল’ বা নীল তিমি । গভীর সমুদ্রেও যেমন ভয়ংকর , তেমনি আধুনিক প্রযুক্তির  যুগে এ প্রজন্মের জন্যও ‘ব্লু-হোয়েল’ বা নীল তিমি আতংকের কারণ হয়ে উঠছে ।

বিদেশে ব্লু-হোয়েল চ্যালেঞ্জ পূর্ণ করতে গিয়ে প্রাণ খুইয়েছে বহু তরুণ। এরা সবাই আত্মহত্যা করেছে। গেম যারা পরিচালনা করছে, তাদের থেকে পাওয়া একের পর এক নির্দেশ মানতে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে অনেকে। বিভিন্ন ঝুঁকির কাজ করতে হয় গেমারদের। সর্বশেষ যে নির্দেশটি আসে, তা হল নিজেকে শেষ করে দেওয়া বা আত্মহত্যা করা।

ইতিমধ্যেই ভারতের কেরালায় ব্লু-হোয়েল গেম খেলতে গিয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বা বলা ভাল, তারা আত্মহত্যা করেছে।

আজ ৫ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার হলিক্রস স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে এই ব্লু-হোয়েল গেমের প্ররোচনায়। তার নাম অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা (১৪)।

বৃহস্পতিবার সকালে নিউ মার্কেট থানার সেন্ট্রাল রোডের ৪৪ নম্বর বাড়ির ৫বি ফ্ল্যাট থেকে তার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তার লিখে যাওয়া একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করেছে সে।

সে ‘ব্লু-হোয়েল’ এ আসক্ত হয়ে পড়েছিলো বলে তার স্বজনদের ধারণা । নিউ মার্কেট থানার উপ পরিদর্শক আল মাহমুদ বলেন, নিহত ওই ছাত্রী খুবই মেধাবী ছিল। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তবে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয় এমন অ্যাপস থেকেই সে আত্মহত্যায় ও এর কৌশল নির্ধারণে প্ররোচিত হয়ে বলে মনে করছেন তার কয়েকজন আত্মীয়।

এই নীল তিমি বা ব্লু-হোয়েল চ্যালেঞ্জ বলে নাকি কিছুই নেই। ইন্টারনেট তোলপাড় করে ও বিভিন্ন তদন্ত করেও এরকম কোনও গেমের সন্ধান পায়নি ভারতের পুলিশ। এরকমই দাবি কোচির ইন্সপেকটর জেনারেল অফ পুলিশ এবং সাইবার সিকিউরিটির নোডাল অফিসার মনোজ আব্রাহামের।

ভারতের বিশেষজ্ঞদের মতে , যে সব তরুণ বা কিশোর আত্মহত্যা করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তারা আসলে মানসিক অবসাদের শিকার। তারা আগে থেকেই আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল ।

ব্লু-হোয়েল গেমে এরকম আত্মহত্যার প্ররোচনা থাকুক আর নাইবা থাকুক,  ‘ব্লু হোয়েল’-এর মতো বিপজ্জনক অনলাইন গেমস-এর লিঙ্ক সরানোর নির্দেশ দি‌য়েছে ভারত সরকার৷ গুগল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, মাইক্রোসফ্‌ট এবং ইয়াহু থেকে অবিলম্বে এই লিংক সরাতে হবে৷

একইভাবে অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এ সংক্রান্ত জরুরী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের সচেতন অভিভাবক মহল ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ