রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর,
জনতারআদালত.কম , ১৬ জুলাই, ২০১৭ ।

জামালপুর জেলা শহরের শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডি’র মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নতুন গভর্নিং বডি’র শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষে মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটেছে। এর জের ধরে কলেজ প্রশাসনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জামালপুর পৌরসভার বাগেরহাটা এলাকায় তিন একর জমির উপর ১৯৮১ সনে স্থাপিত শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজটি বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।
২০১০ সনের ৫ জানুয়ারি থেকে কলেজটি বিএ (পাস) ও বিবিএস(পাস) কোর্সের অধিভুক্তি নিয়ে ডিগ্রি পর্যায়ের যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ডিগ্রি পর্যায়ে বিএসএস(পাস) ও স্নাতক সম্মান পর্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে কোর্স খোলা হয়। দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের স্বপ্ল ব্যয়ে লেখাপড়ার জন্য কলেজটির অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজের কর্মচারি ও শিক্ষকদের সাথে অধ্যক্ষ এ কে এম তফিকুল ইসলামের অসৌজন্যমুলক আচরণ, বেআইনি কার্যকলাপ, নানাবিধ অার্থিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের কারণে কলেজের সার্বিক পরিবেশ এবং শিক্ষার মান নিম্নমুখী ও শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জানা গেছে, কলেজের নতুন গভর্নিং বডি’র দাতা সদস্য, অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে করা হলেও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়াটি যথাযথ বিধি মেনে করা হচ্ছে। ফলে এ নিয়ে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি কলেজ/ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি /২০১৫ তে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও অধ্যক্ষ এ কে এম তফিকুল ইসলাম সেটা অনুসরণ না করে গোপনে তা সম্পন্ন করেন।
তিনি উদ্দেশ্যমুলকভাবে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ সুরুজ্জামান এর নাম বাদ দিয়ে কাগজে কলমে একটি সাজানো নির্বাচন দেখিয়ে তার অনুগত শিক্ষকদের নির্বাচিত দেখিয়েছেন। যা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি’র সুস্পষ্ট লংঘন। এই বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মোঃ সুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ডিগ্রি কলেজ হিসাবে বর্তমানে এর সকল কর্মকান্ডই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত।
সে অনুযায়ী আমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ। শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত ভোটার তালিকা থেকে উপাধ্যক্ষের নাম বাদ দেয়ার কোনই সুযোগ নেই। অথচ অধ্যক্ষ আমার পদটিকে অস্বীকার করেছেন। যা আইনের পরিপস্থি এবং সম্পূর্ণরূপে অবৈধ।
তিনি আরও বলেন -বর্তমান অধ্যক্ষ নিজেই অবৈধ। ১৯৯৭ সনে তিনি অবৈধভাবে যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক হিসাবে অবৈধভাবে নিয়োগ নেন। যা ২০০০ সনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা শাখার অডিটে উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে ২০০৮ সনের উক্ত মন্ত্রণালয়ের অডিটিও এই বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করে তাকে উদ্বৃত্ত শিক্ষক হিসাবে গন্য করা হয় এবং ১৯৯৭ সন থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তার গৃহীত ৩, ৬০,৪০০/ ( তিন লক্ষ ষাট হাজার চারশত টাকা) ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়। সরকারি নিয়োগবিধি অনুযায়ী তার চাকরির অভিজ্ঞতা ২০০৪ সন থেকে গননাযোগ্য।
এই হিসাবে তার চাকরির অভিজ্ঞতা ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৯(নয় বছর) হয়। অথচ অধ্যক্ষ নিয়োগের আবেদন পত্রে তিনি তার চাকরির অভিজ্ঞতা ১২(বার) বছর দেখিয়েছেন। যা সম্পূর্ণরূপে বানোয়াট। এই বিষয়টি যাতে প্রকাশিত না হয় সে জন্যে তিনি একের পর এক বিভিন্ন অনিয়ম করে তা ধামাচাপা দিয়ে আসছেন। অধ্যক্ষ তার অবৈধ পদে বহাল থাকতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অবৈধ শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন করেন।
উপাধ্যক্ষ মো. সুরুজ্জামান বলেন, এই নিয়ে আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। মামলা নং-৩৫১/২০১৭(অন্য)। আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। কলেজের অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাঁর নিয়োগ বৈধ। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ এম এ মান্নান খানের যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি স্বীকার করেন এবং আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম নেয়া হবে বলে জানান।
শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের এই দ্বন্দ্বের কারণে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্র- ছাত্রী এবং অভিভাবক মহল উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন।


























