ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম । ০৩ অক্টোবর, ২০১৭ ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারন পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্থাপিত পাঁচ দফা প্রস্তাবনার ভিত্তিতে রোাহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি আজ স্থানীয় একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,‘বৈশ্বিক প্রচন্ড চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হচ্ছে’।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনা প্রধান ঘোষণা দিয়েছিলেন রোহিঙ্গারা সেদেশের নাগরিক নয়। তাদেরকে সেখানে ফেরত নেয়া হবে না। কিন্তু বৈশ্বিক চাপের মুখে এখন মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যুতে কঠিন অবস্থান থেকে নরম অবস্থানে সরে এসেছে। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে মিয়ানমারের মন্ত্রী এসেছেন। সমাধানের জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে কাজ করতে রাজি হয়েছেন। এটা কি আর এমনে এমনে হয়েছে। সরকারের সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় এটা সম্ভব হয়েছে ।
ওবায়দুল কাদের বলেন- রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার বিশ্বে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে বলে বিএনপি যে অভিযোগ করেছে তা মিথ্যাচার। কোন কাজ না করে রিলিফ দেয়ার নামে বিএনপি এলদিকে নাটক করছে, অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, কোন ধরণের চাপ, অনুরোধ বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছেন। এখন তাদেরকে স্বদেশে নিরাপদে ফেরত দেয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানের জন্য জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি ও তাঁর দল আশা করেন এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধান হবে।
জাতিসংঘকে বাদ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কতটুকু সফলতার মুখ দেখবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এখানে বিএনপি কি বলল, না বলল সেটা দেখার বিষয় নয়। তাদের কাজ শুধু অভিযোগ আর সন্দেহ করা। কিন্তু আসলে কিছু করার শক্তি ও সামর্থ্য তাদের নেই। তাই বড় বড় কথা বলে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা শিবিরে দেশি-বিদেশি অনেক এনজিও কাজ করছে। এসব এনজিওতে স্থানীয়দের চাকরির কৌটার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামিকাল (বুধবার) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এনজিওদের একটি সমন্বয় সভা রয়েছে। সেখানে স্থানীয়দের কৌটা ভিত্তিতে চাকরি দেয়ার নীতিমালা করার বিষয়ে আলোচনা হবে এবং এটা করা দরকার।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দুই ব্যক্তির দেয়া ত্রাণের ২০ লাখ টাকা জেলা প্রশাসনের রোহিঙ্গা ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তর করেন মন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের পক্ষে টাকা গুলো গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ারুল নাসের।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি সাইফুজ্জামান শিখর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান।


























