spot_img

ঘুষের মামলায় শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিচার শুরু

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি,  জনতারআদালত.কম । ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

নারায়ণগঞ্জে বন্দরের এক শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (তৃতীয়) আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া শ্যামল কান্তির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে শ্যামল কান্তি ভক্তের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মামলা থেকে শ্যামল কান্তি ভক্তকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে উক্ত আবেদন নামঞ্জুর করে দেয় আদালত।
বুধবার নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর বিচারক আকতারুজ্জামান পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে সরকারি শিক্ষিকা মোর্শেদা বেগমের দায়ের করা মামলা শুনানিতে এ নির্দেশ প্রদান করেছেন। শুনানিকালে মামলার বাদী মোর্শেদা বেগম ও আসামি শ্যামল কান্তি ভক্ত উভয়েই উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অভিনেতা হাসান ফেরদৌস জুয়েল এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অসৎভাবে প্ররোচনা দেয়া, বিশ্বাস ভঙ্গ করা, প্রতারণা করা এবং ঘুষ নেয়ার অপরাধে শ্যামল কান্তি ভক্তকে অপরাধী দাবি করে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

আসামি শ্যামল কান্তি ভক্তের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আমরা সুবিচারের আশায় মামলাটি থেকে শ্যামল কান্তিকে অব্যাহতির আবেদন করেছি। আদালত আমাদের আবেদন নামঞ্জুর করে সাক্ষী ডেকেছেন। আশা করছি, শ্যামল কান্তি স্যার সুষ্ঠু বিচার পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্যামল কান্তি ভক্ত একজন শিক্ষক মানুষ, নিরপরাধ। পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্কুল থেকে তাড়ানোর জন্যই এ মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

গত বছরের ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যানদীতে পিয়ার সাত্তার লফিত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার কটূক্তির অভিযোগ এনে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
একই বছরের ১৭ জুলাই ওই স্কুলের শিক্ষিকা মোর্শেদা বাদী হয়ে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় পুলিশ চলতি বছরের ২৪ মে শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই দিন তিনি বিকেলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান।

গত ৩১ মে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত ২০ জুলাই পর্যন্ত শ্যামল কান্তি ভক্তের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করলে তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। ১৩ জুলাই শ্যামল কান্তি ভক্তের ঘুষ গ্রহণের মামলাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের (গ) বিচারক আফতাব উদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ