ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, শিক্ষক অজিত কুমার গুহ বিদ্যাদানের বাইরেও তাঁর অজস্র শিক্ষার্থীকে রুচিবান হতে এবং নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালবাসতে শিখিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, মানুষের জীবন গ্লানিমুক্ত হোক, ভাষা তার স্বাভাবিক স্থান অধিকার করুক, গড়ে উঠুক সুস্থ সাহিত্য, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে দেশ অব্যাহতি লাভ করুক- এসবই অজিত কুমারের কামনা ছিল।
আজ বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ভাষাসংগ্রামী অজিত কুমার গুহ স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অজিত কুমার গুহ এবং পূর্ববাংলার সাংস্কৃতিক জাগরণ’ শীর্ষক এই স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক মফিদুল হক।
স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, কবি কাজী রোজী, কবি মুহাম্মদ সামাদ প্রমুখ।
মফিদুল হক বলেন, ছাত্রদের প্রতি পরম যতœবান শিক্ষক অজিত কুমার গুহ নিজের জাগতিক উন্নতিকে কখনো বড় করে দেখেননি। তাঁর রচনার পরিমাণ সংখ্যাগত বিচারে অপ্রতুল হলেও বাংলা সাহিত্য-সমালোচনায় উচ্চমানের পরিচয় বহন করে।
পূর্ববাংলার সাংস্কৃতিক জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমরা তাঁকে অনায়াসে চিহ্নিত করতে পারি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনে গুহ কারাবরণসহ যে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন- তা তাঁর জীবনের কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং যুগপৎ কোমল ও সংগ্রামী সত্তারই স্মারক।
এ গবেষক আরো বলেন, অজিত কুমার গুহ বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের দিশা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ-সংগ্রামের সাংস্কৃতিক পটভূমি নির্মাণে যে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তা কখনো বিস্মৃত হবার নয়।
বাংলা একাডেমি আয়োজিত তিন দিনব্যাপি এ স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানে আগামীকাল রোববার বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ড. মুহম্মদ এনামুল হক স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম। স্মারক বক্তৃতা দেবেন অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা।


























