রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর ,
জনতারআদালত.কম , ১৪ জুলাই, ২০১৭ ।

জামালপুর পৌর এলাকায় ধর্ষনের শিকার কলেজ ছাত্রীর ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে জামালপুর প্রেস ক্লাব হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ধর্ষণের শিকার কলেজ ছাত্রীর পরিবারবর্গ। ধর্ষণের শিকার কলেজ ছাত্রীর মা নাসরিন বেগম সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৩০ জুন বিকেলে জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকার মেহেদী হাসান প্রান্ত নামের ফ্যাশন ডিজাইনার আমার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার ভাড়াটিয়া বাসায় ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার রাতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ৩০ ধারায় প্রতারক মেহেদী হাসান প্রান্তকে প্রধান আসামি এবং তার বাবা মাদারগঞ্জ উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তা মো: খোরশেদ আলম ও তার মা লিপি বেগমকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আসামীরা পলাতক রয়েছে।
জানা গেছে, মেহেদী হাসান প্রান্ত ঢাকায় বিজিএমই এর আওতাধীন একটি কারিগরি কলেজে ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। তার বাবা খোরশেদ আলম জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে চাকরি করেন। তারা জামালপুর শহরের নয়াপাড়ায় জাকারিয়া হাউজ নামের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।
ধর্ষিত মেয়েটি একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের বাসা জামালপুর পৌরসভার চালাপাড়া এলাকায়। মেয়েটি জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার বাবা রাস্তায় রিকশাভ্যানে ফেরি করে খাসি-গরুর রান্ন করা ভুরি, ছোলা বিক্রি করে সংসার চালান। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, কলেজে লেখাপড়া করার সময় মেয়েটির সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে ওই যুবক মেহেদী হাসান প্রান্ত।
মেহেদী দীর্ঘ দিন ওই মেয়েটির পেছনে প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে ঘুরঘুর করতে করতে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এ সুযোগে মেহেদি তার শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে বছর দুয়েক আগে মেয়েটিকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিওর স্ক্রিনশট নিয়ে মেয়েটির ইমোতে পাঠিয়ে দিয়ে হুমকি দেয়। ওই নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়ে আসছিল মেহেদী।
মেহেদী এভাবে টানা প্রায় দুই বছর ধরে মেয়েটিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মেহেদী ৩০ জুন মেয়েটিকে আবার ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। ওইদিন বিকেলে মেহেদী মেয়েটিকে তাদের নয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় যেতে বলে। ওই যুবকের কথামতো মেয়েটি ওই বাসায় গেলে কিছু বোঝার আগেই তার হাত-পা বেঁধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।


























