spot_img

রোহিঙ্গা সঙ্কট: মিয়ানমারকে চাপ দিতে সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া ও তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে।

সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ প্রস্তাব পাস হয়।

সংসদ কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ (১) বিধির অধীনে সরকারি দলের সদস্য ডা. দীপু মনি এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ, তাদেরকে তাদের নিজ বাসভূমি থেকে বিতাড়ন করে বাংলাদেশে পুশইন করা থেকে বিরত থাকা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হোক। ’

দীপু মনি তার বক্তব্যে বলেন, কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন নিঃশর্তভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সে জন্য আহ্বান জানায়।

তিনি বলেন, ‘এক আইলানের লাশ বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল। আজ কত আইলানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ নাফ নদীর পানিতে ভাসছে। আমরা চাই বিশ্ববিবেক এগিয়ে আসুক। তাদের পাশে দাঁড়াক।’

রওশন এরশাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। আশা করি এসব পদক্ষেপের পথ বেয়ে এই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা মঙ্গল বয়ে আনবে না। তাদের ফিরে যেতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের প্রতিবেদন যথাযথ বাস্তবায়ন করারও দাবি জানান রওশন এরশাদ। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নেত্রী অং সান সু চি কীভাবে এত অশান্তি সৃষ্টি করতে পারেন। তিনি এ বিষয়ে ভারত ও চীনের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে মানুষ হিসেবে, রোহিঙ্গা বা মুসলমান হিসেবে নয়। এই রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার। এজন্য সময়ও প্রয়োজন। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।

আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সরকারি দলের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুল মতিন খসরু, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ড. হাছান মাহমুদ, এ টি এম আবদুল ওয়াহাব, সাইমুম সরওয়ার কমল, জাতীয় পার্টির এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, ফখরুল ইমাম, জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল ও শিরীন আখতার, তরীকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী।

 

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ