রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর , জনতারআদালত.কম । ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় ২ জন নিহত অন্তত পক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে জামালপুর জেনালের হাসপাতালে এবং বাকিদের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি ইউনিয়নের ফুলজোড় গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ ফুলজোড় গ্রাম থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং নিরাপত্তার জন্য ওই গ্রামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি নির্বাচন ও গ্রাম্য বিরোধ নিয়ে জোড়খালি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম ও তার লোকজনের সাথে একই ইউনিয়নের যুবলীগের সহ-সম্পাদক সিহাব রানা ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ রয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন সিহাব রানার সহোদর মাহবুব রহমানকে ছুরিকাঘাত করে গত বুধবার রাতে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয়। এরই জের ধরে জহুরুল ইসলাম ও তার লোকজনরা সিহাব রানাদের বাড়িতে বৃহস্পতিবার সকালে হামলা চালায়। সিহাব রানা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষ জহুরুল ইসলাম ও তার ভাতিজা কাওসারের নেতৃত্বে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির সবাইকে পিটিয়ে এবং লোহার ফালা দিয়ে ঘাই মেরে গুরুতর আহত করে।
এ ঘটনায় সিহাব রানার সহোদর ভাই রাশেদুল ইসলাম (৩০) ও তার জেঠা মোঃ ছোবহান (৫০) সহ অন্তত ২০ জনকে আহত করা হয়। গুরুতর আহত রাশেদুল ইসলামের পিতা আলমাস সরকার, ভাই সিহাব রানা (২৫), উজ্জল সরকার (৩৫) ও রাশেদুল ইসলামের জেঠা ছোবহান (৫০) এছাড়া তাদের দাদা আবু তালেব (৭৫) কে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত রাশেদুল ইসলাম ও ছোবহানকে জামালপুর জেনারেল হাসাপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অবিযোগে ফুলজোড় গ্রাম থেকে দুপুরে হাবিল, শাহিন, বারে আকন্দ, ফরিদ ব্যাপারি, শহিদুল ও পালোয়ান নামে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া নিহতের ঘটনা নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাসিমুল ইসলাম বলেন, জামালপুর সদর থানা পুলিশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিহত রাশেদুল ইসলাম ও ছোবহানের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়না তদন্তের পর লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


























