spot_img

শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ এখন অনিয়ম দূর্নীতির যাদুঘর

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহ,

জনতারআদালত.কম । ২০ আগষ্ট, ২০১৭ ।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজে জেঁকে বসেছে নানা অসঙ্গতি অনিয়ম আর অর্থলোপাটের কৌশলী কারিশমা। অভিযোগ উঠেছে বছরের পর বছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুস সোবহান।

চলতি অর্থ বছরে লুটপাটের তথ্যপ্রমাণ ফাঁস হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করেছে। তবে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুস সোবহান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার বিরুদ্ধে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে, তবে ভূয়া বিল ভাউচার জমা দিয়ে প্রায় ৭,৭০,০০০ টাকা তুলে আত্মসাতের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

অভিযোগ সূত্রে ও তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ১১,৬১,০০০ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে পৌরকর-১ লাখ, ভূমিকর-১০ হাজার, পানি বিল-৩০ হাজার, টেলিফোন বিল-৩০, বিদ্যুৎবিল-৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া বইপত্র-৫০ হাজার, খেলার সামগ্রি-৫০ হাজার, রাসায়নিক দ্রব্যাদি ৭০ হাজার, ব্যবহারিক দ্রব্যাদি ১ লাখ, কম্পিউটার সামগ্রি-২০ হাজার, লিভারিজ-২০ হাজার, কম্পিউটার ও অফিস-৩০ হাজার, শিক্ষা উপকরণ ৪০ হাজার, ল্যাব যন্ত্রপাতি ৩ লাখ টাকার পুরোটায় অধ্যক্ষ আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে অন্যান্য ব্যয়-৮০ হাজার টাকার আংশিক খরচ করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রভাষক জানিয়েছেন। প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ার সাথে সাথে ফুঁসে উঠেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীগণ। বিল ভাউচার জমা দিয়ে সমস্ত টাকা তোলা হলেও দৃশ্যমান কোন পন্যই ক্রয় করা হয়নি, এ কারনে নিরানব্বই ভাগ ভূয়া এ ভাউচারে ক্রয়কৃত জিনিসপত্রের সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছে শিক্ষার্থী অভিভাবকবৃন্দ।

অপরদিকে গত ২৩-০৭-২০১৭ তারিখের ৩৭.০২.০০০০.১০৯.১৪.০৩৫(অংশ-১).১৭-৬৯৬ স্মারকে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল নির্মাণ চাহিদাপত্রে হোস্টেল প্রয়োজন নাই মর্মে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুস সোবহান শৈসক ১৩৩/১৭ নং স্মারকে ২৭/০৭/২০১৭ নং চিঠিতে স্পষ্ট লিখে উর্ধতন কর্তপক্ষ বরাবরে পাঠিয়েছেন। হোস্টেলের চাহিদাপত্র ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন ‘ছাত্র নেই হোস্টেল দিয়ে কি হবে’, মদ-মাদকের আড্ডাখানা, স্থানীয় সাঙ্গপাঙ্গদের জটলা, মারামারিও হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মাঠে নেমেছেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দিনার বিশ্বাস, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মহিদুল ইসলাম মন্নু, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক তানভীর পারভেজ রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশন, বাধন মির্জা, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মিরাজ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক স্বজল হোসেন, পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম রেজা’সহ ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিয়মিত আন্দোলনের মাঠে রয়েছে।

সমস্ত অর্থ লোপাটের সুষ্ঠ তদন্ত, হোস্টেল বিল্ডিং ফিরিয়ে আনাসহ দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন। ২৪-০৯-২০১৬ তারিখে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুস সোবহান শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজে যোগদানের পর থেকেই নিয়মনীতি থোরায় কেয়ার করে যথাচ্ছা কলেজ চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছেন, তিনি নিয়মিত কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রাক্টিক্যাল পরীক্ষার জন্য ৩’শ টাকা, অতিরিক্ত ভর্তি ফিস নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

২০১২ সালে সর্ব প্রথম ছাত্র ইউনিয়ন শৈলকুপা শাখার ব্যানারে অনার্স কোর্স খোলার প্রথম দাবি তোলা হয়, সেই থেকে অত্র কলেজে অনার্স কোর্স খোলার জন্য বিভিন্ন সময়ে ছাত্রসংগঠনের ধারাবাহিক আন্দোলন থাকলেও আজও অনার্স কোর্স চালুর দাবি উপেক্ষিত রয়েছে। প্রায় ৪ লাখ মানুষের বাস এ উপজেলার বহু শিক্ষার্থী ভাল কলেজের খোঁজে দেশের বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয় অথচ শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ দির্ঘদিন সরকারি হলেও এ কলেজে পর্যাপ্ত সাবজেক্ট নাই ও শিক্ষক নাই, আবাসন ব্যবস্থা নাই, কম্পিউটার ল্যাব নাই এবং সর্বপরি শিক্ষার মান ভাল না হওয়াসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ও প্রচারবিমুখ সরকারি ডিগ্রি কলেজ যেন প্রাণহীন দেহের মত অসার পড়ে আছে।

জেঁকে বসা অনিয়ম আর দূর্নীতির যাদুঘরখ্যাত শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজে এ বছর পাশের হার মাত্র ৪৪ শতাংশ। ৬ একর ১ শতক জায়গায় অবস্থিত কলেজটির বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯’শ ৬৩ জনে। এর মধ্যে ৫৫৩ জন ছেলে বাকী সব মেয়ে । শিক্ষক রয়েছেন ২২ জন তবে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩৩ জনের। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর ৩ টি পদ থাকলেও রয়েছে মাত্র ১ জন। আর চতুর্থ শ্রেণীর ৮ টি পদের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৩ জন। এসব পূরনেও মাথা ব্যথা নেই কর্তৃপক্ষের! চলতি বছর এ+ পেয়েছে মাত্র ৪ জন, মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩’শ ৮৮ জন, পাশ করেছে, ১’শ ৭৩ জন।

এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুস সোবহান বলেন, একটি চক্র তাকে ফাঁসানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ায় হোস্টেলের চাহিদাপত্রে ‘বর্তমান অবস্থায় প্রয়োজন নাই’ উল্লেখ করলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তা পুন:রায় সংশোধনী পাঠানো হয়েছে। তবে প্রায় ৭ লাখ টাকার দৃশ্যমান কোন মালামাল ক্রয় না করেই যে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে এ বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

 

 

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ