spot_img

বাংলাদেশের স্বর্ণখনি ! ……… [ শেষ পর্ব ]

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, প্রকাশক ,

জনতারআদালত.কম । ১১ আগষ্ট, ২০১৭ ।

২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের রেখে যাওয়া বাংলাদেশের হাল এবং বর্তমান সরকারের তুলনামূলক অবস্থা :

২০০৬ সাল                       ২০১৬ সাল

প্রবৃদ্ধি অর্জন                               

৫.৭%                             ৬.৮ %

মাথাপিছু গড় আয়

৪২৭ ডলার                    ১৩১৬ ডলার

সাক্ষরতার হার                            

৫১.৯০%                               ৭১%

রেমিটেন্স প্রবাহ  ( ডলার  )         

১৩ বিলিয়ন                  ৪২.৯ বিলিয়ন

দারিদ্র হার                                       

৪১.৫১%                         ২৩.২%

প্রসবকালীন মৃত্যুর হার  লাখে

৩৮৫ জন                       ১৪৭ জন

বৈদেশিক বিনিয়োগ (ডলার)    

১৮৭ কোটি                  ২২৩ কোটি

মাতৃত্বকালীন ছুটি                               

৪মাস                            ৬ মাস

ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা                     

৫৭ লক্ষ                        ৭ কোটি

শিশু মৃত্যুর হার                                   

 ৬.১০%                        ২.৩%

প্রত্যাশিত আয়ু                                    

৫৬ বছর                     ৬১ বছর

পোষাক রপ্তানিতে বিশ্বের অবস্থান         

৪র্থ                               ২য়

খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি (লক্ষ মেঃ টন)  

৩০ (ঘাটতি)       ৯.৩৭ ( বাড়তি )

সর্বোচ্চ বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা (মেগাওয়াট)   

৩১০০         ১১,২৭১

জ্বালানী তেলের মুল্য বৃদ্ধি গড়                    

১৩৬%                   ৩৮%

সমুদ্র সীমা জয়  ( বর্গকিলোমিটার )         

নিস্ক্রিয়                      ১৯,৪৬৭

শ্রমিকদের নুন্যতম মজুরি                    

১৬৬২ টাকা               ৫৩০০’ টাকা

রপ্তানি আয় ( বিলিয়ন ডলার )                 

১.০৩                        ৩৪.২৪

হাসপাতালের সংখ্যা                              

১৬৮৩ টি                  ৩৫৭৫ টি

পবিত্র হজ্ব পালন                         

৪০ হাজার যাত্রী          ১ লাখ ২৭ হাজার

মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা (কোটি )             

২ .৩৬                         ৭.৫৬

দৈনিক গ্যাস উত্তোলন (মিলিয়ন ঘনফুট) 

১৫৩১                      ২০০০

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (বিলিয়ন ডলার) 

৩.৮৮                          ৩৩

টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা                      

৭টি                         ৪১ টি

 

বাংলাদেশ যে একটি মধ্যম আয়ের উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে চলেছে, বিষয়টি এখন আর কল্পনা বা অনুমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এ ধরনের যে সমস্ত সংস্থা রয়েছে, তাদের সকলেরই অভিমত, বাংলাদেশ সামনের পাঁচ বছরের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবে। উপরে উল্লেখিত তুলনা চিত্র পর্যালোচনা করলে সবাই এর সত্যতা বুঝতে পারবে ।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। গত আট বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ভূমিকায় এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানো লীগ সরকারের পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে একটি। দেশের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।

 

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ নির্মাণ হচ্ছে । এর সাথে নির্মাণ হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম পর্যটন কেন্দ্র ।

২০১২ সালের মধ্যে খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করে বাংলাদেশ। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, কৃষি গবেষণা এবং কৃষির আধুনিকায়নে অর্জিত হয়েছে যুগান্তকারী সাফল্য। সারের দাম কয়েক দফা হ্রাস, কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা, মাত্র ১০ টাকায় কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগদান এবং বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে কৃষি ঋণ প্রদান প্রভৃতি পদক্ষেপের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ হতদরিদ্রদের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাধীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে টেস্ট রিলিফ, ভিজিএফ, কাবিখা এবং স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে নিয়মিত খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। ফলে মঙ্গা হয়নি। না খেয়ে কেউ মারা যায় নি। আপদকালীন সময়ের জন্য খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা ১৪ থেকে ১৯ লাখ টনে উন্নীত করা হয়েছে। দেশ থেকে মঙ্গা চিরতরে দূর করা হয়েছে।

 

শিক্ষা খাতে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ। সাক্ষরতার হার বিএনপি আমলের ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশে দাঁড়ায়। দেশে এই প্রথম একটি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়, দুটি নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, দুটি নতুন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, ৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিপুল সংখ্যক নতুন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়।

শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ছাড়াও প্রশাসন, ব্যাংকিং, চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণযোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। প্রতিটি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। মানুষ ব্যবহার করছে ১০ কোটি মোবাইল সিম। মোবাইলে থ্রি-জি চালু করা হয়েছে।

আইসিটি পার্ক গঠন হয়েছে গাজীপুরে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬.৬৭ কোটি ছাড়িয়েছে। আইসিটি খাত থেকে অচিরেই ডলার আয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় তথ্য বাতায়ন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এই সরকারের আমলে প্রায় ৭৫ লাখের অধিক বেকার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অন্যতম হিসেবে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা-২০০৯। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে বাস্তবায়িত হচ্ছে বহুমুখী কর্মসূচি।

প্রতিবন্ধীদের বিশেষ করে অটিস্টিক শিশু-কিশোরদের কল্যাণে অটিজম ট্রাস্ট গঠনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছাড়াও তার বিশেষজ্ঞ কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ে এবং জাতিসংঘেও অটিজমের ব্যাপারে বিশ্ব পরিসরে সচেতনতা সৃষ্টি ও কল্যাণমূলক প্রস্তাব পাস হয়েছে।

অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ৯০০ থেকে ১০ হাজার টাকায় বৃদ্ধি করা হয়। তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আয়বর্ধক ভবন ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সড়ক যোগাযোগ সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড, বিআরটিসি, বিআরটিএ এবং সেতু বিভাগের মাধ্যমে দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিস্তা সেতু, বরিশালে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু, গাবখান সেতু, শেখ রাসেল সেতু, শেখ কামাল সেতু, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু, শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সুলতানা কামাল সেতু, শাহ আমানত শাহ সেতু, শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু, বান্দরবানে রুমা ও থানচি সেতু, রংপুরে যমুনেশ্বরী সেতুসহ আরো বেশ কয়েকটি সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

মিরপুর থেকে সেনানিবাসের ওপর দিয়ে বিমানবন্দর সড়কে ফ্লাইওভার, কুড়িল ফ্লাইওভার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, মগবাজার ফ্লাইওভার ও বনানী রেলক্রসিংয়ের ওভারপাস নির্মাণ এই সরকারের একটি বড় সাফল্য। জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর হয়ে ঢাকা বাইপাস সড়ক নির্মিত হয়েছে। সাভার-নবীনগর মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ, ঢাকা-ময়মনসিংহ, রংপুর বিভাগীয় শহরের সড়ক, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক, নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে।

প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ উড়ালসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সংযুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে। সড়কের ক্ষয়ক্ষতি এবং দুর্ঘটনা হ্রাসে ৬টি ওভারলোড কন্ট্রোল স্টেশন কার্যকর করাসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ১১টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে সড়ক বাক প্রশস্তকরণ ও সরলীকরণসহ ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-কক্সবাজার সড়কের আরো ৬টি স্পট সরলীকরণের কাজ চলমান রয়েছে। কাঁচপুর-আমিন বাজার ব্রিজের নিচে সার্কুলার ডাইভার্সন সড়ক নির্মিত হয়েছে। যা যানজট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে মেট্রোরেল বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করবে। এ রুটে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। রাজধানীতে পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেলের আরও চারটি রুট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি রুট নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এর একটি গাজীপুর থেকে ঝিলমিল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে ৪২ কিলোমিটার।

প্রথম পর্যায়ে এ রুটের কাজ হবে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর এবং খিলক্ষেত থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটার হবে মাটির নিচে। মহানগরীর পূর্ব-পশ্চিমে সংযোগ বাড়াতে চূড়ান্ত করা হয়েছে মেট্রোরেলের আরেকটি রুট। নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে গাবতলী  পর্যন্ত এ রুটটি ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাটারা থেকে গাবতলী-হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটারের কাজ করা হবে। এর মধ্যে ৬ কিলোমিটার হবে মাটির নিচে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রকল্পটি ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ।  প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি— জাইকা ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে। বাকি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। ২০২০ সালের মধ্যেই মতিঝিল পর্যন্ত এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হবে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের আশা আকাংক্ষা আর স্বপ্ন পদ্মা সেতু। যা বার বার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার। কিন্তু সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হয়েছে ৬.১৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ পদ্মা সেতু। যার প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিয়েছেন আমরা কারো কাছে মাথা নোয়াবার জাতি নয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কর্ণফুলি নদীর নীচ দিয়ে টানেল নির্মাণের ।

পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে ।

মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুহার অনেক হ্রাস পেয়েছে। গড় আয়ু ৭০.৭ বছর হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। ১২৭৭৯ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। হাসপাতালের সংখ্যা ১৬৮৩টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫০১টি। ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাাপন করা হয়েছে। শিশুমৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করার কারণে এমডিজি পুরস্কার লাভ করে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে, সম্পন্ন হয়েছে জেলহত্যার বিচার। উন্মুক্ত হয়েছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে এই মেয়াদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেশ কয়েকটি যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করে কার্যকর করা হয়  জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাসেম আলী, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় ।

জঙ্গিবাদীদের কঠোর হস্তে দমন করা হয়েছে। সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের কলঙ্ক তিলক মোচন করে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদ। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট গঠন করে জঙ্গি নির্মূল অভিযান পরিচালনা করা হয়।

যার ফলশ্রুতিতে একে একে পরিচালিত হয় ‘কল্যাণপুরের অপারেশন স্টোর্ম-২৬’, ‘নারায়ণগঞ্জে অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’, ‘রূপনগর জঙ্গি অভিযান’, ‘আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় হামলা’, ‘গাজীপুরে অপারেশন স্পেইট-এইট’ ও সর্বশেষ ‘আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান’। গুলশান হামলার অবসান ঘটাতে পরিচালিত হয় ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’। সরকারের নেপথ্যে প্রত্যেকটি অভিযানই সফল হয়।

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, জনবল বৃদ্ধি, অত্যাধুনিক অস্ত্র, অত্যাধুনিক যানবাহন সরবরাহ, দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনে হেলিকপ্টার এবং ড্রোন ব্যবহারেরও অনুমতি প্রদান করা হচ্ছে। পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়াতেও নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

সশস্ত্র বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংযোজন, পরিবর্ধন এবং আধুনিকায়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, ইউনিট ও প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ তিন বাহিনীর জনবল, গুণগত মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

সেনাবাহিনীতে সিলেট অঞ্চলের প্রতিরক্ষার জন্য নতুন একটি পদাতিক ডিভিশন ও একটি কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠাসহ বহু ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও সমরশক্তি বৃদ্ধির জন্য নতুন প্রজন্মের ট্যাংক, সেলফ প্রপেলড গান, আধুনিক ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র, অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার, লোকেটিং রাডার সংযোজন করা হয়েছে।

আধুনিক এপিসি এবং অন্যান্য আর্মড যানবাহনের সমন্বয়ে একটি ম্যাকানাইজড পদাতিক ব্রিগেড প্রতিষ্ঠাসহ আরও বহু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেনাবাহিনীর সমরশক্তি ও চলাচলের ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং যোগাযোগ সরঞ্জামাদি সংযোজন অব্যাহত রয়েছে।

নৌবাহিনীর শক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের জন্য বিদেশ থেকে নতুন যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমাদের নিজস্ব শিপইয়ার্ডে তৈরি যুদ্ধজাহাজও সংযোজন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার সংযোজন করা হয়েছে। সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন নেভাল কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ নৌঘাঁটি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে।

বিমান বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে বিমান বাহিনীতে প্রথমবারের মতো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ সংযোজিত হয়েছে সর্বাধুনিক সরঞ্জাম। অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার সংযোজন এবং যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের সুষ্ঠু ও সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্থাপন আওয়ামী লীগ সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণের জন্য বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রেশনের মান বৃদ্ধি, নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ বৃদ্ধিসহ বহু কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

ভারতের সাথে স্থলসীমানা চুক্তির বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৫২ হাজার ছিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান করে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে বিশাল সমুদ্রে অঞ্চলে বাংলাদেশে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিমি টেরিটোরিয়াল এলাকায় বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের ব্যাংক রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার) মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। যা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সরকারি ব্যাংকসমূহে চাকরি আবেদন বিনামূল্যে করে দিয়েছে সরকার। এসব উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ‘সাউথ-সাউথ এওয়ার্ড’ ইত্যাদি পুরস্কার লাভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এভাবেই সফলতা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে পৃথিবীর অন্যান্য বড় বড় দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজেদের যোগ্যতার জানান দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আমাদের ছোট্ট এই দেশকে পৃথিবীর বুকে বারবার করেছে সম্মানিত।

 

ডেভিড অবাক হয়ে শুনছিলো বাংলাদেশের উন্নয়নের কথাগুলো । এবার সে বললো, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বিচক্ষণ ছিলেন না বলেই বাংলাদেশকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘তলাবিহীন ঝুড়ি‘ বলে । সারা বিশ্বের এই অর্থনৈতিক মন্দার যুগে তোমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য এবং আমাকে তোমার কন্ঠের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলতেই হচ্ছে , বাংলাদেশের 

একমাত্র  স্বর্ণখনি  “শেখ হাসিনা “ 

 

 

এ সংক্রান্ত পূর্বের খবর ঃ 

পর্বঃ ৩

https://janataradalat.com/2017/07/31/বাংলাদেশের-স্বর্ণখনি-2/

পর্বঃ ২

https://janataradalat.com/2017/07/22/বাংলাদেশের-স্বর্ণখনি-প/ ‎

পর্বঃ ১

https://janataradalat.com/2017/07/19/বাংলাদেশের-স্বর্ণখনি/ ‎

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ