মো. অহিদুর রহমান। স্টাফ রিপোর্টার।
কৃষকের লোকজ্ঞানে মাটি -পানি -বায়ুর ক্ষতি না করে, নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে, নিজের পছন্দের খাদ্য উৎপাদন,নিজের ইচ্ছে অনুযায়ি খাইতে পারা,বীজ সংরক্ষণ করা ও ন্যায্য মুল্য পাওয়া এবং খাদ্যের সাংস্কৃতি,অর্থনৈতিক রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়েই কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা চর্চা করা হয়।
বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও দরুণবালি সবুজ গ্রামের “রাখালবন্ধু কৃষক” সংগঠনের উদ্যোগে দরুণবালি গ্রামে “কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা ও জলবায়ু ন্যায্যতা” শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় উদ্যোগী কৃষক, কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক, শতবাড়ি মডেলের প্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, যুবপ্রতিনিধি, নেত্রকোনা শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,সাংবাদিক উপজেলা সহাকারী কৃষি কর্মকর্তা, চারটি ইউনিয়নের ১০ টি গ্রামের ৩০ জন কৃষক কৃষানি ও বারসিকের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রথমেই কর্মশালার লক্ষ্যউদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেন, বারসিক কর্মসূচী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার লিটা। তারপর দেশের শ্রদ্ধেয় খাদ্যযোদ্ধা কৃষকদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। কাইলাটি, চল্লিশা, আমতলা, মদনপুর ইউনিয়নের ১২ জন প্রবীণ কৃষক কৃষানীর প্রতি যুব ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অসিত সরকার বলেন,“আমি খুবই আনন্দিত যে,আজ দেশের ১২ জন কৃষককে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে পারলাম। আমরা কৃষকদেরকে স্মরণ করিনা। তাদের অবদানের কথা তুলে ধরিনা। কৃষককে সবার আগে সম্মান জানানো উচিত”।
শিক্ষার্থী হাফসা ইসলাম মোহ বলেন,“ আমরা কৃষকের সন্তান,কৃষক খাদ্য উৎপাদন করে বলেই আমরা খেতে পারি। অনেক দুর্যোগ মোকাবেলা করে শস্যফসল উৎপাদন করেন কৃষক।তাদের প্রতি আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আরো বেশী সম্মানের জায়গা তৈরী করা উচিত।”
কর্মশালায় কৃষি, কৃষক, বৈচিত্র্যময় শস্যফসল সুরক্ষা, জৈবিকৃষিচর্চা, কৃষির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক, জলবায়ু ন্যায্যতা,পারিবারিক কৃষি চর্চা, স্থানীয়বীজ সংরক্ষণ,মাটির উর্বরতা, দূষণ প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা জনাব অসিত সরকার ও বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান। আলোচনা, বীজমেলা, বীজবিতরণ ও কৃষকের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্যদিয়ে কর্মশালাটি শেষ হয়।


























