রবিউল হাসান লায়ন, জামালপুর,
জনতারআদালত.কম , ১০ আগষ্ট, ২০১৭ ।

জামালপুর জেলার ইসলামপুর বাসীকে যমুনা নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার্থে স্থানীয় এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এরই প্রেক্ষিতে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি যমুনা নদী শাসনের জন্য যমুনা নদীর বামতীর সংরক্ষণ ও নদীর গভীরতা নিয়ন্ত্রণে ড্রেজিং করতে ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি গত বুধবার একনেক এর সভায় পাশ হয়েছে।
এ খবরে আনন্দিত হয়ে বুধবার সন্ধায় ইসলামপুরের বেলগাছা স্কুল এন্ড বিএম কলেজ প্রাঙ্গণে স্থানীয় এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল এর আহ্বানে এক বিশাল দোওয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী জানান, জামালপুরের ইসলামপুরের গুঠটাইল থেকে কুলকান্দি পর্যন্ত যমুনা নদী শাসন এবং নদীর বামতীর সংরক্ষণ ও নদীর গভীরতা নিয়ন্ত্রণের জন্য সম্প্রতি ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একনেকে প্রেরণ করা হয়েছিল। এ প্রকল্পটি বুধবার একনেকের সভায় পাশ হয়েছে।
এর আগে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা এলাকায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং এর জন্য ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুরুপ আরও একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে। নব কুমার চৌধুরী আরও জানান, ইসলামপুর ও সরিষাবাড়ীর প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮৭ কোটি টাকা। তন্মধ্যে ইসলামপুরের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গুঠটাইল হার্ড পয়েন্ট থেকে কুলকান্দি হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত ৫.৩৫ কিলোমিটার এলাকায় যমুনার বামতীর সরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং ওই এলাকায় নদীর গভীরতা নিয়ন্ত্রণের জন্য নদীর ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

তিনি আরও জানান, ইসলামপুরের প্রকল্পে ৫.৩৫ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণের ব্যয় ধরা হযেছে ২০২ কোটি টাকা এবং ড্রেজিং ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৩ কোটি টাকা। অপরদিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা এলাকার প্রকল্পে ৩.২০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণের ব্যয় ধরা হযেছে ১০৫ কোটি টাকা এবং ড্রেজিং ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি টাকা।
জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল জানান, ইসলামপুরবাসীকে যমুনা নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার্থে তিনি দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি যমুনা নদী শাসনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাবিত ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বুধবার একনেকের সভায় পাশ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইসলামপুরবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্র“তি শতভাগ পূরণের নিমিত্তে ২০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দুইটি সেতু এবং ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইসলামপুর-বেনুয়ারচর, ইসলামপুর-ঝগড়ারচর ও ইসলামপুর-বকশীগঞ্জ সড়ক নির্মান ও পাকা করণের কাজ সুসম্পন্ন হয়েছে। ইসলামপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী পূরণের জন্য ইসলামপুরে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি স্থাপন, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন এবং ইসলামপুরের গুঠাইল ও ডিগ্রীর চরে দুইটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিগত সাড়ে ৮ বছরে ইসলামপুরের ৫৪৭ কিলোমিটার বিদ্যুত সংযোগ প্রদাান করা হয়েছে।
ইসলামপুরের বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য বিগত সাড়ে ৮ বছরে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও অত্যান্ত স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইসলামপুরের ১ হাজার ২০০ বেকার লোককে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী কর্মস্থলে চাকুরী প্রদান করা হয়েছে। ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজকে সরকারী কলেজে উন্নীতকরণসহ ওই কলেজে ১২ বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। ইসলামপুর পৌরসভাকে সি ক্যাটাগরি থেকে বি ক্যাটাগরিতে এবং ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়াও ইসরামপুরের অসংখ্য রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্বশান ঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে।


























