ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ২৮ জুলাই, ২০১৭ ।

রাশিয়ায় নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনই জানাল হোয়াইট হাউজ। আর আমেরিকার এই পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আমেরিকার পদক্ষেপে আদতে জ্বালানি কোম্পানিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে উদ্বিগ্ন জার্মানিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। এর সমুচিত জবাবও দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে শাস্তি দেওয়া ছাড়াও ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলের জন্য রাশিয়াকে আরও সাজার মুখে ফেলা নতুন আইনের লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিল এনে আসলে ট্রাম্প ‘রাশিয়া ইস্যু’ ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলে দিতে চাইছেন। জার্মানিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ আমেরিকার পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ। কারণ, নতুন মার্কিন আইনের কারণে রাশিয়া থেকে গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে কাজ করা কোম্পানিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্রিমিয়া দখলের জন্য রাশিয়ার অনেক কর্তা এবং কোম্পানি ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগে দেশটির ৩৫ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিলেন এবং আমেরিকায় রাশিয়ার দুটি অফিস বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঙ্কার বলেছেন, এই উদ্বেগ সম্পর্কে জানার পরও সেগুলি যথাযথভাবে বিবেচনায় না নেওয়া হলে আমরা কয়েকদিনের মধ্যেই এর সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত আছি। তিনি বলেন, আমেরিকা সবার আগে— এই কথাটির মানে এই নয় যে, ইউরোপের স্বার্থ সবার শেষে থাকবে। তবে ইইউ পালটা কী ব্যবস্থা নেবে সে ব্যাপারে জাঙ্কার কিছু বলেননি।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ মঙ্গলবার মস্কোর উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবে (৪১৯-৩) সর্বসম্মতভাবে ভোট দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়া-আমেরিকা সম্পর্কের দিক থেকে এটি একটি দুঃসংবাদ। নিষেধাজ্ঞার বিল আইনে পরিণত হলে এর জবাব মস্কো কীভাবে দেবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনই তা স্থির করবেন। ওদিকে, রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অতলে নিমজ্জিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে সম্পর্ক উন্নয়নের কোনওরকম আশাই আর থাকছে না। নিষেধাজ্ঞার বিলটিতে এখনও সেনেট এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু সেনেটের বিদেশ সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বব কোরকার বুধবার বলেছেন, বিলটি অতি শিগগিরই আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।


























