spot_img

রাজধানীবাসীর দূর্দশা লাঘবের দায়িত্ব কার ?

জনতারআদালত.কম , ২৮ জুলাই, ২০১৭ ।

 

গত বুধবার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন মূলত ওয়াসার কাজ।   জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে ওয়াসাকে তেমন পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মেয়রের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেন, ” এক সংস্থা আরেক সংস্থাকে দোষারোপ করলে রাজধানীতে জলাবদ্ধতার সমাধান হবে না ” ।

বৃহস্পতিবার ওয়াসা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতার জন্য খাল দখল, নিম্নাঞ্চল উঁচু হয়ে যাওয়া ও অতিবৃষ্টিকে দায়ী করেছেন তিনি ।

মেয়রের এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গতকাল ওয়াসার এমডি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওয়াসার দৈন্য নিয়ে উনি কথা বলেছেন। সম্মান রেখেই বলছি, উনি বলেছেন, অবশ্যই বলবেন; কিন্তু আমি উনার কথার সঙ্গে একমত না। এটা এককথায় একটা ফ্ল্যাট অ্যান্সার। ‘

নর্দমা নির্মাণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ম্যান্ডেট যদি ঢাকা ওয়াসার হয় একমাত্র, তাহলে আপনি কীভাবে ৫০০ কোটি টাকার ড্রেনেজের কাজ করলেন, কোন ম্যান্ডেটের বলে? তাহলে আপনার বক্তব্যই স্ববিরোধী হয়ে গেল না ?

“সোয়াম্প ওয়াটার ড্রেনেজের সিংহভাগই করেছে সিটি কর্পোরেশন। এখনও ৩ হাজার কিলোমিটার পাইপলাইন সিটি কর্পোরেশনের, আর মাত্র ৩৬০ থেকে ৩৭০ কিলোমিটার ঢাকা ওয়াসার। অতএব কার হাত কিসে বেশি ?”

বুধবার সচিবালয়ে ঢাকা পানি সম্মেলন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার জলজট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন , “আমি নিজেই ঢাকায় বসবাস করি। প্রতি ঘণ্টায় যদি ৪০ থেকে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় তাহলে সেটির (নিষ্কাশনের) ড্রেন সিটি করপোরেশনের আছে। এর অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উপর অন্য রকম চাপ পড়ে।

“আর এবারকার চাপটা ছিল অন্যরকম। নদীতে যে পানি নিষ্কাশন করে দেব সে ব্যবস্থাও ছিল না। কারণ নদীর লেভেলও উপরে ছিল। একটা রিস্ক ছিল যদি নদী সংলগ্ন ড্রেন খুলে দিই, তাহলে আরও ব্যাপক দুর্যোগের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা ছিল। পানিটা নিষ্কাশন করতে হয়েছে পাম্প করে।”

এই ‘অস্বাভাবিক বৃষ্টির’ জন্য ‘আসলেই সেরকম প্রস্তুতি ছিল না। অলরেডি প্লানিং কমিশনে পানি নিষ্কাশনে দুইটি প্রজেক্ট জমা আছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি এই প্রজেক্টগুলো পাস করার ব্যবস্থা নেব। প্লানিং কমিশনও এই সমস্যাটা দেখছে। যত দ্রুত সম্ভম এ ব্যাপারটি ড্রিল করব।”

এর আগের দিন রাজধানীর জলাবদ্ধতার নিয়ে মোশাররফ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগামী বছর এই পরিস্থিতি আর দেখতে হবে না , প্রমিজ করলাম ।

ঢাকার জলাবদ্ধতার এমন দুঃসহ অবস্থায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের যাতাকলে পড়ে রাজধানীবাসী চরম দূর্ভোগে দিন-পার করছে ।

জনতার আদালত-এর মাধ্যমে জাতি জানতে চায় ,  ঢাকা নগরবাসীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে কোন সংস্থার দায়িত্ব কতটুকু ?

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ